০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নড়াইলের নবগঙ্গা সেতু নির্মাণে ব্যয় বেড়ে ১৩৬ কোটি টাকা

নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুর মূল নির্মাণের খরচ ছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। তবে নকশার জটিলতা ও নির্মাণের জটিলতার কারণে কাজের দেরি হয় এবং প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৬ কোটি টাকা। আশা করা হয়েছিল, দেড় বছরেই এই সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হবে, কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। আট বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, যা নিয়ে নদী পারের বাসিন্দাসহ পথচারীরা গভীর হতাশায় ভুগছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা ও পাশের অন্যান্য জেলাগুলোর সাথে সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে ২০১৮ সালে নবগঙ্গা নদীর ওপর এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৫১.৮৩ মিটার এবং প্রস্থ ১০.২৫ মিটার। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৬৫ কোটি টাকা, এবং কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় মেসার্স জামিল ইকবাল অ্যান্ড মঈনুদ্দীন বাসি কনস্ট্রাকশন ফার্ম।

কাজের ধীর গতি, ও বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর ৯ নম্বর পিলার দুটি বার নদীতে ভেঙে যায়। এর ফলে মূল সেতুর চারটি পায়ার ও তিনটি স্প্যান বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রেখে চুক্তি শেষ করে যান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন দফায় মেয়াদ বাড়ার পাশাপাশি নির্মাণ পরিকল্পনাতেও জটিলতা দেখা দেয়, ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় দফায়, কংক্রিট ও স্টিল প্রযুক্তি কোম্পানি বিষয়ক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাকি নির্মাণ কাজের জন্য দায়িত্ব নেন।

নদী পারের গ্রামের বাসিন্দা হেনরী বলেন, বছর বছর এই সেতুর নির্মাণ কাজ চললেও কবে শেষ হবে জানা নেই। তিনি আরও বলেন, আগে একজন ঠিকাদার কাজ করছিলেন, এখন আর একজনের উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে। কাজের ব্যস্ততা বোঝানো হয়, তবে আসলে চলছিল ঠিকাদার বদলের প্রক্রিয়া, আর এর খরচ আরও বেশি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

কালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী শমসের আলী জানান, জেলা শহর থেকে মালামাল আনা ও বিক্রির জন্য এখন অনেক বেশি খরচ হয় এবং ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, আগে যেমন ব্যবসা করতেন এখন তা আর হতে পারছে না, কারণ কাজ শেষ হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

নড়াইল সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নকশায় ভুলত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে এবং আশা করছেন, এই বছর জুনের মধ্যেই সেতুর নির্মাণ শেষ করে সেটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

নির্মাণের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বিকল্প ওয়ার্কিং বিটের দায়িত্বশীল আব্দুল ওয়াদুদ খান লিটন জানান, নদীর দুপাশে সংযোগ সড়কসহ বাকি ১১টি পায়ার, ১১টি স্প্যান এবং তিনটি স্টিল স্প্যান বসানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি আশা করছেন, চলতি মাসে আরও দুটি স্প্যান বসানো সম্পন্ন হবে এবং দ্রুততম সময়ে মূল আর্চ স্প্যানটি বসানো সম্ভব হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

নড়াইলের নবগঙ্গা সেতু নির্মাণে ব্যয় বেড়ে ১৩৬ কোটি টাকা

প্রকাশিতঃ ১১:৫১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুর মূল নির্মাণের খরচ ছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। তবে নকশার জটিলতা ও নির্মাণের জটিলতার কারণে কাজের দেরি হয় এবং প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৬ কোটি টাকা। আশা করা হয়েছিল, দেড় বছরেই এই সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হবে, কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। আট বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, যা নিয়ে নদী পারের বাসিন্দাসহ পথচারীরা গভীর হতাশায় ভুগছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা ও পাশের অন্যান্য জেলাগুলোর সাথে সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে ২০১৮ সালে নবগঙ্গা নদীর ওপর এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৫১.৮৩ মিটার এবং প্রস্থ ১০.২৫ মিটার। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৬৫ কোটি টাকা, এবং কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় মেসার্স জামিল ইকবাল অ্যান্ড মঈনুদ্দীন বাসি কনস্ট্রাকশন ফার্ম।

কাজের ধীর গতি, ও বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর ৯ নম্বর পিলার দুটি বার নদীতে ভেঙে যায়। এর ফলে মূল সেতুর চারটি পায়ার ও তিনটি স্প্যান বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রেখে চুক্তি শেষ করে যান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন দফায় মেয়াদ বাড়ার পাশাপাশি নির্মাণ পরিকল্পনাতেও জটিলতা দেখা দেয়, ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় দফায়, কংক্রিট ও স্টিল প্রযুক্তি কোম্পানি বিষয়ক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাকি নির্মাণ কাজের জন্য দায়িত্ব নেন।

নদী পারের গ্রামের বাসিন্দা হেনরী বলেন, বছর বছর এই সেতুর নির্মাণ কাজ চললেও কবে শেষ হবে জানা নেই। তিনি আরও বলেন, আগে একজন ঠিকাদার কাজ করছিলেন, এখন আর একজনের উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে। কাজের ব্যস্ততা বোঝানো হয়, তবে আসলে চলছিল ঠিকাদার বদলের প্রক্রিয়া, আর এর খরচ আরও বেশি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

কালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী শমসের আলী জানান, জেলা শহর থেকে মালামাল আনা ও বিক্রির জন্য এখন অনেক বেশি খরচ হয় এবং ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, আগে যেমন ব্যবসা করতেন এখন তা আর হতে পারছে না, কারণ কাজ শেষ হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

নড়াইল সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নকশায় ভুলত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে এবং আশা করছেন, এই বছর জুনের মধ্যেই সেতুর নির্মাণ শেষ করে সেটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

নির্মাণের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বিকল্প ওয়ার্কিং বিটের দায়িত্বশীল আব্দুল ওয়াদুদ খান লিটন জানান, নদীর দুপাশে সংযোগ সড়কসহ বাকি ১১টি পায়ার, ১১টি স্প্যান এবং তিনটি স্টিল স্প্যান বসানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি আশা করছেন, চলতি মাসে আরও দুটি স্প্যান বসানো সম্পন্ন হবে এবং দ্রুততম সময়ে মূল আর্চ স্প্যানটি বসানো সম্ভব হবে।