যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইল তাদের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের বিশদ বিবরণ ও হতাহতের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেছে। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা সংঘাতের সময় করা আঘাত এবং সংঘর্ষে সৃষ্ট সাধারণ ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান তুলে ধরছে।
টাইমস অব ইসরাইলের শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এক পর্বগত অভিযান চালায় ইসরাইল। ওই অভিযান সম্পর্কে তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ঝুঁকি কমানো এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত সংঘর্ষের তীব্রতা ছিল যথেষ্ট বেশি। এক পর্যায়ে বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখে। একই সময়ে ইসরাইলি বিমানবাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ চালায়, পরে তা বন্ধ করা হয়।
ইসরাইলি সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতকালে ইরান প্রায় ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে অনেকগুলোর ওয়ারহেডে ক্লাস্টার বোমা ছিল, যা বিস্তৃত এলাকার ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
সংঘর্ষে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংঘাতে ইসরাইলে ২০ জন বেসামরিক নাগরিক ও বিদেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং পশ্চিম তীরে আরও চারজন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন—মোট ২৪ জন নিহত, যাদের সবাই বেসামরিক। নির্ধারণ করা হয়েছে যে নিহতদের মধ্যে ১০ জন ক্লাস্টার বোমা সংবলিত আঘাতে এবং বাকিরা প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
আহতের সংখ্যা তেমনই বেশি—দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে আহত হয়েছেন সাত হাজারেরও বেশি মানুষ। ক্ষয়ক্ষতির কারণে অন্তত ৫,৫০০ জন মানুষ গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষের তথ্যে বলা হয়েছে।
সংঘাতের প্রথম তিনদিনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল: প্রথম দিন প্রায় ৮০টি, দ্বিতীয় দিন প্রায় ৬০টি এবং তৃতীয় দিন প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। পরে প্রতিদিন গড়ে ১০–২০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হত। বিশেষ করে অন্তত ১৬টি প্রচলিত ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে, যা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। একই সঙ্গে ক্লাস্টার বোমাযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রায় ৫০টি আক্রমণ চালানো হয়, ফলে শতাধিক স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইসরাইলের সামরিক ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এসব হিসাব সংঘর্ষের তীব্রতা ও সাধারণ মানুষের ওপর পড়া মানবিক প্রভাবের চিত্র তুলে ধরে। যুদ্ধবিরতির পর পুনর্গঠন, ক্ষতিপূরণ ও নিরাশ্রয় মানুষের সহায়তার প্রয়োজনীয়তা এখন ত্বরান্বিত করছে বলে স্থানীয় সংবাদে বিশ্লেষকরা বলছেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























