বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টেকনাফের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ৭৩ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এসব জেলেকে টেকনাফের জালিয়াপাড়া ট্রানজিট ঘাট দিয়ে এনে হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলেদের গ্রহণের জন্য বিজিবি একটি প্রতিনিধিদল একই ঘাট থেকে নাফ নদীর শূন্যরেখার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। সেখানে আরাকান আর্মি তাদের দলকে হস্তান্তর করে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কমান্ডার আর বলেন, ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এই সফলতা অর্জিত হয়েছে। আরাকান আর্মির দাবি, ওই জেলেরা মিয়ানমারের জলসীমা অতিক্রম করায় তাদের আটক করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে এখনও যে কয়েকশ ব্যক্তি মিয়ানমারে আটক রয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য বিজিবি আলোচনা চালাচ্ছে।
ফেরত আসা এক জেলে নূরুল আলম বলেন, ‘‘ছয় মাস পর নিজের দেশের মাটিতে ফিরে আসতে পেরে খুবই খুশি। মিয়ানমারে এখনও শতাধিক জেলে রয়েছে। আমরা মাছ ডেকে ফেরার পথে নাইক্ষ্যংদিয়া ও সীমান্ত এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে আমাদের মারধর করা হয়েছিল, অনেক সময় খাবারও দেওয়া হয়নি। আমার মতো অন্যদেরকেও নির্যাতন করা হয়েছে।’’
স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় ট্রলার ও জেলে নিয়ে যাওয়া অন্তত ২০০ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটকা পড়ে আছে। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে এই ৭৩ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























