১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

তাইওয়ানের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার অঙ্গীকার চীনের মুখে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি

চীন ব্যাপক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান তৎপরতার মধ্যে তাইওয়ান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিরক্ষার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিনি নিজের নববর্ষের ভাষণে এই স্পষ্ট বার্তা দেন। চীনের সাম্প্রতিক বড় ধরনের সামরিক মহড়ার জেরে রকেট নিক্ষেপ ও আকাশে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েনের পর, লাই বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নিশ্চিত জানতে চাচ্ছে—তাইওয়ানের জনগণের নিজস্ব রক্ষা ও প্রতির қорға নিজস্ব সক্ষমতা কতটা শক্তিশালী। তিনি বলেন, আমি সব সময় স্পষ্ট বলে আসছি—জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করাই আমাদের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট ৪০ বিলিয়ন ডলার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন, যা এখন বিরোধী দলের বিরোধিতার কারণে আটকে আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, ২০২৭ সালের মধ্যে চীন সম্ভবত তাইওয়ান দখলের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। তবে লাই বলেছেন, ২০২৬ সাল হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছর তাইওয়ানের জন্য। তিনি বলছেন, আমাদের সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে সর্বোচ্চ সাফল্য ও উন্নতির জন্য আশাও রাখতে হবে। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে লাই উল্লেখ করেছেন, সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনায় বসে বেইজিংয়ের সাথে সংলাপ ও সহযোগিতা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। তবে শর্ত একটাই—চীনকে যেন তাইওয়ানের অস্তিত্ব স্বীকার করতে হয় এবং তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক জীবনধারা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানাতে হবে। যদিও তাইওয়ান একটি গণতান্ত্রিক সত্তা, চীন এটিকে নিজের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকি দেয়। এই দাবির প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইওয়ান। প্রেসিডেন্টের ভাষণের পর চীনের কর্তৃপক্ষ এক কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের একজন মুখপাত্র গণমাধ্যমকে বলে, লাই চিং-তের বক্তব্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক দরবারে ভুল তথ্য দিচ্ছেন। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, লাইয়ের বক্তব্য মিথ্যা, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং শত্রুতা ও বিদ্বেষের প্রকাশ। এই ভাষণ আসে চলমান ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে চীনের বৃহৎ সামরিক মহড়ার দুদিন পর, যেখানে চীন কয়েক ডজন রকেট নিক্ষেপ করে ও দ্বীপের আশপাশে ব্যাপক সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন করে। এতে ইউরোপীয় কমিশন ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাইপে এই মহড়াকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও উসকানি হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং বুধবার রাতের দিকে জানিয়েছে, মহড়া শেষ হয়েছে, তবে চীন আরও শক্তিশালীভাবে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন বছরের ভাষণে বলেছেন, তাইওয়ানের সাথে চীনের ‘পুনঃএকত্রীকরণ’ কোনও ভাবেই রোধ করা সম্ভব নয়। তিনি কৌশলগত অঙ্গীকারে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তারা একীভূত করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাতৃভূমিকে একত্রিত করার কাজ এখন সময়ের দাবী, যা কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’ রাষ্ট্রীয়ভাবে দাবি করে, চীনের উদ্দেশ্য তারা এর মধ্যে দ্বীপটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়। দক্ষিণ চীন সাগরও চীনের দাবি, যেখানে দেশের অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি দেখা যায়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি উদ্বিগ্ন, কারণ শি জিনপিংয়ের মুখে সামরিক হামলার সংকেত রয়েছে। সম্প্রতি তারা ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে বড় সামরিক মহড়া চালায়, যেখানে প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান ও কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছিল। এই মহড়ার সময়ে ২৭টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি তা‌ইওয়ানের উপকূলে ২৭ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে আঘাত হানে। মহড়া শেষ হলেও, এখনো তাইওয়ান উচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে, কারণ দ্বীপের চারপাশে এখনও চীনের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ২৫টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে এবং বেশ কয়েকটি নজরদারি উড়ান চালানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক মহড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির জবাবে চালানো হয়েছে। তাইওয়ানের দাবি, মহড়া চলাকালে অন্তত ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যার বেশ কয়েকটি উপকূলের কাছাকাছি আঘাত হানে। বর্তমানে, তাইওয়ান সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, কারণ চীনের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি তা‌ইওয়ানের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে তুলছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

