১১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও উত্তরা পশ্চিম থানার বিভিন্ন এলাকায় চলমান এক সপ্তাহের ব্যাপক অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সাইবার ইউনিট পাঁচ চীনা নাগরিকসহ মোট আটজন প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫১ হাজারের বেশি সিম কার্ড, ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য অবৈধ সরঞ্জাম। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চ্যাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, বাংলাদেশের মো. জাকারিয়া, নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়। মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপি সাইবার বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।

তিনি বলেন, ডিএমপি সাইবার ও স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অপরাধ তদন্তকারী দল ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে তথ্যানুসন্ধানের সময় ঢাকায় কাজ করছে এমন একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্র চিহ্নিত হয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৫১ হাজার ৬৭টি সিম কার্ড, চারটি মোবাইল ফোন, দুটি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

তারপর, গত সোমবার উত্তরা থেকে পাঁচ চীনা নাগরিকসহ আরও এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে, ৪৭টি মোবাইল ফোন, ১৮৪টি সিম কার্ড ও পাঁচটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

ডিসি মোহাম্মদ নাসের জানান, এই চক্রটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন চলমান টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য গ্রুপ ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, লাভজনক বিনিয়োগের প্রলোভন, কম দামের পণ্য ও ঘরে বসে কাজের অজুহাতে মানুষকে প্রতারিত করত।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রতারক চক্রটি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ পরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে, এবং ভিওআইপি গেটওয়ে মেশিনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করত।

চীনা নাগরিকদের বাংলাদেশের আসার পরিস্থিতি ও ভিসার বিষয়েও তদন্ত চলছে, জানিয়েছেন ডিসি। তাদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য ডকুমেন্ট যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা ডিভাইসগুলোতে চীনা সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার আরও জানান, নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয়কে ইতিমধ্যেই আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং বাকিরা বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও উত্তরা পশ্চিম থানার বিভিন্ন এলাকায় চলমান এক সপ্তাহের ব্যাপক অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সাইবার ইউনিট পাঁচ চীনা নাগরিকসহ মোট আটজন প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫১ হাজারের বেশি সিম কার্ড, ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য অবৈধ সরঞ্জাম। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চ্যাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, বাংলাদেশের মো. জাকারিয়া, নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়। মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপি সাইবার বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।

তিনি বলেন, ডিএমপি সাইবার ও স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অপরাধ তদন্তকারী দল ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে তথ্যানুসন্ধানের সময় ঢাকায় কাজ করছে এমন একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্র চিহ্নিত হয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৫১ হাজার ৬৭টি সিম কার্ড, চারটি মোবাইল ফোন, দুটি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

তারপর, গত সোমবার উত্তরা থেকে পাঁচ চীনা নাগরিকসহ আরও এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে, ৪৭টি মোবাইল ফোন, ১৮৪টি সিম কার্ড ও পাঁচটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

ডিসি মোহাম্মদ নাসের জানান, এই চক্রটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন চলমান টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য গ্রুপ ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, লাভজনক বিনিয়োগের প্রলোভন, কম দামের পণ্য ও ঘরে বসে কাজের অজুহাতে মানুষকে প্রতারিত করত।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রতারক চক্রটি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ পরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে, এবং ভিওআইপি গেটওয়ে মেশিনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করত।

চীনা নাগরিকদের বাংলাদেশের আসার পরিস্থিতি ও ভিসার বিষয়েও তদন্ত চলছে, জানিয়েছেন ডিসি। তাদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য ডকুমেন্ট যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা ডিভাইসগুলোতে চীনা সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার আরও জানান, নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয়কে ইতিমধ্যেই আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং বাকিরা বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।