ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর করাচির মাই কলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে আজ রোববার (১ মার্চ) বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ছয় জন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছে বলে স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধারকারী সংস্থা এধি ফাউন্ডেশনের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিবরণে জানা গেছে, সকালেই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল খামেনির মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করলে স্থানীয় শিয়া সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। অনেক বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-বিরোধী স্লোগান দিয়ে দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গতিরোধ করে।
বিক্ষোভ ছত্রভাঙা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয় বলে উদ্ধারকারী সংস্থা এধি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা এবং দূতাবাসের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তাঁরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
করাচি সিভিল হাসপাতালের পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সাঈদ জানান, সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে এসেছে এবং কয়েকজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে তৎপর রয়েছেন।
ঘটনার পর থেকেই পুরো করাচি শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পরিস্থিতি আরো লাঠে না যায়।
উল্লেখ্য, প্রতিবাদ কেবল করাচিতেই সীমাবদ্ধ নয়—পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানসহ কয়েকটি অঞ্চলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে প্রকাশ্যে যে ক্রোধ এবং অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তা দ্রুত স্বাভাবিক করতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 





















