১০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের ক্ষোভ

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়, পাশাপাশি ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের উদ্দেশ্যে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে ‘মব’ বা জনতার হটপ্রেস হামলা খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা। জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞের ভাষায়, এসব হামলা খুবই দুঃখজনক এবং এগুলোর অবশ্যই দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের স্বনামধন্য তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর দেশের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু হয়। ওই সময় ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়সহ ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপরও হামলা হয়, যা দেশের সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবর্গের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

আইরিন খান বলেন, ‘আমি একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তার মৃত্যু ঘিরে যে সহিংসতা ও হামলা চলেছে, তার জন্যও আমি কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনরোষকে ব্যবহার করে সাংবাদিক ও শিল্পীদের ওপর হামলা বা পরিকল্পিত আক্রমণ খুবই বিপজ্জনক বিষয়, বিশেষ করে যখন দেশ নির্বাচনমুখী। এর ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর ও ভিন্নমত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক আঘাত।’

আইরিন খান বলেন, ‘এসব হত্যাকাণ্ড ও হামলার পেছনে মূল কারণ হলো বিচারহীনতা ও সরকারের দূর্বলতা। অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অনলাইন ও অফলাইন গণমাধ্যমের চাপে রেখেছে। অনেক সাংবাদিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেপ্তার, হুমকি ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে। সম্প্রতি ঘটেছে বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড, যা চাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।’ তিনি জানান, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রাণবন্ততা হুমকির মুখে পড়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের ক্ষোভ

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়, পাশাপাশি ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের উদ্দেশ্যে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে ‘মব’ বা জনতার হটপ্রেস হামলা খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা। জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞের ভাষায়, এসব হামলা খুবই দুঃখজনক এবং এগুলোর অবশ্যই দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের স্বনামধন্য তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর দেশের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু হয়। ওই সময় ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়সহ ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপরও হামলা হয়, যা দেশের সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবর্গের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

আইরিন খান বলেন, ‘আমি একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তার মৃত্যু ঘিরে যে সহিংসতা ও হামলা চলেছে, তার জন্যও আমি কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনরোষকে ব্যবহার করে সাংবাদিক ও শিল্পীদের ওপর হামলা বা পরিকল্পিত আক্রমণ খুবই বিপজ্জনক বিষয়, বিশেষ করে যখন দেশ নির্বাচনমুখী। এর ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর ও ভিন্নমত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক আঘাত।’

আইরিন খান বলেন, ‘এসব হত্যাকাণ্ড ও হামলার পেছনে মূল কারণ হলো বিচারহীনতা ও সরকারের দূর্বলতা। অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অনলাইন ও অফলাইন গণমাধ্যমের চাপে রেখেছে। অনেক সাংবাদিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেপ্তার, হুমকি ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে। সম্প্রতি ঘটেছে বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড, যা চাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।’ তিনি জানান, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রাণবন্ততা হুমকির মুখে পড়েছে।