০৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একনেকসহ তিনটি মন্ত্রিসভা-সংক্রান্ত কমিটি পুনর্গঠন সরওয়ার আলম আবার রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এক ঘণ্টায় খিলগাঁও থেকে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার ঈদুল ফিতরের ট্রেনযাত্রা: ৩ মার্চ থেকে শুরু অগ্রিম টিকিট বিক্রি ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চাঁদাবাজি ২০–৫০ শতাংশ বৃদ্ধি: ডিসিসিআই প্রান্তিকদের সেবা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ ধর্মব্যবসায়ী ও জুলুমবাজদের স্থান নেই বাংলাদেশে: ধর্মমন্ত্রী নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় জিতে ভারতের সেমিফাইনাল আশা কঠিন পথে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১০৭ রানের বড় জয়ের ফলে ভারতের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা গুরুতরভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে ক্যারিবীয়দের এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্স কেবল একটি ম্যাচ হার নয়—পুরো গ্রুপের গাণিতিক হিসেবই উল্টে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পর থেকেই চাপের মুখে থাকা সূর্যকুমার যাদবের দল এখন কেবল জয়ের দিকে না দেখে বড় ব্যবধানে জয়ের দিকে তাকাতে বাধ্য।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শিমরন হেটমায়ারের দ্রুত ৩৪ বলে ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংস এবং অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলের ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের ফলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ গড়ে তোলে ৬ উইকেটে ২৫৪ রানের লতিকা। ওই রানপঞ্জি তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারায়; স্পিনার গুডাকেশ মোটির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ১০০ রানেরও বেশি ব্যবধানে হেরে যায়। এই জয়ের ফলে কেবল পয়েন্ট তালিকায় নয়, নেট রানরেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় লাফ দিয়েছে—এটাই সরাসরি ভারতের ভাগ্যে প্রভাব ফেলেছে।

বর্তমানে ভারতের নেট রানরেট -3.800, যা এই পর্যায়ের জন্য উদ্বেগজনকভাবে নিচে। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত রাখতে হলে ভারতের কাছে আর কেবল দুটি জয়ের প্রয়োজন নেই—প্রতিটি জয়ে বড় ব্যবধানে জয় এনে নেট রানরেট দ্রুত উন্নত করতেও হবে। আগামীকাল চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরমে ভারত জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে; একই দিনে আহমেদাবাদের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তার উপর ভারতের সেমিফাইনাল পরিণতি নাকি সাহস পাবে, তা নির্ভর করছে এই দুই ম্যাচের ফলাফলের উপরে।

গাণিতিকভাবে ভারতের সামনে এখন মূলত দুই পথ খুলে আছে। যদি ভারত জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ—উভয়ের বিরুদ্ধে জিততে পারে, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ৪। সেই অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকা যদি পরবর্তী সব ম্যাচ জেতে, তবেই ভারত দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারে উঠতে পারবে। কিন্তু যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায়, তখন ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ—এই তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে দাঁড়াবে (প্রতিটি ৪) এবং সেমিফাইনাল বাছাই হবে নেট রানরেটের ভিত্তিতে। যেহেতু ভারতের রানরেট এখন বেশ নিচে, তাই জামিনহীন জয়ের বদলে ‘রানের পাহাড়’ গড়েই জেতে তাদের আর কোনো বিকল্প নেই।

অন্যদিকে ভারতের পথেই যদি একটাও ম্যাচ হার হয়, তাহলে বিদায় প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হবে। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের মতো কম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে কোনো পয়েন্ট হারানো হলে তা অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এমন এক পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য কাজটা দ্বিগুণ কঠিন: প্রথমত জয়, তারপর বড় ব্যবধানে জয়—আর সবশেষে সংগ্রহ করা রানগুলো নেট রানরেটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে হবে।

সব মিলিয়ে এখন India’s প্রতিটি ম্যাচই একেকটি ‘অলিখিত ফাইনাল’—প্রতিটি রানের দাবি, প্রতিটি ওভারের মূল্য। খেলার মাঠে সম্মুখে দাঁড়িয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে, আর সমীকরণ বদলাতে বড় জয়ের প্রয়োজন হবে। ভারতের সেমিফাইনাল স্বপ্ন বাঁচবে কি না, তা এখন তাদের নিজের পারফরম্যান্সের সাথে পাশাপাশি অন্য ফলাফলগুলোর ওপরও নির্ভর করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় জিতে ভারতের সেমিফাইনাল আশা কঠিন পথে

প্রকাশিতঃ ০৬:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১০৭ রানের বড় জয়ের ফলে ভারতের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা গুরুতরভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে ক্যারিবীয়দের এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্স কেবল একটি ম্যাচ হার নয়—পুরো গ্রুপের গাণিতিক হিসেবই উল্টে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পর থেকেই চাপের মুখে থাকা সূর্যকুমার যাদবের দল এখন কেবল জয়ের দিকে না দেখে বড় ব্যবধানে জয়ের দিকে তাকাতে বাধ্য।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শিমরন হেটমায়ারের দ্রুত ৩৪ বলে ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংস এবং অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলের ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের ফলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ গড়ে তোলে ৬ উইকেটে ২৫৪ রানের লতিকা। ওই রানপঞ্জি তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারায়; স্পিনার গুডাকেশ মোটির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ১০০ রানেরও বেশি ব্যবধানে হেরে যায়। এই জয়ের ফলে কেবল পয়েন্ট তালিকায় নয়, নেট রানরেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় লাফ দিয়েছে—এটাই সরাসরি ভারতের ভাগ্যে প্রভাব ফেলেছে।

বর্তমানে ভারতের নেট রানরেট -3.800, যা এই পর্যায়ের জন্য উদ্বেগজনকভাবে নিচে। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত রাখতে হলে ভারতের কাছে আর কেবল দুটি জয়ের প্রয়োজন নেই—প্রতিটি জয়ে বড় ব্যবধানে জয় এনে নেট রানরেট দ্রুত উন্নত করতেও হবে। আগামীকাল চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরমে ভারত জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে; একই দিনে আহমেদাবাদের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তার উপর ভারতের সেমিফাইনাল পরিণতি নাকি সাহস পাবে, তা নির্ভর করছে এই দুই ম্যাচের ফলাফলের উপরে।

গাণিতিকভাবে ভারতের সামনে এখন মূলত দুই পথ খুলে আছে। যদি ভারত জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ—উভয়ের বিরুদ্ধে জিততে পারে, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ৪। সেই অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকা যদি পরবর্তী সব ম্যাচ জেতে, তবেই ভারত দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারে উঠতে পারবে। কিন্তু যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায়, তখন ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ—এই তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে দাঁড়াবে (প্রতিটি ৪) এবং সেমিফাইনাল বাছাই হবে নেট রানরেটের ভিত্তিতে। যেহেতু ভারতের রানরেট এখন বেশ নিচে, তাই জামিনহীন জয়ের বদলে ‘রানের পাহাড়’ গড়েই জেতে তাদের আর কোনো বিকল্প নেই।

অন্যদিকে ভারতের পথেই যদি একটাও ম্যাচ হার হয়, তাহলে বিদায় প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হবে। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের মতো কম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে কোনো পয়েন্ট হারানো হলে তা অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এমন এক পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য কাজটা দ্বিগুণ কঠিন: প্রথমত জয়, তারপর বড় ব্যবধানে জয়—আর সবশেষে সংগ্রহ করা রানগুলো নেট রানরেটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে হবে।

সব মিলিয়ে এখন India’s প্রতিটি ম্যাচই একেকটি ‘অলিখিত ফাইনাল’—প্রতিটি রানের দাবি, প্রতিটি ওভারের মূল্য। খেলার মাঠে সম্মুখে দাঁড়িয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে, আর সমীকরণ বদলাতে বড় জয়ের প্রয়োজন হবে। ভারতের সেমিফাইনাল স্বপ্ন বাঁচবে কি না, তা এখন তাদের নিজের পারফরম্যান্সের সাথে পাশাপাশি অন্য ফলাফলগুলোর ওপরও নির্ভর করছে।