১০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ঝিনাইদহে নিত্যপণ্যে সামান্য স্থিতিশীলতা, ছোলা-লেবু-বেগুনের দাম বেড়েছে

রমজান সামনে রেখে ঝিনাইদহে নিত্যপণ্যের বাজারে মোটামুটি স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলার মূল্য বেশ স্বাভাবিক থাকলেও ছোলা, লেবু, বেগুন, পেঁয়াজ ও শসার দাম সাম্প্রতীকভাবে বাড়ার খবর পেয়েছে বাজার পরিদর্শনে। ভোক্তারা রমজানে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের মনিটরিং জোরদারের অনুরোধ জানান। এ তথ্য সরেজমিন জেলা শহরের নতুন হাটখোলা বাজার পরিদর্শনে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পাওয়া গেছে। জেলার অন্যান্য উপজেলা ও বড় বাজারেও অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে দেখা গেছে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত আলু কেজি প্রতি ২০ টাকা, রসুন ১১০–১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০–৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি ১৪০–১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বেগুনের দাম কিছুটা বাড়েছে; মানভেদে প্রতি কেজি ৬০–৮০ টাকা। অন্যান্য সবজির মধ্যে লাউ আকারভেদে পিস প্রতি ৩০–৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০–৪০ টাকা কেজি, করলা কেজি প্রতি ১০০–১২০ টাকা, গাজর ৬০–৭০ টাকা কেজি, শসা ৬০–৭০ টাকা কেজি, শিম ৩০–৪০ টাকা কেজি ও টমেটো ৫০–৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা জানায়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে এসব পণ্যের দাম ছিল কম। বেগুন কেজি প্রতি ৪০–৪৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০–২৫ টাকা, শসা কেজি ৩০–৪৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০–৯০ টাকা কেজি এবং পেঁয়াজ ৫০–৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। রমজান শুরুর আগেই কয়েকটি পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ধারণা প্রদর্শিত হয়।

সবজির পাশাপাশি রমজানে খেজুর, চিনি, আখের গুড়, ছোলাবুট ও লেবুর দামও কিছুটা বেড়েছে। মানভেদে খেজুর সাড়ে ৩০০ টাকা কেজিতেও পাওয়া যাচ্ছে। লাল চিনি কেজি প্রতি ১৫০–১৬০ টাকা, সাদা চিনি ১৪০ টাকা, দেশী ছোলা ৯০–১০০ টাকা এবং আমদানিকৃত ছোলা ৮৫–৯৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের মূল্য বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

নাহিদ হোসাইন নামের একটি ক্রেতা বলেন, ‘রোজার আগে অন্যান্য বছর নিত্যপণ্যের দাম অনেক বেড়ে যেত। এবার সে রকম চিত্র ততটা লক্ষ্য করছি না। গত রমজানেও বাজারে অনেকটাই স্বস্তি ছিল। আশা করি নতুন সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।’

দিলারা পারভীন বলেন, ‘কাগজি লেবু, শসা, বেগুন ও করলার দাম বেশ বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০–২০ টাকা বাড়েছে। একটি হালি লেবুর দাম এখন ৪০–৬০ টাকা পর্যন্ত যাচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে।’

বিক্রেতা আনারুল ইসলাম বলেন, ‘রসুন, আদা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আলুর দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে আছে। তবে কাঁচা মালের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দাম ওঠানামা করে।’ পাইকারি সবজি ও নিত্যপণ্য ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, ‘ছোলা, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম এখন স্থিতিশীল। সবচেয়ে আশ্বস্তকর বিষয় হলো বর্তমানে বাজারে সিন্ডিকেট নেই—এ কারণে দাম রিলেটিভভাবে ঠিক আছে। রমজান উপলক্ষে ক্রেতাবৃন্দও বেড়েছে।’

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। গত এক বছরে বাজার সিন্ডিকেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। সবজির বাজার, মুরগি ও মাংসের দোকান ও ইফতার সামগ্রী বিক্রয়ের প্রচুর উৎসে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অনুরোধ — রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে মনিটরিং আরও জোরদার করা হোক এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হোক।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ঝিনাইদহে নিত্যপণ্যে সামান্য স্থিতিশীলতা, ছোলা-লেবু-বেগুনের দাম বেড়েছে

