০৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

১৭ মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় ১২ হাজার ৬৯৪ নিহত

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশে বিভিন্ন বাহনে ঘটে যাওয়া সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩, dhow407 জন নিহত হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অধিকাংশ মানুষ, যার সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। বিশেষ করে, শুধু সড়ক দুর্ঘটনাই মারাত্মক আকারে বেড়েছে, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ হাজার ৬৯৪ জন।

সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যেখানে ঘটেছে ৫৭,৭৯৬টি দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। বিশেষ করে, সড়কপথে চলাচলের জন্য অবৈধভাবে চালানো প্রায় ২ লাখ মোটরসাইকেল ও ৫ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঢাকা সহ সারাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যেখানে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৩৮ জন ও আহত ১৩ হাজার ৮৩২ জন। এছাড়াও, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন, করিমন ও পিকআপসহ উল্টোপথে চলা যানবাহনের ২১,৬৩১টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৬৪৮ জন নিহত এবং ২৩ হাজার ৬০৩ জন আহত হয়েছেন।

বাস ও ভারী যানবাহনের ব্যাপক ব্যবহার ও অপপ্রচলনেও প্রাণহানি বেড়েছে। ট্রাফিক আইন না মানা, অনিয়মের কারণে গত ১৭ মাসে ১২ হাজার ৭৪৬ বাস দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৭৮৪ জন নিহত ও ১১ হাজার ৬৯৭ জন আহত। ট্রাক ও লরি সহ ভারী যানবাহনের দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬২৪ জন, আহত ৯ হাজার ৩৫৯ জন। বেশিরভাগই পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

রেল, নৌ ও আকাশপথের অবস্থা আরও ভয়াবহ। নৌপথে ১৭ মাসে ২ হাজার ৫২টি দুর্ঘটনায় ১৮৭ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৪ জন এবং নিখোঁজ ৪৬ জন। রেলপথে ১ হাজার ১০৬ দুর্ঘটনায় এই সময়ে নিহত ৪৯২ ও আহত ১ হাজার ৭৬। এদিকে, আকাশপথে একটি দুর্ঘটনায় ৩৬জন নিহত ও ১৭২জন আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি বিমানবন্দরে কর্মরতদের হয়রানি এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে, যেখানে ১৭ জন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এছাড়াও, ১৭ মাসে এসব পথে ৪১১টি ডাকাতি সংঘটিত হয়, যার ফলে ২৫৭ জন আহত ও দুজন নিহত হন। নারীদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে ৮২৫টি, ধর্ষণের ঘটনায় ১৫টি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা ১৭ হাজার ৪১২টির বেশি। নৌপথেও দায়িত্ব অবহেলার কারণে ২১৬টি ডাকাতির ঘটনায় আহত ১৮৮ জন ও একজন নিহত হন।

সেভ দ্য রোড সংগঠনটি দীর্ঘদিনের ৭ দফা দাবি পুনঃপ্রকাশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে — দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস ঘোষণা, সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে চলাচলের নিয়ম পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত, তিন কিলোমিটরে পুলিশ বুথ স্থাপন, নিহতদের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিষিদ্ধ।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান, প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী এবং মহাসচিব শান্তা ফারজানা এর সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষণা সেলে কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিক, জনমত ব্যক্তিত্ব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এটি সরকারের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগের জন্য একটি জরুরি চেতনা সৃষ্টি করতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

১৭ মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় ১২ হাজার ৬৯৪ নিহত

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশে বিভিন্ন বাহনে ঘটে যাওয়া সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩, dhow407 জন নিহত হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অধিকাংশ মানুষ, যার সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। বিশেষ করে, শুধু সড়ক দুর্ঘটনাই মারাত্মক আকারে বেড়েছে, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ হাজার ৬৯৪ জন।

সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যেখানে ঘটেছে ৫৭,৭৯৬টি দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। বিশেষ করে, সড়কপথে চলাচলের জন্য অবৈধভাবে চালানো প্রায় ২ লাখ মোটরসাইকেল ও ৫ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঢাকা সহ সারাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যেখানে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৩৮ জন ও আহত ১৩ হাজার ৮৩২ জন। এছাড়াও, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন, করিমন ও পিকআপসহ উল্টোপথে চলা যানবাহনের ২১,৬৩১টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৬৪৮ জন নিহত এবং ২৩ হাজার ৬০৩ জন আহত হয়েছেন।

বাস ও ভারী যানবাহনের ব্যাপক ব্যবহার ও অপপ্রচলনেও প্রাণহানি বেড়েছে। ট্রাফিক আইন না মানা, অনিয়মের কারণে গত ১৭ মাসে ১২ হাজার ৭৪৬ বাস দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৭৮৪ জন নিহত ও ১১ হাজার ৬৯৭ জন আহত। ট্রাক ও লরি সহ ভারী যানবাহনের দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬২৪ জন, আহত ৯ হাজার ৩৫৯ জন। বেশিরভাগই পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

রেল, নৌ ও আকাশপথের অবস্থা আরও ভয়াবহ। নৌপথে ১৭ মাসে ২ হাজার ৫২টি দুর্ঘটনায় ১৮৭ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৪ জন এবং নিখোঁজ ৪৬ জন। রেলপথে ১ হাজার ১০৬ দুর্ঘটনায় এই সময়ে নিহত ৪৯২ ও আহত ১ হাজার ৭৬। এদিকে, আকাশপথে একটি দুর্ঘটনায় ৩৬জন নিহত ও ১৭২জন আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি বিমানবন্দরে কর্মরতদের হয়রানি এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে, যেখানে ১৭ জন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এছাড়াও, ১৭ মাসে এসব পথে ৪১১টি ডাকাতি সংঘটিত হয়, যার ফলে ২৫৭ জন আহত ও দুজন নিহত হন। নারীদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে ৮২৫টি, ধর্ষণের ঘটনায় ১৫টি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা ১৭ হাজার ৪১২টির বেশি। নৌপথেও দায়িত্ব অবহেলার কারণে ২১৬টি ডাকাতির ঘটনায় আহত ১৮৮ জন ও একজন নিহত হন।

সেভ দ্য রোড সংগঠনটি দীর্ঘদিনের ৭ দফা দাবি পুনঃপ্রকাশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে — দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস ঘোষণা, সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে চলাচলের নিয়ম পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত, তিন কিলোমিটরে পুলিশ বুথ স্থাপন, নিহতদের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিষিদ্ধ।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান, প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী এবং মহাসচিব শান্তা ফারজানা এর সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষণা সেলে কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিক, জনমত ব্যক্তিত্ব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এটি সরকারের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগের জন্য একটি জরুরি চেতনা সৃষ্টি করতে পারে।