১০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী ছুটির দিনেও অফিসে সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন, ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তীব্র

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ব্যাপক মোতায়েন অঞ্চলটিতে সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং কূটনৈতিক উত্তেজনাকে তীব্র করেছে।

ওপেন সোর্স গোয়েন্দা রিপোর্ট উদ্ধৃত করে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবহর প্রধানত কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি ঘাঁটি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রে রয়েছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই মার্কিন সেন্টকম প্রায় ২৭০টি সি-১৭ এবং সি-৫ লজিস্টিক বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করে এই বাহিনী একত্রিত করেছে। এসব লজিস্টিক স্তরে প্যাট্রিয়ট এবং থাড (Terminal High Altitude Area Defense) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিবহন করা হয়েছে।

মোতায়েন হওয়া বিমানবহরের প্রায় ৭০ শতাংশ আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান এবং বাকি ৩০ শতাংশ সহায়ক সাপোর্ট প্লেন। এদের মধ্যে আনুমানিক ৮৪টি এফ/এ-১৮, ৩৬টি এফ-১৫, ৪৮টি এফ-১৬ এবং ৪২টি এফ-৩৫ রয়েছে। তদুপরি ট্যাঙ্কার বিমান ও বিশেষ হুমকি মোকাবেলার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে—১৮টি ইএ-১৮জি গ্রোলার ইলেকট্রনিক যুদ্ধে দক্ষ বিমান, ১২টি এ-১০সি থান্ডারবোল্ট, ৫টি ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশনস নোড এবং ৬টি ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AWACS)।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বলে অভিযোগে থাকা বি-২ বোমারু বিমানের কোনো গতিবিধি নজরে পড়েনি।

ইসরায়েলের ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্রের এই মোতায়েনের বাইরে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলও গোপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে রয়েছে প্রায় ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ এবং ৪৮টি নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, যা প্রয়োজনে মার্কিন বিমানশক্তিকে কার্যত দ্বিগুণ করা যেতে পারে।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কান জানিয়েছে, সম্প্রতি ইসরায়েল ১২টি মার্কিন এফ-২২ র‍্যাপ্টার স্টেলথ ফাইটারও গ্রহণ করেছে। এসব অত্যাধুনিক বিমান ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যবহৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

এদিকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার আলোচনা বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুশিয়ারি অংশে বলেছেন যে তিনি কূটনীতি চাইলেও প্রয়োজনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহার করতেও পিছু হটবেন না। ট্রাম্প স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন বক্তৃতায় বলেন, কূটনীতি প্রাধান্য পাবে, তবে তিনি ইরানকে কখনই পরমাণু অস্ত্র ধারণ করতে দেবেন না।

ট্রাম্প আরও আশঙ্কা জানান যে ইরান ইতোমধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম, এবং তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্রও উন্নয়ন করছে যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছতে পারে।

ইরান অবশ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, ফলে জেনেভায় আলোচনার ফলাফলকে সবাই শক্তভাবে নজর দিচ্ছে।

সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক মিলনের এই যুগলবন্দি মধ্যপ্রাচ্যে বিরোধ তীব্র করার সম্ভাবনা রাখে এবং আগামী বৈঠকগুলোই পরিস্থিতির ভবিষ্যত প্রবণতা নির্ধারণ করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন, ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তীব্র

প্রকাশিতঃ ১০:০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ব্যাপক মোতায়েন অঞ্চলটিতে সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং কূটনৈতিক উত্তেজনাকে তীব্র করেছে।

ওপেন সোর্স গোয়েন্দা রিপোর্ট উদ্ধৃত করে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবহর প্রধানত কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি ঘাঁটি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রে রয়েছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই মার্কিন সেন্টকম প্রায় ২৭০টি সি-১৭ এবং সি-৫ লজিস্টিক বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করে এই বাহিনী একত্রিত করেছে। এসব লজিস্টিক স্তরে প্যাট্রিয়ট এবং থাড (Terminal High Altitude Area Defense) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিবহন করা হয়েছে।

মোতায়েন হওয়া বিমানবহরের প্রায় ৭০ শতাংশ আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান এবং বাকি ৩০ শতাংশ সহায়ক সাপোর্ট প্লেন। এদের মধ্যে আনুমানিক ৮৪টি এফ/এ-১৮, ৩৬টি এফ-১৫, ৪৮টি এফ-১৬ এবং ৪২টি এফ-৩৫ রয়েছে। তদুপরি ট্যাঙ্কার বিমান ও বিশেষ হুমকি মোকাবেলার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে—১৮টি ইএ-১৮জি গ্রোলার ইলেকট্রনিক যুদ্ধে দক্ষ বিমান, ১২টি এ-১০সি থান্ডারবোল্ট, ৫টি ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশনস নোড এবং ৬টি ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AWACS)।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বলে অভিযোগে থাকা বি-২ বোমারু বিমানের কোনো গতিবিধি নজরে পড়েনি।

ইসরায়েলের ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্রের এই মোতায়েনের বাইরে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলও গোপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে রয়েছে প্রায় ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ এবং ৪৮টি নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, যা প্রয়োজনে মার্কিন বিমানশক্তিকে কার্যত দ্বিগুণ করা যেতে পারে।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কান জানিয়েছে, সম্প্রতি ইসরায়েল ১২টি মার্কিন এফ-২২ র‍্যাপ্টার স্টেলথ ফাইটারও গ্রহণ করেছে। এসব অত্যাধুনিক বিমান ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যবহৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

এদিকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার আলোচনা বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুশিয়ারি অংশে বলেছেন যে তিনি কূটনীতি চাইলেও প্রয়োজনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহার করতেও পিছু হটবেন না। ট্রাম্প স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন বক্তৃতায় বলেন, কূটনীতি প্রাধান্য পাবে, তবে তিনি ইরানকে কখনই পরমাণু অস্ত্র ধারণ করতে দেবেন না।

ট্রাম্প আরও আশঙ্কা জানান যে ইরান ইতোমধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম, এবং তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্রও উন্নয়ন করছে যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছতে পারে।

ইরান অবশ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, ফলে জেনেভায় আলোচনার ফলাফলকে সবাই শক্তভাবে নজর দিচ্ছে।

সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক মিলনের এই যুগলবন্দি মধ্যপ্রাচ্যে বিরোধ তীব্র করার সম্ভাবনা রাখে এবং আগামী বৈঠকগুলোই পরিস্থিতির ভবিষ্যত প্রবণতা নির্ধারণ করবে।