০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
তথ্যমন্ত্রী: ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি ও পরিবেশের জটিল যোগসূত্র তরুণদের অনুধাবন করতে হবে দুদকে আবেদন: আসিফ নজরুল ও মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধান দাবি কলমে ছদ্মবেশী ‘পেনগান’—রাসেলকে হত্যাচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগ হামের টিকাদান শুরু ২০ এপ্রিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী সংসদে পাস সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) ২০২৬ — আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই রাখল বিল অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে টিকা কর্মসূচি বিঘ্নিত: ডা. মুশতাকের অভিযোগ ১৮ এপ্রিল থেকে ২০২৬ হজ ফ্লাইট শুরু হবে — ধর্মমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ৯টি অধ্যাদেশ বিল হিসেবে সংসদে পাস করোনা ভ্যাকসিনে খরচ ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কাগজবিহীন কাস্টমসের দিকে একসাথে: এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করতে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে — অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফএক্সটিএমএস)-এর আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এই সংযোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লেনদেনের তথ্য রিয়েল-টাইমে কাস্টমস প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, ফলে কাগজভিত্তিক পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমবে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রমের পাইলটিং শুরু হয়। বিকেলে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

আগে ব্যাংক থেকে প্রত্যয়িত কমার্শিয়াল ইনভয়েস কাস্টমসে কাগজ আকারে জমা দিতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় এফএক্সটিএমএস থেকে সরাসরি এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে ইনভয়েসের তথ্য আপলোড হবে। ফলে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ীদের জন্য কাস্টমস অফিসে আলাদা করে কাগজ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং পুরো যাচাই প্রক্রিয়াটি অনলাইনেই সম্পন্ন হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, কমার্শিয়াল ইনভয়েস যাচাই এখন সম্পূর্ণ অনলাইন ও রিয়েল-টাইম হবে, ফলে কাগজপত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এর ফলে রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে এবং রাজস্ব ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে। আমদানি-রপ্তানি পণ্যের খালাস হবে দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত—ট্রেডিং কমিউনিটির সময় ও খরচ বাঁচবে। পাশাপাশি এই স্বয়ংক্রিয় সমন্বয় ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং প্রতিরোধেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনবিআর জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও ট্রেড রিপোর্টিংয়ের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেস গড়ে উঠবে। পাইলট পর্যায়ে কাজ সাফল্যমণ্ডিত হলে ধাপে ধাপে বিল অব এন্ট্রিতে (Bill of Entry) কমার্শিয়াল ইনভয়েস সংযোজন বাধ্যতামূলক করা হবে।

সংযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সমন্বিত প্রকল্প কাগজবিহীন কাস্টমস ব্যবস্থার দিকে বড় এক অগ্রগতি। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজ হবে, কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সব স্তরের ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দুদকে আবেদন: আসিফ নজরুল ও মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধান দাবি

কাগজবিহীন কাস্টমসের দিকে একসাথে: এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করতে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে — অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফএক্সটিএমএস)-এর আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এই সংযোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লেনদেনের তথ্য রিয়েল-টাইমে কাস্টমস প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, ফলে কাগজভিত্তিক পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমবে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রমের পাইলটিং শুরু হয়। বিকেলে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

আগে ব্যাংক থেকে প্রত্যয়িত কমার্শিয়াল ইনভয়েস কাস্টমসে কাগজ আকারে জমা দিতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় এফএক্সটিএমএস থেকে সরাসরি এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে ইনভয়েসের তথ্য আপলোড হবে। ফলে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ীদের জন্য কাস্টমস অফিসে আলাদা করে কাগজ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং পুরো যাচাই প্রক্রিয়াটি অনলাইনেই সম্পন্ন হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, কমার্শিয়াল ইনভয়েস যাচাই এখন সম্পূর্ণ অনলাইন ও রিয়েল-টাইম হবে, ফলে কাগজপত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এর ফলে রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে এবং রাজস্ব ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে। আমদানি-রপ্তানি পণ্যের খালাস হবে দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত—ট্রেডিং কমিউনিটির সময় ও খরচ বাঁচবে। পাশাপাশি এই স্বয়ংক্রিয় সমন্বয় ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং প্রতিরোধেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনবিআর জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও ট্রেড রিপোর্টিংয়ের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেস গড়ে উঠবে। পাইলট পর্যায়ে কাজ সাফল্যমণ্ডিত হলে ধাপে ধাপে বিল অব এন্ট্রিতে (Bill of Entry) কমার্শিয়াল ইনভয়েস সংযোজন বাধ্যতামূলক করা হবে।

সংযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সমন্বিত প্রকল্প কাগজবিহীন কাস্টমস ব্যবস্থার দিকে বড় এক অগ্রগতি। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজ হবে, কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সব স্তরের ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।