প্রকাশিতঃ ১১:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান সামনে রেখে ঝিনাইদহে নিত্যপণ্যের বাজারে মোটামুটি স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলার মূল্য বেশ স্বাভাবিক থাকলেও ছোলা, লেবু, বেগুন, পেঁয়াজ ও শসার দাম সাম্প্রতীকভাবে বাড়ার খবর পেয়েছে বাজার পরিদর্শনে। ভোক্তারা রমজানে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের মনিটরিং জোরদারের অনুরোধ জানান। এ তথ্য সরেজমিন জেলা শহরের নতুন হাটখোলা বাজার পরিদর্শনে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পাওয়া গেছে। জেলার অন্যান্য উপজেলা ও বড় বাজারেও অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে দেখা গেছে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত আলু কেজি প্রতি ২০ টাকা, রসুন ১১০–১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০–৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি ১৪০–১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বেগুনের দাম কিছুটা বাড়েছে; মানভেদে প্রতি কেজি ৬০–৮০ টাকা। অন্যান্য সবজির মধ্যে লাউ আকারভেদে পিস প্রতি ৩০–৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০–৪০ টাকা কেজি, করলা কেজি প্রতি ১০০–১২০ টাকা, গাজর ৬০–৭০ টাকা কেজি, শসা ৬০–৭০ টাকা কেজি, শিম ৩০–৪০ টাকা কেজি ও টমেটো ৫০–৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা জানায়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে এসব পণ্যের দাম ছিল কম। বেগুন কেজি প্রতি ৪০–৪৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০–২৫ টাকা, শসা কেজি ৩০–৪৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০–৯০ টাকা কেজি এবং পেঁয়াজ ৫০–৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। রমজান শুরুর আগেই কয়েকটি পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ধারণা প্রদর্শিত হয়।

সবজির পাশাপাশি রমজানে খেজুর, চিনি, আখের গুড়, ছোলাবুট ও লেবুর দামও কিছুটা বেড়েছে। মানভেদে খেজুর সাড়ে ৩০০ টাকা কেজিতেও পাওয়া যাচ্ছে। লাল চিনি কেজি প্রতি ১৫০–১৬০ টাকা, সাদা চিনি ১৪০ টাকা, দেশী ছোলা ৯০–১০০ টাকা এবং আমদানিকৃত ছোলা ৮৫–৯৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের মূল্য বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

নাহিদ হোসাইন নামের একটি ক্রেতা বলেন, ‘রোজার আগে অন্যান্য বছর নিত্যপণ্যের দাম অনেক বেড়ে যেত। এবার সে রকম চিত্র ততটা লক্ষ্য করছি না। গত রমজানেও বাজারে অনেকটাই স্বস্তি ছিল। আশা করি নতুন সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।’

দিলারা পারভীন বলেন, ‘কাগজি লেবু, শসা, বেগুন ও করলার দাম বেশ বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০–২০ টাকা বাড়েছে। একটি হালি লেবুর দাম এখন ৪০–৬০ টাকা পর্যন্ত যাচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে।’

বিক্রেতা আনারুল ইসলাম বলেন, ‘রসুন, আদা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আলুর দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে আছে। তবে কাঁচা মালের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দাম ওঠানামা করে।’ পাইকারি সবজি ও নিত্যপণ্য ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, ‘ছোলা, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম এখন স্থিতিশীল। সবচেয়ে আশ্বস্তকর বিষয় হলো বর্তমানে বাজারে সিন্ডিকেট নেই—এ কারণে দাম রিলেটিভভাবে ঠিক আছে। রমজান উপলক্ষে ক্রেতাবৃন্দও বেড়েছে।’

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। গত এক বছরে বাজার সিন্ডিকেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। সবজির বাজার, মুরগি ও মাংসের দোকান ও ইফতার সামগ্রী বিক্রয়ের প্রচুর উৎসে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অনুরোধ — রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে মনিটরিং আরও জোরদার করা হোক এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হোক।