খেলাধুলায় সাফল্য সই করা খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বলেছেন, যারা বিজয়ীর পুরস্কার পেয়েছেন তাদের প্রত্যেকেরই প্রতিপক্ষ ছিল; সেই প্রতিপক্ষই আপনাকে বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, খেলাধুলায় পরাজয় মানেই আত্মসমর্পণ নয়, বরং জয়েরই এক অংশ।
সোমবার (৩০ মার্চ) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ক্রীড়াভাতা বিতরণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সম্মাননা গ্রহণ করা খেলোয়াড়, তাদের পরিবার, কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আলবার্ট আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন, যে মানুষটি কখনও পরাজিত হয়নি, সে কখনও কিছুই করে নাই—এ কথাই আমাদের শিক্ষণীয়। তিনি অনুরোধ করেন, যাঁরা খেলায় সাফল্য অর্জন করবেন, তারা যেন নিজের পছন্দের খেলা পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিরাপদভাবে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারেন। এজন্য বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের জন্য ধারাবাহিক এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে, যাতে একজন খেলোয়াড় ও তার পরিবারের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দুর করা যায়।
তারেক রহমান জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচির আওতায়—পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড, ধর্মীয় গুরুকে সম্মানী, খাল খনন কর্মসূচি চলছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ কার্যক্রম শুরু হবে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে ‘ক্রীড়া কার্ড’ কার্যকর করা হলো এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়রাও এই কার্ড পাবে। ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ নীতিতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদেরও দেশের ভেতর ও বাইরে খেলাধুলায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার একাধিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে—এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলছেন, বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবল দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলেও আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারাম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল, ব্যাডমিন্টনসহ আরও অনেক খেলা সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সাফ নারী ফুটবলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে—এটি দেশের ক্রীড়া বৈচিত্র্যের উদাহরণ।
শিক্ষা ক্যারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার সঙ্গে খেলাধূলার ভারসাম্য রেখেই শিশুরা ছোট থেকেই খেলাধুলায় অংশ নেবে এবং দক্ষতাবিকাশ ঘটবে—এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে।
একইসঙ্গে তিনি জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’—যা আগেও শিশু-কিশোরদের প্রতিভা আবিষ্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল—আবার নতুন আঙিনায় চলে আসছে। আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারাদেশে ওই প্রকল্পের আয়োজন শুরু হবে।
সংবিধান ও দলীয় দ্বন্দ্বের বাইরে থেকে নিজেকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন, দেশপ্রেম, একাগ্রতা ও টিম স্পিরিট থাকলে খেলোয়াড়রা বিশ্ব ক্রীড়া পরিমণ্ডলে দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারবে। তিনি খেলোয়াড়দের অনুরোধ করেন, পেশাদার জীবনে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব না করে ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে এবং দেশে-বিদেশে জয়মাল্য বরণ করে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়াতে কাজ করবেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























