০৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদের জামাত: কোথায় ও কখন?

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় এ বছর মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে — যার মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ ও ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে নামাজে জায়গার ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদের দিনের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাসহ সার্বিক প্রস্তুতির তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। রাজধানীসহ দেশের বেশিরভাগ স্থানে ঈদের জামাত সাধারণত সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হবে।

জাতীয় ঈদগাহ (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ)–এ প্রধান জামাত সকাল সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হবে। ওই প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ উচ্চ পর্যায়ের অতিথিদের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও আবহাওয়া খারাপ হলে বা অন্য কোনো কারণে আয়োজন স্থানান্তর করলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

বায়তুল মোকাররমের মূল খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রধান জামাতের খুতবা দেবেন এবং বিকল্প হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী প্রস্তুত থাকবেন। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারীদের জন্য আলাদা স্থানে ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজু বিভাগ ও নামাজের সুষ্ঠু পরিবেশের পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমও মোতায়েন থাকবে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এবারও নিয়মের মতো পাঁচটি ঈদ জামাত রাখা হয়েছে — সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায়। রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও এলাকার স্থানীয় ঈদগাহগুলোতেও সময়ভেদে নামাজের আয়োজন করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় বড় আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে অংশ নিতে পারবেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজাও সকাল ৮টায় উন্মুক্তভাবে ঈদের জামাতের জন্য রাখা হয়েছে; এতে সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নিতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে — প্রথম সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় সকাল ৯টায়। পাশাপাশি লক্ষ্মীবাজার, গেন্ডারিয়া, মুগদা, মহাখালী, মান্ডা, লালবাগ ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সহ অন্যান্য এলাকায় স্থানীয় সময় অনুযায়ী নামাজের আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রধান জামাত সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল পৌনে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি জামাত আছে। কিশোরগঞ্জের প্রথিতযশা শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে এবার ১৯৯তম বড় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে; ওই জামাতকেন্দ্রে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠে সকাল ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বগুড়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮টায় জেলা স্তরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে; পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ধাপে ধাপে জামাতের আয়োজন করা হবে, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রাখা হয়েছে।

সারাদেশে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে পুলিশের, সেনাবাহিনী ও সহযোগী বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা ও সড়ক-পরিবহন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্মীয় এ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপিত হতে পারে। সংগঠনগুলো জনগণকে সচেতন হওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে — বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিধি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার জন্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদের দিনে মেট্রোরেল সম্পূর্ণ বন্ধ

ঈদের জামাত: কোথায় ও কখন?

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় এ বছর মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে — যার মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ ও ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে নামাজে জায়গার ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদের দিনের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাসহ সার্বিক প্রস্তুতির তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। রাজধানীসহ দেশের বেশিরভাগ স্থানে ঈদের জামাত সাধারণত সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হবে।

জাতীয় ঈদগাহ (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ)–এ প্রধান জামাত সকাল সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হবে। ওই প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ উচ্চ পর্যায়ের অতিথিদের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও আবহাওয়া খারাপ হলে বা অন্য কোনো কারণে আয়োজন স্থানান্তর করলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

বায়তুল মোকাররমের মূল খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রধান জামাতের খুতবা দেবেন এবং বিকল্প হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী প্রস্তুত থাকবেন। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারীদের জন্য আলাদা স্থানে ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজু বিভাগ ও নামাজের সুষ্ঠু পরিবেশের পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমও মোতায়েন থাকবে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এবারও নিয়মের মতো পাঁচটি ঈদ জামাত রাখা হয়েছে — সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায়। রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও এলাকার স্থানীয় ঈদগাহগুলোতেও সময়ভেদে নামাজের আয়োজন করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় বড় আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে অংশ নিতে পারবেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজাও সকাল ৮টায় উন্মুক্তভাবে ঈদের জামাতের জন্য রাখা হয়েছে; এতে সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নিতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে — প্রথম সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় সকাল ৯টায়। পাশাপাশি লক্ষ্মীবাজার, গেন্ডারিয়া, মুগদা, মহাখালী, মান্ডা, লালবাগ ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সহ অন্যান্য এলাকায় স্থানীয় সময় অনুযায়ী নামাজের আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রধান জামাত সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল পৌনে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি জামাত আছে। কিশোরগঞ্জের প্রথিতযশা শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে এবার ১৯৯তম বড় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে; ওই জামাতকেন্দ্রে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠে সকাল ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বগুড়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮টায় জেলা স্তরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে; পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ধাপে ধাপে জামাতের আয়োজন করা হবে, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রাখা হয়েছে।

সারাদেশে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে পুলিশের, সেনাবাহিনী ও সহযোগী বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা ও সড়ক-পরিবহন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্মীয় এ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপিত হতে পারে। সংগঠনগুলো জনগণকে সচেতন হওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে — বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিধি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার জন্য।