০৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
র‌্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা — কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের কাছে পুনরায় দাবি জানিয়েছে ঢাকা বাজার নিয়ন্ত্রক সিন্ডিকেট মুছে ফেলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী র‍্যাব শুরু করেছে চাঁদাবাজদের ‘নিরপেক্ষ’ তালিকা তৈরির কাজ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি মুছে দেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী বুড়িগঙ্গার সঙ্গে জিয়া সরণি খাল সংযোগে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যাত সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস আবু সাঈদ হত্যা: ট্রাইব্যুনাল—২ পুলিশ সদস্যের ফাঁসি, তিনজনকে যাবজ্জীবন অর্থমন্ত্রী: ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তবে সৌদিতে পাকিস্তানি সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আর আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়োজনে সৌদি আরবে পৌঁছেছে পাকিস্তানের একটি শক্তিশালী সামরিক বহর। শনিবার কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান, সঙ্গী বিমান ও সশস্ত্র সদস্যদের অবতরণের ঘটনা সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে এবং বিষয়টি এপি সংবাদ সংস্থা রিপোর্ট করেছে।

এই মোতায়েনটি গত সেপ্টেম্বর মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে আনার কথা বলা হচ্ছে। ওই চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—কোনো এক দেশের ওপর বাহ্যিক হামলা হলে তা উভয় দেশকে লক্ষ্য করে করা হবে;つまり পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির আওতায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকবে।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য অনুসারে, এটি কেবল প্রতীকী অংশগ্রহণ নয় বরং বৃহত্তর সামরিক সহযোগিতার প্রাথমিক ধাপ। মোতায়েনে থাকা ইউনিটগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মী ও আধুনিক যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত, যা সৌদি আরবের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে প্রতিরক্ষাবলয় আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত; সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘাঁটিটি একাধিকবার ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ বিমানবাহিনী ও আধুনিক সরঞ্জাম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে সহায়তা করবে বলে সুপারিশ করা হচ্ছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, এই যৌথ মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামরিক বাহিনীর পেশাদার সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দুই দেশ মিলিয়ে যেকোনো ধরণের উস্কানিমূলক হামলার বিরুদ্ধে দ্রুত এবং শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে চায়।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের এই ঘনিষ্ঠ সামরিক সখ্যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শক্তির নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। একে তারা এই অঞ্চলেই স্থিতিশীলতা রক্ষা ও সমন্বিত প্রতিরক্ষার একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

র‌্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা — কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না

প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তবে সৌদিতে পাকিস্তানি সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আর আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়োজনে সৌদি আরবে পৌঁছেছে পাকিস্তানের একটি শক্তিশালী সামরিক বহর। শনিবার কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান, সঙ্গী বিমান ও সশস্ত্র সদস্যদের অবতরণের ঘটনা সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে এবং বিষয়টি এপি সংবাদ সংস্থা রিপোর্ট করেছে।

এই মোতায়েনটি গত সেপ্টেম্বর মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে আনার কথা বলা হচ্ছে। ওই চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—কোনো এক দেশের ওপর বাহ্যিক হামলা হলে তা উভয় দেশকে লক্ষ্য করে করা হবে;つまり পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির আওতায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকবে।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য অনুসারে, এটি কেবল প্রতীকী অংশগ্রহণ নয় বরং বৃহত্তর সামরিক সহযোগিতার প্রাথমিক ধাপ। মোতায়েনে থাকা ইউনিটগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মী ও আধুনিক যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত, যা সৌদি আরবের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে প্রতিরক্ষাবলয় আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত; সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘাঁটিটি একাধিকবার ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ বিমানবাহিনী ও আধুনিক সরঞ্জাম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে সহায়তা করবে বলে সুপারিশ করা হচ্ছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, এই যৌথ মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামরিক বাহিনীর পেশাদার সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দুই দেশ মিলিয়ে যেকোনো ধরণের উস্কানিমূলক হামলার বিরুদ্ধে দ্রুত এবং শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে চায়।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের এই ঘনিষ্ঠ সামরিক সখ্যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শক্তির নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। একে তারা এই অঞ্চলেই স্থিতিশীলতা রক্ষা ও সমন্বিত প্রতিরক্ষার একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখছেন।