১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

নবীনগরে প্রবাস ফেরত সাজিদের কৃষি সফলতা, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ তার কঠোর পরিশ্রম ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করেছেন। গল্পটি কেবল একজন কৃষকের সফলতার কাহিনীই নয়, এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণাদায়ক উদাহরণ। অসংখ্য তরুণের মতো প্রবাস জীবন কাটানোর পরে নিজ গ্রামের দিকে ফিরে আসা সাজিদ প্রথমে অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষি শুরু করেন। তবে তার এই উদ্যোগ আলাদাভাবে সফল হতে পারে শুধুমাত্র আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারে, এ জন্য তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তা নেন। মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি। কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং সহায়তা পান, পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এর ফলে খরচ কমে আসে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। চলমান কাজের দেখায়, এখনো জমির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল, যেখানে ৪০ শতাংশ জমিতে করলার চাষ চালু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৬০০ কেজি করলা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা কেজি প্রতি ৬০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে এ ধরনের করলার ব্যাবসায় লাভের পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে এক থেকে দেড় টন করলার বিক্রি সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রবাস থেকে ফিরে আমি মনে করেছি, কৃষিকেই বাংলাদেশের জন্য এক নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।’’ ভবিষ্যত পরিকল্পনায় থাকছে আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান মন্তব্য করেন, সাজিদের รับদান কৃষি কার্যক্রম স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ও তার আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা আনা ছাড়াও কিছু যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সফলতা প্রমাণ করে যে, পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষি পেশা লাভজনক ও টেকসই সম্ভব। এটি প্রমাণ করে যে, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য কৃষিই হতে পারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার মাধ্যম।” সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দেশের তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার ঝরনা, যা দেখাচ্ছে দেশের কৃষি খাতে নতুন কিছু সম্ভব হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

নবীনগরে প্রবাস ফেরত সাজিদের কৃষি সফলতা, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা

প্রকাশিতঃ ১১:৫১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ তার কঠোর পরিশ্রম ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করেছেন। গল্পটি কেবল একজন কৃষকের সফলতার কাহিনীই নয়, এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণাদায়ক উদাহরণ। অসংখ্য তরুণের মতো প্রবাস জীবন কাটানোর পরে নিজ গ্রামের দিকে ফিরে আসা সাজিদ প্রথমে অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষি শুরু করেন। তবে তার এই উদ্যোগ আলাদাভাবে সফল হতে পারে শুধুমাত্র আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারে, এ জন্য তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তা নেন। মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি। কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং সহায়তা পান, পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এর ফলে খরচ কমে আসে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। চলমান কাজের দেখায়, এখনো জমির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল, যেখানে ৪০ শতাংশ জমিতে করলার চাষ চালু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৬০০ কেজি করলা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা কেজি প্রতি ৬০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে এ ধরনের করলার ব্যাবসায় লাভের পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে এক থেকে দেড় টন করলার বিক্রি সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রবাস থেকে ফিরে আমি মনে করেছি, কৃষিকেই বাংলাদেশের জন্য এক নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।’’ ভবিষ্যত পরিকল্পনায় থাকছে আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান মন্তব্য করেন, সাজিদের รับদান কৃষি কার্যক্রম স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ও তার আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা আনা ছাড়াও কিছু যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সফলতা প্রমাণ করে যে, পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষি পেশা লাভজনক ও টেকসই সম্ভব। এটি প্রমাণ করে যে, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য কৃষিই হতে পারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার মাধ্যম।” সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দেশের তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার ঝরনা, যা দেখাচ্ছে দেশের কৃষি খাতে নতুন কিছু সম্ভব হতে পারে।