০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

কুমিল্লায় তিনজন মন্ত্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত জনতা

কুমিল্লায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারের মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন চমকপ্রদ নিয়োগ দিয়েছেন বিএনপি। এই নিয়োগের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের ঝোঁক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, বরুড়ায় প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হিসেবে জাকারিয়া তাহের সুমন এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় পেয়েছেন হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। এসব খবরের প্রতিফলনে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুশির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, শ্রেণীবদ্ধভাবে মিষ্টি বিতরণ ও উৎসবে মেতেছেন স্থানীয়রা।

ধর্মমন্ত্রী কাজী কায়কোবাদ দীর্ঘ দিন পর দেশের বাইরে থেকে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন। ৫ আগস্ট দেশে ফেরার পর তিনি নির্বাচনে ধরেছে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ব্যাপক ভোটে জয় লাভ করেন। তিনি নির্বাচনে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট পেয়েছিলেন, যা অন্য প্রতিধ্বনি থেকে উল্লেখযোগ্য বেশি। এর আগে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে তিনি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬ সালে সংসদে হুইপ ও ১৯৮৮ সালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলছেন, ‘দাদা ভাই’ নামে পরিচিত কায়কোবাদকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে ग्राम পর্যায়েও আনন্দের ঢেউ দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বরুড়ায় ৭৮ বছর পরে প্রথমবারের মতো কেউ মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে ব্যাপক উৎসাহে মেতে উঠেছেন। তিনি ১৯৪৮ সালে বরুড়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৪ সালে উপনির্বাচনে প্রথমবারের মত এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি।

বরুড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন জানিয়েছেন, ‘আসলেই বেশ দীর্ঘ ৭৮ বছর পরে বরুড়ায় একজন মন্ত্রী এসেছে। এই নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এখানকার উন্নয়ন সম্ভব বলে তারা আশা করছেন।’

অর্থাৎ, বিএনপির মনোনয়নহীন থাকলেও দলের চাপ ও নেতৃত্বের অনুরোধে যোগ দেওয়ায় হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন কৃষি, খাদ্য, মাছ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় পেয়েছেন। তিনি দলের স্বার্থে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। সমর্থকরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি দলের জন্য নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দলের পক্ষে কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদে নির্বাচিত হন ইয়াছিন। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন।

সরকারের এই নিয়োগে কুমিল্লার তিনজন নেতার সমন্বয়ে উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ কুমিল্লার উন্নয়নের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে আনবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

কুমিল্লায় তিনজন মন্ত্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত জনতা

প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারের মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন চমকপ্রদ নিয়োগ দিয়েছেন বিএনপি। এই নিয়োগের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের ঝোঁক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, বরুড়ায় প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হিসেবে জাকারিয়া তাহের সুমন এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় পেয়েছেন হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। এসব খবরের প্রতিফলনে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুশির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, শ্রেণীবদ্ধভাবে মিষ্টি বিতরণ ও উৎসবে মেতেছেন স্থানীয়রা।

ধর্মমন্ত্রী কাজী কায়কোবাদ দীর্ঘ দিন পর দেশের বাইরে থেকে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন। ৫ আগস্ট দেশে ফেরার পর তিনি নির্বাচনে ধরেছে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ব্যাপক ভোটে জয় লাভ করেন। তিনি নির্বাচনে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট পেয়েছিলেন, যা অন্য প্রতিধ্বনি থেকে উল্লেখযোগ্য বেশি। এর আগে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে তিনি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬ সালে সংসদে হুইপ ও ১৯৮৮ সালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলছেন, ‘দাদা ভাই’ নামে পরিচিত কায়কোবাদকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে ग्राम পর্যায়েও আনন্দের ঢেউ দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বরুড়ায় ৭৮ বছর পরে প্রথমবারের মতো কেউ মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে ব্যাপক উৎসাহে মেতে উঠেছেন। তিনি ১৯৪৮ সালে বরুড়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৪ সালে উপনির্বাচনে প্রথমবারের মত এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি।

বরুড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন জানিয়েছেন, ‘আসলেই বেশ দীর্ঘ ৭৮ বছর পরে বরুড়ায় একজন মন্ত্রী এসেছে। এই নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এখানকার উন্নয়ন সম্ভব বলে তারা আশা করছেন।’

অর্থাৎ, বিএনপির মনোনয়নহীন থাকলেও দলের চাপ ও নেতৃত্বের অনুরোধে যোগ দেওয়ায় হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন কৃষি, খাদ্য, মাছ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় পেয়েছেন। তিনি দলের স্বার্থে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। সমর্থকরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি দলের জন্য নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দলের পক্ষে কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদে নির্বাচিত হন ইয়াছিন। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন।

সরকারের এই নিয়োগে কুমিল্লার তিনজন নেতার সমন্বয়ে উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ কুমিল্লার উন্নয়নের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে আনবে।