০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য শেখার উন্মাদনা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় শিক্ষা উপকরণের স্টলে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মেলার সময় যত এগিয়ে যাচ্ছে, ততই শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীরা এই স্টলে বেশি আসছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সহজেই কারো সহায়তা না নিয়েই বিজ্ঞানবাক্সের মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের এক্সপেরিমেন্টগুলো অনুসন্ধান, গবেষণা এবং তথ্য পরীক্ষা করতে পারছে। এই কারণে শিক্ষা উপকরণের পাশাপাশি বিজ্ঞানবাক্সের চাহিদা অনেক বেশি হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কোমলমতি শিশুরা মোবাইল ও কম্পিউটার যতটা গেমনির্ভর হয়ে পড়ছে, তা তাদের চিন্তাশক্তি বিকাশে খুব একটা সহায়ক নয়। যদি তারা খেলাধুলার পাশাপাশি বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় খেলতে খেলতে শেখে, তাহলে তাদের চিন্তার শক্তি আরও বাড়বে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা।

রূপগঞ্জের আব্দুল হক ভুঁইয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে মেলায় আসা শিক্ষক দিপু রহমান বিজয় এবং আমির হোসেন তাঁদের মতামত প্রকাশ করেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে তারা স্লোগান দিয়ে মেলার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তারা কেবল নিজেদের স্কুলের নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অন্যান্য স্কুলের শিশু-কিশোরদেরও বিজ্ঞানবাক্সের স্টলে আনছেন।

মেলায় চুম্বকের ২৬টি মজার খেলা, ক্যাপ্টেন কিউরিয়াসের দুটি মজার সায়েন্স গেম, তড়িৎ, তাপ ও আলো নিয়ে ২০টি আকর্ষণীয় খেলা, প্রাচীন চাইনিজ পাজল গেম ট্যানগ্রাম, ২০টির বেশি ফোকাস চ্যালেঞ্জ, রসায়নের রহস্যসদৃশ্য ২০টি ট্রায়াল, অদ্ভুত মাপজোখ, স্মার্ট-কিট, শব্দকল্পসহ আরও নানা প্রকার চমকপ্রদ বিজ্ঞানবাক্স প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে। মহাকাশ ও সৌরজগতের রহস্য উপস্থাপন করে নতুন বিজ্ঞানবাক্স, পাশাপাশি ক্লাসভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণির ২৭টি এক্সপেরিমেন্ট শিশুদের আগ্রহ জাগাচ্ছে। এসব হাতে-কলমে শেখার উপকরণ শিশুরা বাস্তব জ্ঞান আহরণ করছে। বিজ্ঞানের এই উপকরণগুলো ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের স্টলে ক্রেতাদের ভিড় লাগছে অসাধারণভাবে।

শিক্ষা উপকরণের বিক্রেতা নাসিমা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ‘সাত বছর থেকে ষোলো বছর বয়স পর্যন্ত কোনও শিশু বা কিশোর বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহার করতে পারে। তবে চার থেকে ছয় বছর বয়সী কৌতূহলী শিশুরাও এই উপকরণগুলোর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে। বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের বাক্স তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এই বার প্যাভিলিয়নে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে, আর বিক্রিও খুব ভালো হচ্ছে।’

মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের অপারেশন ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করে ২৫ টাকা করা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও আহত ব্যক্তিরা কার্ড দেখিয়ে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারছে।’

উল্লেখ্য, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এবারের মেলায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে, যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির মিলনমেলা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য শেখার উন্মাদনা

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় শিক্ষা উপকরণের স্টলে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মেলার সময় যত এগিয়ে যাচ্ছে, ততই শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীরা এই স্টলে বেশি আসছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সহজেই কারো সহায়তা না নিয়েই বিজ্ঞানবাক্সের মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের এক্সপেরিমেন্টগুলো অনুসন্ধান, গবেষণা এবং তথ্য পরীক্ষা করতে পারছে। এই কারণে শিক্ষা উপকরণের পাশাপাশি বিজ্ঞানবাক্সের চাহিদা অনেক বেশি হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কোমলমতি শিশুরা মোবাইল ও কম্পিউটার যতটা গেমনির্ভর হয়ে পড়ছে, তা তাদের চিন্তাশক্তি বিকাশে খুব একটা সহায়ক নয়। যদি তারা খেলাধুলার পাশাপাশি বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় খেলতে খেলতে শেখে, তাহলে তাদের চিন্তার শক্তি আরও বাড়বে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা।

রূপগঞ্জের আব্দুল হক ভুঁইয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে মেলায় আসা শিক্ষক দিপু রহমান বিজয় এবং আমির হোসেন তাঁদের মতামত প্রকাশ করেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে তারা স্লোগান দিয়ে মেলার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তারা কেবল নিজেদের স্কুলের নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অন্যান্য স্কুলের শিশু-কিশোরদেরও বিজ্ঞানবাক্সের স্টলে আনছেন।

মেলায় চুম্বকের ২৬টি মজার খেলা, ক্যাপ্টেন কিউরিয়াসের দুটি মজার সায়েন্স গেম, তড়িৎ, তাপ ও আলো নিয়ে ২০টি আকর্ষণীয় খেলা, প্রাচীন চাইনিজ পাজল গেম ট্যানগ্রাম, ২০টির বেশি ফোকাস চ্যালেঞ্জ, রসায়নের রহস্যসদৃশ্য ২০টি ট্রায়াল, অদ্ভুত মাপজোখ, স্মার্ট-কিট, শব্দকল্পসহ আরও নানা প্রকার চমকপ্রদ বিজ্ঞানবাক্স প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে। মহাকাশ ও সৌরজগতের রহস্য উপস্থাপন করে নতুন বিজ্ঞানবাক্স, পাশাপাশি ক্লাসভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণির ২৭টি এক্সপেরিমেন্ট শিশুদের আগ্রহ জাগাচ্ছে। এসব হাতে-কলমে শেখার উপকরণ শিশুরা বাস্তব জ্ঞান আহরণ করছে। বিজ্ঞানের এই উপকরণগুলো ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের স্টলে ক্রেতাদের ভিড় লাগছে অসাধারণভাবে।

শিক্ষা উপকরণের বিক্রেতা নাসিমা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ‘সাত বছর থেকে ষোলো বছর বয়স পর্যন্ত কোনও শিশু বা কিশোর বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহার করতে পারে। তবে চার থেকে ছয় বছর বয়সী কৌতূহলী শিশুরাও এই উপকরণগুলোর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে। বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের বাক্স তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এই বার প্যাভিলিয়নে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে, আর বিক্রিও খুব ভালো হচ্ছে।’

মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের অপারেশন ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করে ২৫ টাকা করা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও আহত ব্যক্তিরা কার্ড দেখিয়ে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারছে।’

উল্লেখ্য, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এবারের মেলায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে, যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির মিলনমেলা।