আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর উদ্ভূত শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইরান এসে পড়েছে নতুন নেতা নির্বাচন করার জটিল প্রক্রিয়ার সামনে — এবং তা এক থেকে দু’দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতারভিত্তিক আলজাজিরাকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ইরানের সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তরাধিকার নির্ণয়ের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
আরাগচি জানান, বর্তমানে রাষ্ট্রের স্থায়ী সর্বোচ্চ নেতৃত্ব অনুপস্থিত রয়েছে; তাই প্রেসিডেন্ট, বিচারবিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের একজন ফকিহকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের এক অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস) দ্রুত সময়ের মধ্যে খামেনির স্থায়ী উত্তরসূরি নির্বাচন করে দেবে এবং আইনানুগভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।
রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানও রাষ্ট্র টেলিভিশনে এক ভাষণে এই উত্তরাধিকার কাউন্সিলের কাজ শুরু হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘বিশাল ও জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে সাত দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের শোককাল ঘোষণা করেছেন। কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত শনিবার মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন; সেই হামলায় পরিবারের সদস্যসহ অন্তত ২০১ জনের প্রাণহানির সংবাদ জানানো হয়েছে।
আরাগচি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের এক নজিরবিহীন লঙ্ঘন হিসাবে আখ্যায়িত করে সতর্ক করেছেন যে অঞ্চলটির পরিস্থিতি এখন আরও বিপজ্জনক ও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, খামেনি শুধু ইরানের রাজনৈতিক অভিভাবক ছিলেন না, বরং কোটি কোটি মুসলমানের জন্য তিনি একজন মর্যাদাপূর্ণ ধর্মীয় নেতা ছিলেন। আরাগচি বলেন, মার্কিন ও ইসরাইলি অভিযানের লক্ষ্য সফল হয়নি এবং ইরান কোনো অবস্থাতেই চাপের মুখে আত্মসমর্পণ করবে না। পূর্বের দীর্ঘ যুদ্ধ-দস্যু কাহিনীর উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেছেন যে এবারও ইরান হার মানবে না।
একই সঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এই হামলাকে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা হিসেবে আখ্যায়িত করে ইহুদিবাদী শক্তি ও আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে পড়ছে; তেলের দাম বেড়ে যাওয়া ও আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমে আসার খবর পাওয়া গেছে।
কয়েকটি প্রতিবেদনে ইরানের পালটা হামলার সংবাদের উল্লেখ থাকলেও আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরান তাঁর মুসলিম প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু করতে চায় না এবং এই সংঘাত ইরানের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে অনুরোধ করেন, ইরানের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না বরং হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে কৌশলগত ভূমিকা রাখুন।
সব মিলিয়ে শোক ও অনিশ্চয়তার আবহে ইরান এখন নতুন নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করছে; বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্তে দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 






















