০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

বদলগাছীতে স্কুলের গাঙ্গে পুকুর খনন: ছোটদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গা ঘেঁষে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন—ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে মিঠাপুর এলাকার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের গ্রামের জমি থেকে এই খনন কাজ চলছে। কাজটি মাঠভর্তি মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে বলে অভিযুক্তরা বলছেন।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় এক একর জমিতে গভীরভাবে পুকুর খননের কাজ শুরু করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পুকুর খননের দূরত্ব মাত্র চার ফুটের মতো; পুকুরের গভীরতা প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে ১৫–২০ ফুট। পুকুরটির দক্ষিণদিকে পাকা রাস্তা, উত্তরে মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ—সব মিলিয়ে চারপাশে শিশুবহুল এলাকা হওয়ায় স্থানীয়রা এ 일을 অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন।

বক্তব্যে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও ওই উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ‘‘মাটি বিক্রি করা হচ্ছে না, শুধু পার বাঁধা হচ্ছে। আমি এখানকার স্থানীয় লোক—বিদ্যালয়ের মংলেই দেখাশোনা করব।’’ তিনি আরও বলেছেন, প্রয়োজন মনে হলে স্থানীয় জনগণ, স্কুল ও ইউএনও মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং বিষয়টি আলোচনা করে সমাধান করা হবে।

অন্যদিকে পুকুর খনন কাজে যুক্ত মাটি ব্যবসায়ী সৈকত জানান, ‘‘সংস্কারের কারণে কিছু মাটি উঠে যায়, সেগুলো আমরা নিয়ে যাই। মাটিগুলো ইটভাটায় বা ভরাট কাজে লাগে। প্রশাসন কিছু অনুমতি দেয়নি—কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ খননের কথা বলেছে।’’ তিনি বলেন, কাজটি এক্সকাভেটর দিয়ে করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বলেছেন, ‘‘খনন শুরু হওয়ার সময় আমরা সকল শিক্ষক মিলে বাধা দিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কাজ বন্ধ হয়নি। আমি পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি। এখানে পুকুর করলে যে কোনো সময় শিশুদের বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এটাই আমাদের উদ্বেগ।’’

মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েতও জানিয়েছেন, ওই জমি তাদের স্কুলেরই এবং সেখানে একটি 오래 লেগে থাকা ডোবা ছিল। তিনি বলেন, ‘‘জলাধার ভরাট করে সংস্কার করা হবে—এই উদ্দেশ্য দেখিয়েই খনন চলছে বলে জানানো হয়েছে।’’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বিষয়টি জানেন এবং তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর কথাও উল্লেখ করেন। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুকুর খনন কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও গ্রামবাসীরা এখন আতঙ্কে রয়েছেন। তারা শিশুসুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত কাজ বন্ধ করে নিরাপদ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

বদলগাছীতে স্কুলের গাঙ্গে পুকুর খনন: ছোটদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

প্রকাশিতঃ ০৮:০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গা ঘেঁষে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন—ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে মিঠাপুর এলাকার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের গ্রামের জমি থেকে এই খনন কাজ চলছে। কাজটি মাঠভর্তি মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে বলে অভিযুক্তরা বলছেন।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় এক একর জমিতে গভীরভাবে পুকুর খননের কাজ শুরু করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পুকুর খননের দূরত্ব মাত্র চার ফুটের মতো; পুকুরের গভীরতা প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে ১৫–২০ ফুট। পুকুরটির দক্ষিণদিকে পাকা রাস্তা, উত্তরে মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ—সব মিলিয়ে চারপাশে শিশুবহুল এলাকা হওয়ায় স্থানীয়রা এ 일을 অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন।

বক্তব্যে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও ওই উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ‘‘মাটি বিক্রি করা হচ্ছে না, শুধু পার বাঁধা হচ্ছে। আমি এখানকার স্থানীয় লোক—বিদ্যালয়ের মংলেই দেখাশোনা করব।’’ তিনি আরও বলেছেন, প্রয়োজন মনে হলে স্থানীয় জনগণ, স্কুল ও ইউএনও মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং বিষয়টি আলোচনা করে সমাধান করা হবে।

অন্যদিকে পুকুর খনন কাজে যুক্ত মাটি ব্যবসায়ী সৈকত জানান, ‘‘সংস্কারের কারণে কিছু মাটি উঠে যায়, সেগুলো আমরা নিয়ে যাই। মাটিগুলো ইটভাটায় বা ভরাট কাজে লাগে। প্রশাসন কিছু অনুমতি দেয়নি—কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ খননের কথা বলেছে।’’ তিনি বলেন, কাজটি এক্সকাভেটর দিয়ে করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বলেছেন, ‘‘খনন শুরু হওয়ার সময় আমরা সকল শিক্ষক মিলে বাধা দিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কাজ বন্ধ হয়নি। আমি পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি। এখানে পুকুর করলে যে কোনো সময় শিশুদের বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এটাই আমাদের উদ্বেগ।’’

মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েতও জানিয়েছেন, ওই জমি তাদের স্কুলেরই এবং সেখানে একটি 오래 লেগে থাকা ডোবা ছিল। তিনি বলেন, ‘‘জলাধার ভরাট করে সংস্কার করা হবে—এই উদ্দেশ্য দেখিয়েই খনন চলছে বলে জানানো হয়েছে।’’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বিষয়টি জানেন এবং তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর কথাও উল্লেখ করেন। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুকুর খনন কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও গ্রামবাসীরা এখন আতঙ্কে রয়েছেন। তারা শিশুসুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত কাজ বন্ধ করে নিরাপদ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।