০৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

এলপিজি সংকটে পরিবহন খাতে মারাত্মক বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ

দেশজুড়ে চলমান এলপি গ্যাসের গুরুতর সংকটের কারণে পরিবহন খাত উল্লেখযোগ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এই সংকটটি দীর্ঘস্থায়ী হলে যাত্রীসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সমগ্র অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব অবসান হবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তাঁরা।

সিরাজুল মাওলা বলেন, এলপিজি অটোগ্যাস পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী জ্বালানি। এটি দীর্ঘদিন ধরেই সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিগত সরকারের উৎসাহে সারাদেশের ৬৪ জেলায় মোট প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে, যা দিয়ে দেড় লাখের বেশি যানবাহন চালিত হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্টেশন মালিক, এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

সিরাজুল মাওলা আরও জানান, দেশে মাসে গড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর মধ্যে যানবাহন খাতে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। এই সামান্য পরিমাণ গ্যাসের যোগান নিশ্চিত না থাকায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথমত, एलপিজি সরবরাহকারী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠন যেন অটোগ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। দ্বিতীয়ত, এলপিজির আমদানিতে কোনও জটিলতা থাকলে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ সে বিষয় দ্রুত সমাধান করে গাড়িচালকদের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ চালু করেন। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে এলপিজি সরবরাহের কোনো বিঘ্ন না ঘটবে, সে জন্য কার্যকর ও আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

এলপিজি সংকটে পরিবহন খাতে মারাত্মক বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান এলপি গ্যাসের গুরুতর সংকটের কারণে পরিবহন খাত উল্লেখযোগ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এই সংকটটি দীর্ঘস্থায়ী হলে যাত্রীসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সমগ্র অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব অবসান হবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তাঁরা।

সিরাজুল মাওলা বলেন, এলপিজি অটোগ্যাস পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী জ্বালানি। এটি দীর্ঘদিন ধরেই সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিগত সরকারের উৎসাহে সারাদেশের ৬৪ জেলায় মোট প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে, যা দিয়ে দেড় লাখের বেশি যানবাহন চালিত হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্টেশন মালিক, এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

সিরাজুল মাওলা আরও জানান, দেশে মাসে গড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর মধ্যে যানবাহন খাতে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। এই সামান্য পরিমাণ গ্যাসের যোগান নিশ্চিত না থাকায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথমত, एलপিজি সরবরাহকারী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠন যেন অটোগ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। দ্বিতীয়ত, এলপিজির আমদানিতে কোনও জটিলতা থাকলে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ সে বিষয় দ্রুত সমাধান করে গাড়িচালকদের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ চালু করেন। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে এলপিজি সরবরাহের কোনো বিঘ্ন না ঘটবে, সে জন্য কার্যকর ও আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা।