দেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ব্যাপক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)-এর প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কারিগরি শিক্ষা খাতের শক্তি বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মান অর্জনের জন্য বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিসিসিসিআই প্রতিনিধিরা তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহ মো. সুলতান উদ্দিন ইকবাল। সংগঠনের পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হক ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহেরসহ চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বেইজিং আরক গ্যালাক্সি টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের সহায়তায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবে নতুন বিভাগ ও বিষয়ে ਕੋর্স চালু করার পাশাপাশি বিদ্যমান পাঠ্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ বহুমুখী কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া শিক্ষাসামগ্রী ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ, দেশীয় ও চীনা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথ প্রস্তুত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো কারিগরি সহায়তা ও সম্ভাব্য অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করে।
সচিব আব্দুল খালেক বৈঠকে বিসিসিসিআই ও চীনা অংশীদারদের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং কারিগরি শিক্ষায় অগ্রগতি অর্জনে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে স্মার্ট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক ও দক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
এর পাশাপাশি তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে দেশীয় সুবিধা সর্বোচ্চভাবে নিশ্চিত করা যায় এবং প্রযুক্তি-স্থানান্তর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক এবং আয়তনভিত্তিক একটি বাস্তবায়ন প্ল্যান তৈরির উপর সম্মত হন, যার মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, পাঠ্যক্রম হালনাগাদ এবং ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হবে। ভবিষ্যতে পৃথক কর্মপরিকল্পনা ও সময়সীমা নির্ধারণের জন্য আরও সভার ঘোষণা করা হতে পারে।
এই আলোচনাগুলোকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কাঠামো গঠনে চীনের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























