১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন

নতুন সরকারের শপথের আগেই আটকে গেল ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স

নতুন সরকার গঠনের আগের দিন হঠাৎ তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব আটকে পড়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কর্মকর্তাদের তীব্র প্রতিবাদে ও পর্ষদ সভা স্থগিতের দাবি জানালে বিষয়টি রীতিমতো বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হলেও ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন পায়নি এবং দিনভর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উত্তেজনা ছড়ায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশে কর্মীদের সর্তক করা হয়েছে যে, ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত বৈঠক, জনসভা, সংবাদ সম্মেলন বা গণমাধ্যমে ব্যাংকসম্পন্ন নীতি বা বিষয়ের ওপর বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, পর্ষদের জরুরি সভায় ডিজিটাল ব্যাংক সম্পর্কিত অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।

অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে মাত্র এক দিনের নোটিশে ১৬ ফেব্রুয়ারি এই জরুরি পর্ষদ ডাকা হয়—যা সন্দেহসাপেক্ষ ও আপাতত অনুকূল নয়। কাউন্সিল অভিযোগ করেছে যে এ সভার মূল লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া, যা গুরুতর প্রশ্ন ও উদ্বেগের কারণ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, যাকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমানে যে গভর্নর রয়েছেন তিনি অতীতে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি গভর্নরের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সূত্রে অনভিজ্ঞ বা অযোগ্য ব্যক্তিদের পরামর্শক ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন কাউন্সিল। বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বহিরাগত ব্যক্তিকে কার্ড ইস্যু ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়াকে তারা নজিরবিহীন অনিয়ম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কাউন্সিলের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হতে পারে না এবং ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই অবস্থায় রাজনৈতিক সংবেদনশীল অন্তর্বর্তী সময়ের মধ্যে এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়ার উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি করে। তারা মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ থেকে ব্যাংকিং খাতে একচেটিয়া বাজার গড়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য আশঙ্কার খবর。

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের দাবি ও উদ্বেগ সার্বিকভাবে দিনভর আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

নতুন সরকারের শপথের আগেই আটকে গেল ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স

প্রকাশিতঃ ১১:৩৭:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন সরকার গঠনের আগের দিন হঠাৎ তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব আটকে পড়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কর্মকর্তাদের তীব্র প্রতিবাদে ও পর্ষদ সভা স্থগিতের দাবি জানালে বিষয়টি রীতিমতো বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হলেও ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন পায়নি এবং দিনভর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উত্তেজনা ছড়ায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশে কর্মীদের সর্তক করা হয়েছে যে, ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত বৈঠক, জনসভা, সংবাদ সম্মেলন বা গণমাধ্যমে ব্যাংকসম্পন্ন নীতি বা বিষয়ের ওপর বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, পর্ষদের জরুরি সভায় ডিজিটাল ব্যাংক সম্পর্কিত অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।

অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে মাত্র এক দিনের নোটিশে ১৬ ফেব্রুয়ারি এই জরুরি পর্ষদ ডাকা হয়—যা সন্দেহসাপেক্ষ ও আপাতত অনুকূল নয়। কাউন্সিল অভিযোগ করেছে যে এ সভার মূল লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া, যা গুরুতর প্রশ্ন ও উদ্বেগের কারণ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, যাকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমানে যে গভর্নর রয়েছেন তিনি অতীতে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি গভর্নরের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সূত্রে অনভিজ্ঞ বা অযোগ্য ব্যক্তিদের পরামর্শক ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন কাউন্সিল। বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বহিরাগত ব্যক্তিকে কার্ড ইস্যু ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়াকে তারা নজিরবিহীন অনিয়ম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কাউন্সিলের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হতে পারে না এবং ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই অবস্থায় রাজনৈতিক সংবেদনশীল অন্তর্বর্তী সময়ের মধ্যে এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়ার উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি করে। তারা মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ থেকে ব্যাংকিং খাতে একচেটিয়া বাজার গড়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য আশঙ্কার খবর。

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের দাবি ও উদ্বেগ সার্বিকভাবে দিনভর আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে।