০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

ইশরাক হোসেনের ১০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা

ঢাকা-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নবনিযুক্ত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার নির্বাচনী এলাকায় সমন্বিত উন্নয়নের জন্য ১০ দিনের একটি তাৎক্ষণিক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি রমজানকে কেন্দ্র করে প্রথম দশ দিনের কর্মসূচি এবং ঈদুল ফিতর পূর্ব-পরবর্তী ধারাবাহিক কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরেন।

ঘোষিত কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গ্যাসসংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা দৃঢ় করা, মাদকমুক্তি, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে দ্রুত স্বস্তি ফিরিয়ে আনাকে নিশ্চিত করা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ দ্রুত ও ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে যাতে নির্বাচনী এলাকার মানুষ ত্বরিত ও দৃশ্যমান পরিবর্তন অনুভব করতে পারে।

জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ইশরাক হোসেন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় থানার কর্মকর্তা ও কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা পুলিশ ফাঁড়িগুলো দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বিশেষভাবে ছিনতাই, চুরি ও সড়ক অপরাধ দমন করতে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথাও ঘোষনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এলাকার সব মাদকবিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এর পেছনের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিদেশে অবস্থানরত উসকানিদাতাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা গ্রহণ করে তাদের সুষ্ঠু বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও তিনি সত্বর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জনবান্ধব দাম নিশ্চিত করার জন্য প্রতিমন্ত্রী গোয়েন্দা নজরদারি ও আকস্মিক পরিদর্শনে জোর দেবেন। অসাধু মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

ট্রাফিক ঝামেলা কমাতে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো যানজটমুক্ত রাখার, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ এবং ফুটপাত অপব্যবস্থা নির্মূল করে পথচারীদের চলাচল সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দৈনন্দিন যাতায়াত ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীর পরিকল্পনায় রয়েছে আরও একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা—‘প্রাধান্য স্তর-২’। এতে প্রতিটি ওয়ার্ডের সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা নিরীক্ষণ ও জমে থাকা বর্জ্য সরানোর কার্যক্রম চালু করা হবে, পাশাপাশি নিয়মিত পানি ছিটিয়ে এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রমও নেওয়া হবে।

ইশরাক হোসেন জানান, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস ও অন্যান্য সেবাদাতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকা-৬ আসনকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য এ্যাক্সানে উন্নীত করাই তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। তিনি জনগণের সহযোগিতা ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রতিশ্রুতিশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যাতে এই পরিকল্পনাগুলো ত্বরিত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

ইশরাক হোসেনের ১০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা

প্রকাশিতঃ ০৩:২৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নবনিযুক্ত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার নির্বাচনী এলাকায় সমন্বিত উন্নয়নের জন্য ১০ দিনের একটি তাৎক্ষণিক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি রমজানকে কেন্দ্র করে প্রথম দশ দিনের কর্মসূচি এবং ঈদুল ফিতর পূর্ব-পরবর্তী ধারাবাহিক কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরেন।

ঘোষিত কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গ্যাসসংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা দৃঢ় করা, মাদকমুক্তি, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে দ্রুত স্বস্তি ফিরিয়ে আনাকে নিশ্চিত করা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ দ্রুত ও ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে যাতে নির্বাচনী এলাকার মানুষ ত্বরিত ও দৃশ্যমান পরিবর্তন অনুভব করতে পারে।

জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ইশরাক হোসেন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় থানার কর্মকর্তা ও কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা পুলিশ ফাঁড়িগুলো দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বিশেষভাবে ছিনতাই, চুরি ও সড়ক অপরাধ দমন করতে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথাও ঘোষনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এলাকার সব মাদকবিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এর পেছনের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিদেশে অবস্থানরত উসকানিদাতাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা গ্রহণ করে তাদের সুষ্ঠু বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও তিনি সত্বর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জনবান্ধব দাম নিশ্চিত করার জন্য প্রতিমন্ত্রী গোয়েন্দা নজরদারি ও আকস্মিক পরিদর্শনে জোর দেবেন। অসাধু মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

ট্রাফিক ঝামেলা কমাতে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো যানজটমুক্ত রাখার, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ এবং ফুটপাত অপব্যবস্থা নির্মূল করে পথচারীদের চলাচল সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দৈনন্দিন যাতায়াত ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীর পরিকল্পনায় রয়েছে আরও একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা—‘প্রাধান্য স্তর-২’। এতে প্রতিটি ওয়ার্ডের সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা নিরীক্ষণ ও জমে থাকা বর্জ্য সরানোর কার্যক্রম চালু করা হবে, পাশাপাশি নিয়মিত পানি ছিটিয়ে এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রমও নেওয়া হবে।

ইশরাক হোসেন জানান, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস ও অন্যান্য সেবাদাতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকা-৬ আসনকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য এ্যাক্সানে উন্নীত করাই তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। তিনি জনগণের সহযোগিতা ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রতিশ্রুতিশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যাতে এই পরিকল্পনাগুলো ত্বরিত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।