০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

ইলিশ সংরক্ষণের জন্য রোববার থেকে দুই মাসের জন্য মাছ ধরা নিষেধ

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে চলতি রবিবার ১ মার্চ থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসের জন্য নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, জাল ফেলা, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতকরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজনন সুস্থভাবে চলতে দেওয়া এবং ইলিশের দুর্বল জনসংখ্যা রক্ষা করা।

ভোলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, নিশ্চিতভাবে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। যারা এই নিয়ম অমান্য করে নদীতে মাছ ধরা বা জাল ফেলা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, জেলেদের অমান্যকারী চলাচলের জন্য জেল-জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির প্রকোৎসাহনা দেওয়া হয়েছে। জেলেদের আরও প্রেরণা দেওয়ার জন্য এই সময়ে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস ও স্থানীয় জেলেদের তথ্য অনুসারে, ভোলার মোট জেলে সংখ্যা প্রায় ২ লাখের বেশি। এর মধ্যে নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৩৫। এই জেলেরা মূলত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে, মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত এবং তেঁতুলিয়া নদীর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই এলাকাগুলোর চারপাশে নদী ও উপকূলীয় মাছঘাটগুলোতে নিয়মিত মাইকিং ও পোস্টারিং এর মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগ ব্যাপক সচেতনতা প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে, যাতে জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মানতে উৎসাহিত হয়।

এছাড়া, নিষেধাজ্ঞার সময় নদী ও উপকূলের বরফকলগুলো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক মাছের সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

ইলিশ সংরক্ষণের জন্য রোববার থেকে দুই মাসের জন্য মাছ ধরা নিষেধ

প্রকাশিতঃ ০৪:৪৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে চলতি রবিবার ১ মার্চ থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসের জন্য নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, জাল ফেলা, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতকরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজনন সুস্থভাবে চলতে দেওয়া এবং ইলিশের দুর্বল জনসংখ্যা রক্ষা করা।

ভোলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, নিশ্চিতভাবে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। যারা এই নিয়ম অমান্য করে নদীতে মাছ ধরা বা জাল ফেলা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, জেলেদের অমান্যকারী চলাচলের জন্য জেল-জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির প্রকোৎসাহনা দেওয়া হয়েছে। জেলেদের আরও প্রেরণা দেওয়ার জন্য এই সময়ে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস ও স্থানীয় জেলেদের তথ্য অনুসারে, ভোলার মোট জেলে সংখ্যা প্রায় ২ লাখের বেশি। এর মধ্যে নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৩৫। এই জেলেরা মূলত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে, মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত এবং তেঁতুলিয়া নদীর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই এলাকাগুলোর চারপাশে নদী ও উপকূলীয় মাছঘাটগুলোতে নিয়মিত মাইকিং ও পোস্টারিং এর মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগ ব্যাপক সচেতনতা প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে, যাতে জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মানতে উৎসাহিত হয়।

এছাড়া, নিষেধাজ্ঞার সময় নদী ও উপকূলের বরফকলগুলো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক মাছের সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।