১০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন? আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগ নিয়ে প্রশাসনে তীব্র গুঞ্জন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথে ১৩ দেশের প্রধানকে আমন্ত্রণ গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী সফলতার জন্য তিন শীর্ষ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, নতুন সরকারের শপথ আজ মঙ্গলবার আসিফ নজরুলের স্পষ্টবার্তা: বিএনপির মন্ত্রিসভায় আমার থাকাটা সম্ভব নয় সেনাবাহিনী ফিরে যাবে ব্যারাকে: সেনাপ্রধান নবনির্বাচিত সরকার শপথ নিলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া থেকে ৫৭০৪ সন্দেহভাজন আইএস বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করেছে

মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে যে সিরিয়া থেকে মোট ৫৭০৪ জন সন্দেহভাজন আইএস সদস্যকে সফলভাবে ইরাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই বড় পরিসরের কার্যক্রমটি প্রায় ২৩ দিন ধরে চলা একটি গোপন ও কঠোর নিরাপত্তায় পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

সেন্টকম শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, কর্মসূচিটি ২১ জানুয়ারি শুরু করে এবং শেষ দফার বন্দিদের ইরাকে পাঠানোর জন্য উত্তর‑পূর্ব সিরিয়া থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইট ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ছেড়ে যায়। এসব বন্দিকে এফ.টি. ওয়ার্ফের মতো বিভিন্ন আটককেন্দ্র থেকে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ও সম্ভাব্য কারাগার ভাঙার আশঙ্কা এ অপারেশনের মূল অনুপ্রেরণা ছিল। কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স (এসডিএফ) দীর্ঘদিন এসব বন্দিদের তত্ত্বাবধানে রেখেছিল। কিন্তু সিরীয় সরকারি বাহিনী যখন উত্তরাঞ্চলের কিছু অঞ্চল পুনর্দখলে নামেন, তখন বন্দিদের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক সমন্বিতভাবে এই স্থানান্তর কার্যক্রম হাতে নেয়।

ইরাকের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল জুডিশিয়াল কো‑অপারেশন (এনসিআইজেসি) যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তা অনুযায়ী ৫৭০৪ বন্দির মধ্যে ৩৫৪৩ জন সিরীয় নাগরিক, ৪৬৭ জন ইরাকি এবং ৭১০ জন বিভিন্ন আরব দেশের নাগরিক। এছাড়া ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৯৮০‑এরও বেশি বিদেশি যোদ্ধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানান্তরিত বন্দিদের প্রতিটি নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে ইরাকের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে রাখা হবে এবং আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ বলেছে যে বন্দিদের বিচারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজনীয় হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আল‑হোল ও পার্শ্ববর্তী শিবিরগুলো কয়েক বছর ধরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল। ২০১৪ থেকে জঙ্গিগোষ্ঠী কর্তৃক সংঘটিত সহিংসতার পরে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে তাঁদের সামরিক পরাজয়ের পর শতশত সন্দেহভাজন যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে এসডিএফ বিভিন্ন শিবিরে রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে অনেক বিদেশি পরিবারের নিজ দেশে ফেরার ঘটনা ঘটলেও বন্দিদের নিরাপত্তা ও বিচার একটি জটিল এবং সংবেদনশীল বিষয় রয়ে গেছে।

সেন্টকমের এই পদক্ষেপকে অনেক эксперт আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থাকে মুণ্ডন করতে সহায়ক বলে দেখছেন, যেহেতু বন্দিদের কেন্দ্রীভূতভাবে ট্রান্সফার এবং উচ্চ নিরাপত্তায় আটক করে বিচার দেয়ার ব্যবস্থা নিরস্তরের আশঙ্কা কমাতে পারে। আল জাজিরাসহ কাতারভিত্তিক কিছু সংবাদমাধ্যম এই অপারেশনের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

সংক্ষেপে, ২৩ দিনব্যাপী গোপন ও সূক্ষ্ম সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি সিরিয়ার উত্তরের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বন্দিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব বন্দির বিচার ও তাদের ব্যবস্থাপনাই এই ধরনের পদক্ষেপের প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণ করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন?

যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া থেকে ৫৭০৪ সন্দেহভাজন আইএস বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করেছে

প্রকাশিতঃ ০৩:২৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে যে সিরিয়া থেকে মোট ৫৭০৪ জন সন্দেহভাজন আইএস সদস্যকে সফলভাবে ইরাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই বড় পরিসরের কার্যক্রমটি প্রায় ২৩ দিন ধরে চলা একটি গোপন ও কঠোর নিরাপত্তায় পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

সেন্টকম শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, কর্মসূচিটি ২১ জানুয়ারি শুরু করে এবং শেষ দফার বন্দিদের ইরাকে পাঠানোর জন্য উত্তর‑পূর্ব সিরিয়া থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইট ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ছেড়ে যায়। এসব বন্দিকে এফ.টি. ওয়ার্ফের মতো বিভিন্ন আটককেন্দ্র থেকে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ও সম্ভাব্য কারাগার ভাঙার আশঙ্কা এ অপারেশনের মূল অনুপ্রেরণা ছিল। কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স (এসডিএফ) দীর্ঘদিন এসব বন্দিদের তত্ত্বাবধানে রেখেছিল। কিন্তু সিরীয় সরকারি বাহিনী যখন উত্তরাঞ্চলের কিছু অঞ্চল পুনর্দখলে নামেন, তখন বন্দিদের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক সমন্বিতভাবে এই স্থানান্তর কার্যক্রম হাতে নেয়।

ইরাকের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল জুডিশিয়াল কো‑অপারেশন (এনসিআইজেসি) যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তা অনুযায়ী ৫৭০৪ বন্দির মধ্যে ৩৫৪৩ জন সিরীয় নাগরিক, ৪৬৭ জন ইরাকি এবং ৭১০ জন বিভিন্ন আরব দেশের নাগরিক। এছাড়া ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৯৮০‑এরও বেশি বিদেশি যোদ্ধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানান্তরিত বন্দিদের প্রতিটি নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে ইরাকের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে রাখা হবে এবং আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ বলেছে যে বন্দিদের বিচারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজনীয় হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আল‑হোল ও পার্শ্ববর্তী শিবিরগুলো কয়েক বছর ধরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল। ২০১৪ থেকে জঙ্গিগোষ্ঠী কর্তৃক সংঘটিত সহিংসতার পরে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে তাঁদের সামরিক পরাজয়ের পর শতশত সন্দেহভাজন যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে এসডিএফ বিভিন্ন শিবিরে রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে অনেক বিদেশি পরিবারের নিজ দেশে ফেরার ঘটনা ঘটলেও বন্দিদের নিরাপত্তা ও বিচার একটি জটিল এবং সংবেদনশীল বিষয় রয়ে গেছে।

সেন্টকমের এই পদক্ষেপকে অনেক эксперт আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থাকে মুণ্ডন করতে সহায়ক বলে দেখছেন, যেহেতু বন্দিদের কেন্দ্রীভূতভাবে ট্রান্সফার এবং উচ্চ নিরাপত্তায় আটক করে বিচার দেয়ার ব্যবস্থা নিরস্তরের আশঙ্কা কমাতে পারে। আল জাজিরাসহ কাতারভিত্তিক কিছু সংবাদমাধ্যম এই অপারেশনের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

সংক্ষেপে, ২৩ দিনব্যাপী গোপন ও সূক্ষ্ম সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি সিরিয়ার উত্তরের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বন্দিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব বন্দির বিচার ও তাদের ব্যবস্থাপনাই এই ধরনের পদক্ষেপের প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণ করবে।