১১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ভারতে লুকিয়ে ফিরতে চাইছে আওয়ামী লীগ কর্তৃক নিষিদ্ধ দলপালে রাজনৈতিক পুনরাবর্তনের পরিকল্পনা

অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ও পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে ভারতের কলকাতা এবং দিল্লিতে अलग আঙিনায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করে রেখেছেন। তারা এই দুই শহরকে কেন্দ্র করে দলটির পুনঃগঠন ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের জন্য কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হবে এবং তাদের নির্বাসনের পালা শেষ হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার এক শপিংমলের ভিড়ে ভরা ফুড কোর্টে, ভারতে কালো কফি ও বিভিন্ন ভারতীয় ফাস্টফুড খেতে খেতে, নির্বাসিত আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে পরিকল্পনা করছেন।

প্রায় ১৬ মাস আগে, বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের পর তিনি হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। এই আন্দোলনের দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৪০০ জনের বেশি বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে ভারতীয় সীমান্তবর্তী শহর কলকাতায় আশ্রয় নেন, যেখানে তারা গোপনে অবস্থান করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দলটির কার্যক্রম ও সংগঠন চালিয়ে নিতে ভারতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর মে মাসে, সরকার পরিবর্তন ও চাপের মুখে আওয়ামী লীগ বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ধরণের রাজনৈতিক কার্যক্রম, যেখানে হত্যা, দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার চলছিল। একই সময়ে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন—যা শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম—তেও অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

পরে, জাতীয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়। যদিও হাসিনা এই রায়কে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে অস্বীকার করেছেন এবং আত্মবিশ্বাসী যে, তিনি এখনো রাজনীতি চালিয়ে যাবেন। তিনি ভারতের একটা গোপন স্থানে রয়েছেন, প্রতিদিন দলের সঙ্গে বৈঠক ও বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ চালাচ্ছেন। এসব কার্যক্রম ভারত সরকারের নজরদারির মধ্যেই।

প্রভাবশালী নেতাদের অনুশীলন ও পরিকল্পনা কৌশল নির্ধারণের জন্য কলকাতা থেকে দিল্লিতে নিয়মিত ডেকে আনা হচ্ছে। সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি, বলেছেন, শেঠ হাসিনা সারাক্ষণ সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাদের দলকে প্রস্ততি নিচ্ছেন। যদিও বর্তমানে ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আরও মামলা চলছে। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা একজন সাহসী নেত্রী হিসেবে দেশে ফিরবেন।’

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যে, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে একটি প্রতিশ্রুতিপূর্ণ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের আশা। তবে, দলটি বলছে, যদি তাদের অংশগ্রহণ না দেওয়া হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক অধিকার ঝুঁকিতে পড়বে। তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীরা ভোটে অংশ নেবে না।

এদিকে, দেশের অধিকাংশ মানুষ যারা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের শাসনকে স্বৈরতন্ত্র ও লুটপাটের শাসন বলে মনে করেন, তাদের কাছে এই নতুন দাবির বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ জন্মেছে। সব মিলিয়ে, এক রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢেকে গেছে বর্তমান পরিস্থিতি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ভারতে লুকিয়ে ফিরতে চাইছে আওয়ামী লীগ কর্তৃক নিষিদ্ধ দলপালে রাজনৈতিক পুনরাবর্তনের পরিকল্পনা

প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ও পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে ভারতের কলকাতা এবং দিল্লিতে अलग আঙিনায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করে রেখেছেন। তারা এই দুই শহরকে কেন্দ্র করে দলটির পুনঃগঠন ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের জন্য কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হবে এবং তাদের নির্বাসনের পালা শেষ হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার এক শপিংমলের ভিড়ে ভরা ফুড কোর্টে, ভারতে কালো কফি ও বিভিন্ন ভারতীয় ফাস্টফুড খেতে খেতে, নির্বাসিত আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে পরিকল্পনা করছেন।

প্রায় ১৬ মাস আগে, বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের পর তিনি হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। এই আন্দোলনের দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৪০০ জনের বেশি বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে ভারতীয় সীমান্তবর্তী শহর কলকাতায় আশ্রয় নেন, যেখানে তারা গোপনে অবস্থান করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দলটির কার্যক্রম ও সংগঠন চালিয়ে নিতে ভারতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর মে মাসে, সরকার পরিবর্তন ও চাপের মুখে আওয়ামী লীগ বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ধরণের রাজনৈতিক কার্যক্রম, যেখানে হত্যা, দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার চলছিল। একই সময়ে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন—যা শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম—তেও অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

পরে, জাতীয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়। যদিও হাসিনা এই রায়কে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে অস্বীকার করেছেন এবং আত্মবিশ্বাসী যে, তিনি এখনো রাজনীতি চালিয়ে যাবেন। তিনি ভারতের একটা গোপন স্থানে রয়েছেন, প্রতিদিন দলের সঙ্গে বৈঠক ও বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ চালাচ্ছেন। এসব কার্যক্রম ভারত সরকারের নজরদারির মধ্যেই।

প্রভাবশালী নেতাদের অনুশীলন ও পরিকল্পনা কৌশল নির্ধারণের জন্য কলকাতা থেকে দিল্লিতে নিয়মিত ডেকে আনা হচ্ছে। সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি, বলেছেন, শেঠ হাসিনা সারাক্ষণ সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাদের দলকে প্রস্ততি নিচ্ছেন। যদিও বর্তমানে ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আরও মামলা চলছে। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা একজন সাহসী নেত্রী হিসেবে দেশে ফিরবেন।’

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যে, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে একটি প্রতিশ্রুতিপূর্ণ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের আশা। তবে, দলটি বলছে, যদি তাদের অংশগ্রহণ না দেওয়া হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক অধিকার ঝুঁকিতে পড়বে। তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীরা ভোটে অংশ নেবে না।

এদিকে, দেশের অধিকাংশ মানুষ যারা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের শাসনকে স্বৈরতন্ত্র ও লুটপাটের শাসন বলে মনে করেন, তাদের কাছে এই নতুন দাবির বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ জন্মেছে। সব মিলিয়ে, এক রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢেকে গেছে বর্তমান পরিস্থিতি।