১০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমবার আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানালো জামায়াত

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে দেশের ইতিহাসে এক অনবদ্য দৃশ্য প্রত্যক্ষ করল জনসাধারণ। শনিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষনেতারা প্রথমবারের মতো পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের পর তারা শহীদ বেদির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এটিএম আজহারুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জামায়াতের এই পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন। তাদের ব্যাখ্যায়, অতীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা প্রদানের নজির ছিল না। এবার দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ হিসেবে এবং বিরোধীদলীয় নেতার হিসেবে ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করায় এটি রাজনৈতিক মাফিক একটি নতুন সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাদের পরপর তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানও শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হলে বিরোধীদলীয় নেতাদের নেতৃত্বে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা শহীদ মিনারে প্রবেশ করেন এবং তাদের শ্রদ্ধানিবেদন শুরু হয়।

দিবসটি উপলক্ষে প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশেপাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সর্বসাধারণের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের একুশের উদযাপন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী একুশের মূল চেতনা হিসেবে জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত ও তাদের জোটের এই আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধানিবেদন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন একটি ধারার সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যেই পালিত হয়েছে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমবার আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানালো জামায়াত

প্রকাশিতঃ ০৩:২৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে দেশের ইতিহাসে এক অনবদ্য দৃশ্য প্রত্যক্ষ করল জনসাধারণ। শনিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষনেতারা প্রথমবারের মতো পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের পর তারা শহীদ বেদির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এটিএম আজহারুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জামায়াতের এই পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন। তাদের ব্যাখ্যায়, অতীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা প্রদানের নজির ছিল না। এবার দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ হিসেবে এবং বিরোধীদলীয় নেতার হিসেবে ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করায় এটি রাজনৈতিক মাফিক একটি নতুন সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাদের পরপর তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানও শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হলে বিরোধীদলীয় নেতাদের নেতৃত্বে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা শহীদ মিনারে প্রবেশ করেন এবং তাদের শ্রদ্ধানিবেদন শুরু হয়।

দিবসটি উপলক্ষে প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশেপাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সর্বসাধারণের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের একুশের উদযাপন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী একুশের মূল চেতনা হিসেবে জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত ও তাদের জোটের এই আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধানিবেদন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন একটি ধারার সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যেই পালিত হয়েছে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।