তাইওয়ানের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার অঙ্গীকার চীনের মুখে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি

প্রকাশিতঃ ১১:৫৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

চীন ব্যাপক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান তৎপরতার মধ্যে তাইওয়ান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিরক্ষার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিনি নিজের নববর্ষের ভাষণে এই স্পষ্ট বার্তা দেন। চীনের সাম্প্রতিক বড় ধরনের সামরিক মহড়ার জেরে রকেট নিক্ষেপ ও আকাশে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েনের পর, লাই বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নিশ্চিত জানতে চাচ্ছে—তাইওয়ানের জনগণের নিজস্ব রক্ষা ও প্রতির қорға নিজস্ব সক্ষমতা কতটা শক্তিশালী। তিনি বলেন, আমি সব সময় স্পষ্ট বলে আসছি—জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করাই আমাদের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট ৪০ বিলিয়ন ডলার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন, যা এখন বিরোধী দলের বিরোধিতার কারণে আটকে আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, ২০২৭ সালের মধ্যে চীন সম্ভবত তাইওয়ান দখলের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। তবে লাই বলেছেন, ২০২৬ সাল হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছর তাইওয়ানের জন্য। তিনি বলছেন, আমাদের সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে সর্বোচ্চ সাফল্য ও উন্নতির জন্য আশাও রাখতে হবে। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে লাই উল্লেখ করেছেন, সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনায় বসে বেইজিংয়ের সাথে সংলাপ ও সহযোগিতা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। তবে শর্ত একটাই—চীনকে যেন তাইওয়ানের অস্তিত্ব স্বীকার করতে হয় এবং তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক জীবনধারা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানাতে হবে। যদিও তাইওয়ান একটি গণতান্ত্রিক সত্তা, চীন এটিকে নিজের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকি দেয়। এই দাবির প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইওয়ান। প্রেসিডেন্টের ভাষণের পর চীনের কর্তৃপক্ষ এক কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের একজন মুখপাত্র গণমাধ্যমকে বলে, লাই চিং-তের বক্তব্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক দরবারে ভুল তথ্য দিচ্ছেন। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, লাইয়ের বক্তব্য মিথ্যা, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং শত্রুতা ও বিদ্বেষের প্রকাশ। এই ভাষণ আসে চলমান ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে চীনের বৃহৎ সামরিক মহড়ার দুদিন পর, যেখানে চীন কয়েক ডজন রকেট নিক্ষেপ করে ও দ্বীপের আশপাশে ব্যাপক সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন করে। এতে ইউরোপীয় কমিশন ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাইপে এই মহড়াকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও উসকানি হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং বুধবার রাতের দিকে জানিয়েছে, মহড়া শেষ হয়েছে, তবে চীন আরও শক্তিশালীভাবে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন বছরের ভাষণে বলেছেন, তাইওয়ানের সাথে চীনের ‘পুনঃএকত্রীকরণ’ কোনও ভাবেই রোধ করা সম্ভব নয়। তিনি কৌশলগত অঙ্গীকারে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তারা একীভূত করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাতৃভূমিকে একত্রিত করার কাজ এখন সময়ের দাবী, যা কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’ রাষ্ট্রীয়ভাবে দাবি করে, চীনের উদ্দেশ্য তারা এর মধ্যে দ্বীপটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়। দক্ষিণ চীন সাগরও চীনের দাবি, যেখানে দেশের অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি দেখা যায়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি উদ্বিগ্ন, কারণ শি জিনপিংয়ের মুখে সামরিক হামলার সংকেত রয়েছে। সম্প্রতি তারা ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে বড় সামরিক মহড়া চালায়, যেখানে প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান ও কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছিল। এই মহড়ার সময়ে ২৭টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি তা‌ইওয়ানের উপকূলে ২৭ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে আঘাত হানে। মহড়া শেষ হলেও, এখনো তাইওয়ান উচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে, কারণ দ্বীপের চারপাশে এখনও চীনের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ২৫টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে এবং বেশ কয়েকটি নজরদারি উড়ান চালানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক মহড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির জবাবে চালানো হয়েছে। তাইওয়ানের দাবি, মহড়া চলাকালে অন্তত ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যার বেশ কয়েকটি উপকূলের কাছাকাছি আঘাত হানে। বর্তমানে, তাইওয়ান সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, কারণ চীনের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি তা‌ইওয়ানের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে তুলছে।