১০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা: ভিসা থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয় র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন সময়সূচি — সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা ডব্লিউটিও সংস্কারে মৌলিক নীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে সতর্কতার আহ্বান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোক প্রধানমন্ত্রী সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রামে তিন জাহাজে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘একাত্তর আগে, বাকি সব পরে’ — মুক্তিযুদ্ধকে অন্য ইতিহাসের সঙ্গে মেলাবেন না ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলানো যাবে না

নেশার টাকার জন্য ইজিবাইক ছিনতাই, বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা — তিন arrested

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় নেশার টাকা জোগাতে এক আত্মীয়-পরিচিত অটোচালককে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত রফিক মিয়া (২৮) একই উপজেলার রাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ইজিবাইক চালক ছিলেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, রফিক ২৪ মার্চ বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবার সদস্যরা শনাক্ত করেন। ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তকারীরা প্রথমে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরমান হোসেন ও সজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ইজিবাইকটিও উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই পুলিশের সুপার জয়ীতা শিল্পী শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, রিপন ও রফিক পরিচিত বন্ধু ছিলেন। নেশার টাকার জন্য ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই রিপন হত্যার পরিকল্পনা করে। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে রিপন রফিককে ইজিবাইকে করে পাশবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে যায়। সেখানে আরমান রফিককে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন ছিনিকল দিয়ে রফিকের গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে। ঘটনার সময় আরমান রফিকের দুটি হাত এবং সজিব তার দুটি পা ধরেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে তারা মরদেহ এবং মাথা নদীতে ফেলে দেয়। শরীর ভেসে ওঠে, কিন্তু মাথা পানির ভেতরেই ডুবে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী হত্যার পর দেহের পেট কেটে নদীতীরে মাটিচাপা দেয়া হয়। ঘটনার পর রিপন ভোরে ইজিবাইক নিয়ে সাভারে চলে যায়। একই দিন বিকেলে নদীর তীর থেকে মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পিবিআই আরও জানিয়েছে, রিপনকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কালামপুর বাজারের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সজিবকে গ্রেপ্তার করে এবং কালামপুরের একটি গ্যারেজ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার স্থান ও আশপাশে ডুবুরি দল দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে, কিন্তু এখনো রফিকের মাথা উদ্ধার করা যায়নি; অনুসন্ধান ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং স্বীকারোক্তিতে বলা হয়েছে যে ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয়।

পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, পাশাপাশি রফিকের পরিবারকে যথাযথভাবে জানানো এবং তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

র‍্যাবের ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ

নেশার টাকার জন্য ইজিবাইক ছিনতাই, বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা — তিন arrested

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় নেশার টাকা জোগাতে এক আত্মীয়-পরিচিত অটোচালককে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত রফিক মিয়া (২৮) একই উপজেলার রাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ইজিবাইক চালক ছিলেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, রফিক ২৪ মার্চ বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবার সদস্যরা শনাক্ত করেন। ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তকারীরা প্রথমে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরমান হোসেন ও সজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ইজিবাইকটিও উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই পুলিশের সুপার জয়ীতা শিল্পী শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, রিপন ও রফিক পরিচিত বন্ধু ছিলেন। নেশার টাকার জন্য ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই রিপন হত্যার পরিকল্পনা করে। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে রিপন রফিককে ইজিবাইকে করে পাশবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে যায়। সেখানে আরমান রফিককে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন ছিনিকল দিয়ে রফিকের গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে। ঘটনার সময় আরমান রফিকের দুটি হাত এবং সজিব তার দুটি পা ধরেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে তারা মরদেহ এবং মাথা নদীতে ফেলে দেয়। শরীর ভেসে ওঠে, কিন্তু মাথা পানির ভেতরেই ডুবে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী হত্যার পর দেহের পেট কেটে নদীতীরে মাটিচাপা দেয়া হয়। ঘটনার পর রিপন ভোরে ইজিবাইক নিয়ে সাভারে চলে যায়। একই দিন বিকেলে নদীর তীর থেকে মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পিবিআই আরও জানিয়েছে, রিপনকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কালামপুর বাজারের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সজিবকে গ্রেপ্তার করে এবং কালামপুরের একটি গ্যারেজ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার স্থান ও আশপাশে ডুবুরি দল দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে, কিন্তু এখনো রফিকের মাথা উদ্ধার করা যায়নি; অনুসন্ধান ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং স্বীকারোক্তিতে বলা হয়েছে যে ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয়।

পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, পাশাপাশি রফিকের পরিবারকে যথাযথভাবে জানানো এবং তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।