০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্ণাঢ্য আয়োজন: চট্টগ্রামে বাংলা নববর্ষ বরণ

নতুন বছরের প্রথম আলোর সঙ্গে মিলিয়ে উৎসবের রংয়ে মুখর হয়ে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। পয়লা বৈশাখে সকাল থেকেই বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলপনা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে শহর জুড়ে উৎসবের আমেজ ছিল লক্ষণীয়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে নজরকাড়া অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শোভাযাত্রায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরের প্রধান সড়কগুলো পেরিয়ে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ শোভায় অংশ নিয়ে উৎসবকে আরো প্রাণবন্ত করেছেন।

ডিসি হিল, সিআরবি শিরিষতলা ও শহীদ মিনার এলাকায় ভোর থেকেই মানুষের ঢল নেমে আসে। লাল-সাদা সাজে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই অংশ নেন; আর রঙিন প্ল্যাকার্ড, ঢাক ও বাঁশি-বাদ্য চলতে থাকায় সকালটি ছিল প্রাণোচ্ছল।

শোভাযাত্রার পরে ডিসি হিল ও আশপাশে সারাদিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিআরবি শিরিষতলা থেকে গান, নাচ ও লোকজ পরিবেশনা নিয়মিত চলবে।

কাজীর দেউড়ি থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে সাজানো বৈশাখী আলপনা বিশেষভাবে নজর কাড়ে। রঙিন আলপনা ও ফুলের সাজজশে পুরো রাস্তাটি যেন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।

একজন সংস্কৃতিকর্মী সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘করোনা মহামারি ও রমজানের কারণে গত কয়েক বছরে পয়লা বৈশাখের রং কিছুটা ফিকে হয়ে গিয়েছিল। তাই এই বছর পরিবারের সঙ্গে শোভাযাত্রায় এসে খুব ভালো লাগছে, সবাইই উচ্ছ্বসিত।’’

নগরজুড়ে জনসমাগম ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে সকাল থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যান চলাচলে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ‘‘বাঙালির সর্বজনীন এই উৎসব যেন সুরক্ষিত ও নির্বিঘ্নে উদযাপিত হয়—তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’’

পুরো শহরেই মাতৃত্বপূর্ণ উৎসবআবহ, আর্থিক ও সামাজিক ব্যস্ততার মাঝেই পয়লা বৈশাখ নতুন প্রত্যাশা ও আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বর্ণাঢ্য আয়োজন: চট্টগ্রামে বাংলা নববর্ষ বরণ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

নতুন বছরের প্রথম আলোর সঙ্গে মিলিয়ে উৎসবের রংয়ে মুখর হয়ে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। পয়লা বৈশাখে সকাল থেকেই বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলপনা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে শহর জুড়ে উৎসবের আমেজ ছিল লক্ষণীয়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে নজরকাড়া অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শোভাযাত্রায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরের প্রধান সড়কগুলো পেরিয়ে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ শোভায় অংশ নিয়ে উৎসবকে আরো প্রাণবন্ত করেছেন।

ডিসি হিল, সিআরবি শিরিষতলা ও শহীদ মিনার এলাকায় ভোর থেকেই মানুষের ঢল নেমে আসে। লাল-সাদা সাজে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই অংশ নেন; আর রঙিন প্ল্যাকার্ড, ঢাক ও বাঁশি-বাদ্য চলতে থাকায় সকালটি ছিল প্রাণোচ্ছল।

শোভাযাত্রার পরে ডিসি হিল ও আশপাশে সারাদিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিআরবি শিরিষতলা থেকে গান, নাচ ও লোকজ পরিবেশনা নিয়মিত চলবে।

কাজীর দেউড়ি থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে সাজানো বৈশাখী আলপনা বিশেষভাবে নজর কাড়ে। রঙিন আলপনা ও ফুলের সাজজশে পুরো রাস্তাটি যেন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।

একজন সংস্কৃতিকর্মী সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘করোনা মহামারি ও রমজানের কারণে গত কয়েক বছরে পয়লা বৈশাখের রং কিছুটা ফিকে হয়ে গিয়েছিল। তাই এই বছর পরিবারের সঙ্গে শোভাযাত্রায় এসে খুব ভালো লাগছে, সবাইই উচ্ছ্বসিত।’’

নগরজুড়ে জনসমাগম ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে সকাল থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যান চলাচলে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ‘‘বাঙালির সর্বজনীন এই উৎসব যেন সুরক্ষিত ও নির্বিঘ্নে উদযাপিত হয়—তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’’

পুরো শহরেই মাতৃত্বপূর্ণ উৎসবআবহ, আর্থিক ও সামাজিক ব্যস্ততার মাঝেই পয়লা বৈশাখ নতুন প্রত্যাশা ও আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে।