০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

ট্রাম্পের মন্তব্য: আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাদের আন্তর্জাতিক আইনের কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আমি মানুষকে আঘাত করতে চাই না, তবে আন্তর্জাতিক আইন মানা প্রয়োজন কিনা, তা নির্ভর করে আপনি কীভাবে সংজ্ঞা দেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মার্কিন একটি সংবাদমাধ্যমে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন, খবর আলজাজ্জিরা উল্লেখ করে।

প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, তিনি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে মানানোর চেষ্টা করেন। তবে বলেন, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনি কীভাবে এর সংজ্ঞা দেন। ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে শক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দেন।

গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোতে। মার্কিন সেনারা সেখানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর উপর আঘাত হানা এবং তাদের অবৈধভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচিত হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরণের হামলা জাতিসংঘের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধের মনোভাব আরও প্রকাশ পায় বলে মনে করা হয়, যা তার আন্তর্জাতিক নীতিতে বলিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। এর আগে, তিনি ফিফা শান্তি পুরস্কার পান।

অভিযানের পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডার দখল করবে এবং দেশকে নিজেদের প্রভাবশালী করতে কাজ করবে। তারা জানান, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।

রোববার ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাটলান্টিকে বলেন, বন্দোবস্ত না করলে রদ্রিগেজকে বড় মূল্য দিতে হবে, যা হয়তো মাদুরোর চেয়েও বেশি হবে।

এছাড়াও, তিনি বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর বিরুদ্ধেও হামলার পরিকল্পনা আছে। এর সঙ্গে সঙ্গে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের ব্যাপারে তিনি তৎপর হয়েছেন।

জুন মাসে, ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে যোগ দেন, যেখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের অবজ্ঞা বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন দেশগুলোর সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী, যাতে জাতিসংঘের চুক্তি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির উল্লেখ আছে।

আন্তর্জাতিক বিচার ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের দূত মার্গারেট স্যাটার্থোয়েট আলজাজিরাকে বলেন, এখনকার পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের উপেক্ষা খুবই বিপদজনক। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব আবার প্রজত্তাদর্শের যুগে ফিরে যাচ্ছে। যদি দেশগুলো এই আইনের উপেক্ষা করে, তবে তা তাদের নিজস্ব ক্ষতি করবে, আর অন্য দেশের ওপর আঘাত হানতে উৎসাহ দেবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন নয়, সাহসের উপর ভিত্তি করে দেশগুলো কাজ করতে চাইলে বিপদের মুখে পড়তে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

ট্রাম্পের মন্তব্য: আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাদের আন্তর্জাতিক আইনের কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আমি মানুষকে আঘাত করতে চাই না, তবে আন্তর্জাতিক আইন মানা প্রয়োজন কিনা, তা নির্ভর করে আপনি কীভাবে সংজ্ঞা দেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মার্কিন একটি সংবাদমাধ্যমে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন, খবর আলজাজ্জিরা উল্লেখ করে।

প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, তিনি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে মানানোর চেষ্টা করেন। তবে বলেন, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনি কীভাবে এর সংজ্ঞা দেন। ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে শক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দেন।

গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোতে। মার্কিন সেনারা সেখানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর উপর আঘাত হানা এবং তাদের অবৈধভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচিত হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরণের হামলা জাতিসংঘের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধের মনোভাব আরও প্রকাশ পায় বলে মনে করা হয়, যা তার আন্তর্জাতিক নীতিতে বলিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। এর আগে, তিনি ফিফা শান্তি পুরস্কার পান।

অভিযানের পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডার দখল করবে এবং দেশকে নিজেদের প্রভাবশালী করতে কাজ করবে। তারা জানান, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।

রোববার ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাটলান্টিকে বলেন, বন্দোবস্ত না করলে রদ্রিগেজকে বড় মূল্য দিতে হবে, যা হয়তো মাদুরোর চেয়েও বেশি হবে।

এছাড়াও, তিনি বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর বিরুদ্ধেও হামলার পরিকল্পনা আছে। এর সঙ্গে সঙ্গে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের ব্যাপারে তিনি তৎপর হয়েছেন।

জুন মাসে, ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে যোগ দেন, যেখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের অবজ্ঞা বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন দেশগুলোর সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী, যাতে জাতিসংঘের চুক্তি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির উল্লেখ আছে।

আন্তর্জাতিক বিচার ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের দূত মার্গারেট স্যাটার্থোয়েট আলজাজিরাকে বলেন, এখনকার পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের উপেক্ষা খুবই বিপদজনক। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব আবার প্রজত্তাদর্শের যুগে ফিরে যাচ্ছে। যদি দেশগুলো এই আইনের উপেক্ষা করে, তবে তা তাদের নিজস্ব ক্ষতি করবে, আর অন্য দেশের ওপর আঘাত হানতে উৎসাহ দেবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন নয়, সাহসের উপর ভিত্তি করে দেশগুলো কাজ করতে চাইলে বিপদের মুখে পড়তে পারে।