০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়লেও ইউরোপে কমছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই থেকে নভেম্বর) বাংলাদেশি পোশাকের রপ্তানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও ইউরোপের বড় বাজারে এর প্রবৃদ্ধি সীমিত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার মতো মার্কিন এবং ব্রিটিশ মূল বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা দেখা গেছে, যা দেশের পোশাক রপ্তানির জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) দ্বারা প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে সবকটি বাজারে পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৬.১৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মোটামুটি অপরিবর্তিত, যেখানে ছিল ১৬.১১ বিলিয়ন ডলার।

বিশেষ করে মার্কিন বাজারে রপ্তানি ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩.১৩ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া, কানাডায় রপ্তানি ৬.৫১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কিছুটা টালমাটাল অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। স্পেন, পোল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো কিছু দেশে রপ্তানিতে বৃদ্ধি হলেও, জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও ইতালিতে রপ্তানি কমে গেছে। বিশেষ করে জার্মানিতে রপ্তানি কমে গেছে, যা দেশের বৃহত্তম পোশাক বাজারের জন্য চিন্তার কারণ।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও মেক্সিকোসহ অন্যান্য নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই বাজারগুলোতে মোট রপ্তানি ৩.৩৯ শতাংশ কমে গেছে।

বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে রপ্তানি ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। গত পাঁচ মাসে ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২৯৮ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ মিলিয়ন ডলার কম। অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ শতাংশ, মেক্সিকোতে ১৬ শতাংশ, তুরস্কে ২৫ শতাংশ এবং রাশিয়ায় ২৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতি, সরকারী ও বেসরকারি উদ্যোগের অভাব, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বৈচিত্র্যের অভাবে ও সরকারি প্রণোদনার কমে যাওয়াই এই রপ্তানি কমার প্রধান কারণ।

বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ১৬ শতাংশ যায় নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে, যেখানে প্রায় ১৫টি দেশের উল্লেখযোগ্য বাজার বৈচিত্র্য রয়েছে। মূলত এই বাজারগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপের বাইরে থাকা অন্যান্য দেশগুলোকে ধরা হয়।

এই বাজারে কিছু দেশের মধ্যে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষণীয়— ব্রাজিল, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। এতে করে দেশের পোশাক রপ্তানির ধারাটা কিছুটা স্বস্তিতে ফিরতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকেরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়লেও ইউরোপে কমছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই থেকে নভেম্বর) বাংলাদেশি পোশাকের রপ্তানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও ইউরোপের বড় বাজারে এর প্রবৃদ্ধি সীমিত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার মতো মার্কিন এবং ব্রিটিশ মূল বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা দেখা গেছে, যা দেশের পোশাক রপ্তানির জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) দ্বারা প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে সবকটি বাজারে পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৬.১৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মোটামুটি অপরিবর্তিত, যেখানে ছিল ১৬.১১ বিলিয়ন ডলার।

বিশেষ করে মার্কিন বাজারে রপ্তানি ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩.১৩ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া, কানাডায় রপ্তানি ৬.৫১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কিছুটা টালমাটাল অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। স্পেন, পোল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো কিছু দেশে রপ্তানিতে বৃদ্ধি হলেও, জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও ইতালিতে রপ্তানি কমে গেছে। বিশেষ করে জার্মানিতে রপ্তানি কমে গেছে, যা দেশের বৃহত্তম পোশাক বাজারের জন্য চিন্তার কারণ।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও মেক্সিকোসহ অন্যান্য নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই বাজারগুলোতে মোট রপ্তানি ৩.৩৯ শতাংশ কমে গেছে।

বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে রপ্তানি ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। গত পাঁচ মাসে ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২৯৮ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ মিলিয়ন ডলার কম। অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ শতাংশ, মেক্সিকোতে ১৬ শতাংশ, তুরস্কে ২৫ শতাংশ এবং রাশিয়ায় ২৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতি, সরকারী ও বেসরকারি উদ্যোগের অভাব, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বৈচিত্র্যের অভাবে ও সরকারি প্রণোদনার কমে যাওয়াই এই রপ্তানি কমার প্রধান কারণ।

বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ১৬ শতাংশ যায় নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে, যেখানে প্রায় ১৫টি দেশের উল্লেখযোগ্য বাজার বৈচিত্র্য রয়েছে। মূলত এই বাজারগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপের বাইরে থাকা অন্যান্য দেশগুলোকে ধরা হয়।

এই বাজারে কিছু দেশের মধ্যে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষণীয়— ব্রাজিল, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। এতে করে দেশের পোশাক রপ্তানির ধারাটা কিছুটা স্বস্তিতে ফিরতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকেরা।