০৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রয়টার্স: ইরান চীনের সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। এই তথ্যটি চুক্তির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছয়টি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চীনে তৈরি সিএম-৩০২ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনা মূলত শেষের দিকে। তবে সরবরাহ কখন শুরু হবে—তার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে নেয়া হচ্ছে যখন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের উপকূলের কাছে বড় নৌবহর মোতায়েন রয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে বলা হয়েছে, সিএম-৩০২-এর কার্যকারী দূরত্ব প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। এগুলো সুপারসনিক গতিতে উড়ে খুব নিচু উচ্চতায় (sea-skimming) চলার সক্ষমতা রাখে, ফলে জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে হামলা চালানো সহজ হয়। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন হলে ইরানের আঘাত করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য তা বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।

চুক্তির পেছনের প্রেক্ষাপট হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা অন্তত দুই বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পরে আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়। গত গ্রীষ্মে ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা চীন সফর করেন; ওই সফরে ইরানের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসউদ ওরাইও উপস্থিত ছিলেন।

ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর গবেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোয়িক্জ মন্তব্য করেছেন, “ইরান যদি জাহাজে হামলার জন্য সুপারসনিক সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে পুরো পরিস্থিতিই বদলে যাবে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।”

রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তিতে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে, তাদের দাম কত হবে এবং চীন শেষ পর্যন্ত এসব সরবরাহ করবে কি না—এসব বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “ইরানের মিত্রদের সঙ্গে আমাদের সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে, এবং এখন সেই চুক্তিগুলো প্রয়োগের উপযুক্ত সময়।”

জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা প্রতিনিধিদল মন্তব্যের জন্য বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছে; তবে এখন পর্যন্ত বেইজিং থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসও সরাসরি মন্তব্য করেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—“হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছব, নয়তো আগের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এ মুহূর্তে কাগজে কলমে নিশ্চিত কোনো চুক্তি বা সরবরাহ সূচি প্রকাশ হয়নি; তাই অঞ্চলে গঠনগত প্রভাব ও নিরাপত্তার প্রশ্নগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এখনও অনিশ্চয়তা আছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রয়টার্স: ইরান চীনের সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে

প্রকাশিতঃ ১০:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। এই তথ্যটি চুক্তির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছয়টি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চীনে তৈরি সিএম-৩০২ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনা মূলত শেষের দিকে। তবে সরবরাহ কখন শুরু হবে—তার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে নেয়া হচ্ছে যখন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের উপকূলের কাছে বড় নৌবহর মোতায়েন রয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে বলা হয়েছে, সিএম-৩০২-এর কার্যকারী দূরত্ব প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। এগুলো সুপারসনিক গতিতে উড়ে খুব নিচু উচ্চতায় (sea-skimming) চলার সক্ষমতা রাখে, ফলে জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে হামলা চালানো সহজ হয়। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন হলে ইরানের আঘাত করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য তা বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।

চুক্তির পেছনের প্রেক্ষাপট হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা অন্তত দুই বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পরে আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়। গত গ্রীষ্মে ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা চীন সফর করেন; ওই সফরে ইরানের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসউদ ওরাইও উপস্থিত ছিলেন।

ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর গবেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোয়িক্জ মন্তব্য করেছেন, “ইরান যদি জাহাজে হামলার জন্য সুপারসনিক সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে পুরো পরিস্থিতিই বদলে যাবে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।”

রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তিতে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে, তাদের দাম কত হবে এবং চীন শেষ পর্যন্ত এসব সরবরাহ করবে কি না—এসব বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “ইরানের মিত্রদের সঙ্গে আমাদের সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে, এবং এখন সেই চুক্তিগুলো প্রয়োগের উপযুক্ত সময়।”

জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা প্রতিনিধিদল মন্তব্যের জন্য বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছে; তবে এখন পর্যন্ত বেইজিং থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসও সরাসরি মন্তব্য করেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—“হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছব, নয়তো আগের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এ মুহূর্তে কাগজে কলমে নিশ্চিত কোনো চুক্তি বা সরবরাহ সূচি প্রকাশ হয়নি; তাই অঞ্চলে গঠনগত প্রভাব ও নিরাপত্তার প্রশ্নগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এখনও অনিশ্চয়তা আছে।