০৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়া কঠিন হচ্ছে, ইইউ’র প্রস্তাব অনুমোদন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইনপ্রণেতারা অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নেয়ার ফলে বাংলাদেশিসহ অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য ইউরোপে আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে আসছে। গত বুধবার, ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয় যেখানে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী আইনপ্রণেতাদের সমর্থনে পাস হওয়া এই প্রস্তাবের ফলে, বাংলাদেশসহ কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয়প্রাপ্তির জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।

প্রস্তাবদুটি অনুমোদনের মধ্যে একটি তালিকা তৈরির বিষয়ে যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘নিরাপদ’ দেশের তালিকা প্রকাশ করবে। এই তালিকায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আড়াল হিসেবে কোসোভো, কলম্বিয়া, মিসর, ভারত, মরক্কো ও তিউনিশিয়া রয়েছে। ইউরো নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশের নাগরিক যদি ‘নিরাপদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়, তবে তার আশ্রয় আবেদন মঞ্জুরের প্রক্রিয়া অনেক কঠিন ও জটিল হয়ে যাবে।

অপর প্রস্তাব অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের এখন থেকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যাবে। বিশেষ করে যদি কেউ ‘নিরাপদ’ তালিকাভুক্ত দেশের বংশোদ্ভূত হন, তাহলে তাকে অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশের নিয়ম অনুযায়ী স্থানান্তর করা হতে পারে। এই পদক্ষেপকে চরম ডানপন্থী আইনপ্রণেতা ফ্যাব্রিস লেগেরি শরণার্থী চাপ কমানোর জন্য জরুরি বলে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে, বামপন্থী আইনপ্রণেতা ড্যামিয়েন কারেমে একে ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য ‘বড়দিনের উপহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, কারণ এর ফলে মেলোনির পরিকল্পনা অনুযায়ী আলবেনিয়ায় আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্ভব হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নতুন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, তৃতীয় দেশে আশ্রয়প্রার্থী পাঠানোর ফলে তারা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ইউরোপীয় কমিশন আশ্বাস দিয়েছে যে, যেকোনো দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠানো হলেও, সেখানে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা হবে। উল্লেখ্য, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ১০ লাখ মানুষ আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া হয়। তবে এই নতুন নীতি উপেক্ষা করলে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়া কঠিন হচ্ছে, ইইউ’র প্রস্তাব অনুমোদন

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইনপ্রণেতারা অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নেয়ার ফলে বাংলাদেশিসহ অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য ইউরোপে আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে আসছে। গত বুধবার, ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয় যেখানে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী আইনপ্রণেতাদের সমর্থনে পাস হওয়া এই প্রস্তাবের ফলে, বাংলাদেশসহ কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয়প্রাপ্তির জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।

প্রস্তাবদুটি অনুমোদনের মধ্যে একটি তালিকা তৈরির বিষয়ে যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘নিরাপদ’ দেশের তালিকা প্রকাশ করবে। এই তালিকায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আড়াল হিসেবে কোসোভো, কলম্বিয়া, মিসর, ভারত, মরক্কো ও তিউনিশিয়া রয়েছে। ইউরো নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশের নাগরিক যদি ‘নিরাপদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়, তবে তার আশ্রয় আবেদন মঞ্জুরের প্রক্রিয়া অনেক কঠিন ও জটিল হয়ে যাবে।

অপর প্রস্তাব অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের এখন থেকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যাবে। বিশেষ করে যদি কেউ ‘নিরাপদ’ তালিকাভুক্ত দেশের বংশোদ্ভূত হন, তাহলে তাকে অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশের নিয়ম অনুযায়ী স্থানান্তর করা হতে পারে। এই পদক্ষেপকে চরম ডানপন্থী আইনপ্রণেতা ফ্যাব্রিস লেগেরি শরণার্থী চাপ কমানোর জন্য জরুরি বলে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে, বামপন্থী আইনপ্রণেতা ড্যামিয়েন কারেমে একে ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য ‘বড়দিনের উপহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, কারণ এর ফলে মেলোনির পরিকল্পনা অনুযায়ী আলবেনিয়ায় আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্ভব হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নতুন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, তৃতীয় দেশে আশ্রয়প্রার্থী পাঠানোর ফলে তারা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ইউরোপীয় কমিশন আশ্বাস দিয়েছে যে, যেকোনো দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠানো হলেও, সেখানে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা হবে। উল্লেখ্য, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ১০ লাখ মানুষ আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া হয়। তবে এই নতুন নীতি উপেক্ষা করলে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।