০১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন

স্বল্প সময়ে লক্ষাধিক ভোট, তুহিনকে টেকনোক্রাট মন্ত্রী করার দাবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-২ আসনে পরাজিত হলেও বিএনপি মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে টেকনোক্রাট মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মী, স্থানীয় রাজনীতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই দাবি জানাচ্ছে এবং কেন্দ্রে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তুহিন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট অর্জন করেন। মাত্র এক হাজার-দশ হাজারের মধ্যে ব্যবধানে পরাজিত হলেও তার প্রাপ্ত ভোট স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অতীতে এ আসনে বিএনপির ভোটসংখ্যা সাধারণত ৩০–৪০ হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত; অথচ মাত্র ২০–২২ দিনের প্রচারণায় তুহিন তা প্রায় দেড় লাখের কাছাকাছি নিয়ে আসেন।

স্থানীয় নেতারা বলছেন, স্বল্প সময়ে বিভক্ত সংগঠনকে একত্র করা, তৃণমূল স্তরে কর্মযজ্ঞ ত্বরান্বিত করা এবং ভোটের ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনা তার সাংগঠনিক সক্ষমতার স্বচ্ছ প্রমাণ। দীর্ঘদিন মাঠে কাজের অভিজ্ঞতা, জনস্বীকৃতি ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা মিলিয়ে তাঁকে রাষ্ট্রীয় ভূমিকা দিতে সময়ের দাবি বলেও তাদের যুক্তি।

নীলফামারী জেলার উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবীব লেলিন বলেন, নির্বাচনি বাস্তবতায় হয়তো তাকে সংসদে পাঠানো হবে না, তবুও নীলফামারীর উন্নয়ন ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তুহিনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘‘রংপুর বিভাগের দায়িত্ব বা টেকনোক্রাট মন্ত্রীর ভূমিকায় নিয়োগ করলে তৃণমূলের মনোবল বেড়ে যাবে এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’’

ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করলেও শেষ মুহূর্তে আসন পরিবর্তন ও মনোনয়ন বিলম্বের কারণে সংগঠনা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। তবু স্বল্প সময়ে যে ভোট তিনি অর্জন করেছেন, তা তার নেতৃত্বগুণের প্রমাণ। তিনি যোগ করেন, ‘‘তুহিনকে টেকনোক্রাট মন্ত্রী করা হলে নীলফামারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’’

স্থানীয় পর্যায়ে মনে করা হচ্ছে, রংপুর বিভাগে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন তীক্ষ্ণ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য ও মাঠভিত্তিক নেতৃত্বকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যুক্ত করলে দলীয় সংগঠন সুদৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যও বজায় থাকবে।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা আশা করছেন, নীলফামারীর মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের এই দাবিটিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

স্বল্প সময়ে লক্ষাধিক ভোট, তুহিনকে টেকনোক্রাট মন্ত্রী করার দাবি

প্রকাশিতঃ ০৩:২৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-২ আসনে পরাজিত হলেও বিএনপি মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে টেকনোক্রাট মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মী, স্থানীয় রাজনীতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই দাবি জানাচ্ছে এবং কেন্দ্রে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তুহিন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট অর্জন করেন। মাত্র এক হাজার-দশ হাজারের মধ্যে ব্যবধানে পরাজিত হলেও তার প্রাপ্ত ভোট স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অতীতে এ আসনে বিএনপির ভোটসংখ্যা সাধারণত ৩০–৪০ হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত; অথচ মাত্র ২০–২২ দিনের প্রচারণায় তুহিন তা প্রায় দেড় লাখের কাছাকাছি নিয়ে আসেন।

স্থানীয় নেতারা বলছেন, স্বল্প সময়ে বিভক্ত সংগঠনকে একত্র করা, তৃণমূল স্তরে কর্মযজ্ঞ ত্বরান্বিত করা এবং ভোটের ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনা তার সাংগঠনিক সক্ষমতার স্বচ্ছ প্রমাণ। দীর্ঘদিন মাঠে কাজের অভিজ্ঞতা, জনস্বীকৃতি ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা মিলিয়ে তাঁকে রাষ্ট্রীয় ভূমিকা দিতে সময়ের দাবি বলেও তাদের যুক্তি।

নীলফামারী জেলার উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবীব লেলিন বলেন, নির্বাচনি বাস্তবতায় হয়তো তাকে সংসদে পাঠানো হবে না, তবুও নীলফামারীর উন্নয়ন ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তুহিনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘‘রংপুর বিভাগের দায়িত্ব বা টেকনোক্রাট মন্ত্রীর ভূমিকায় নিয়োগ করলে তৃণমূলের মনোবল বেড়ে যাবে এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’’

ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করলেও শেষ মুহূর্তে আসন পরিবর্তন ও মনোনয়ন বিলম্বের কারণে সংগঠনা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। তবু স্বল্প সময়ে যে ভোট তিনি অর্জন করেছেন, তা তার নেতৃত্বগুণের প্রমাণ। তিনি যোগ করেন, ‘‘তুহিনকে টেকনোক্রাট মন্ত্রী করা হলে নীলফামারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’’

স্থানীয় পর্যায়ে মনে করা হচ্ছে, রংপুর বিভাগে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন তীক্ষ্ণ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য ও মাঠভিত্তিক নেতৃত্বকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যুক্ত করলে দলীয় সংগঠন সুদৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যও বজায় থাকবে।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা আশা করছেন, নীলফামারীর মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের এই দাবিটিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।