০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৭০ টাকায় ৬৫ কিমি! নাটোরের ফারহানের ‘মার্সেনারি’ ইলেকট্রিক কার

নাটোরের বড়াইগ্রামের তরুণ প্রকৌশলী কাসমিম আহমেদ ফারহান ‘মার্সেনারি’ নামে একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ক্রসওভার গাড়ি তৈরির মাধ্যমে স্থানীয়দের নজর কাড়েছেন। তিনি জানান, মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে গাড়িটি প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে—একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ যা জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করা ফারহান নিজের উদ্যোগে এই গাড়িটি উন্নত করেছেন। মাঝগ্রামের মেঠোপথে এখন স্থানীয়রা তার তৈরি গাড়িটি ছুটে যেতে দেখেই চমকে যান। ফারহান গাড়িটির নানা প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করেছেন এবং সেগুলো সরল ভাষায় বোঝান।

গাড়িটির অন্যতম বড় প্লাস পয়েন্ট হল সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ খরচ: শ্রমশক্তি ও জ্বালানির উচ্চ মূল্যের এই সময়ে ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে দীর্ঘ পথে চলা কোনো ক্ষুদ্র অর্জন নয়। ফারহান জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় গাড়িটি ৬০–৬৫ কিমি অর্জন করেছে এবং উপযুক্ত অবস্থায় এটি ৬৫–৭০ কিমি পর্যন্ত যেতে সক্ষম।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে গাড়িটিতে রয়েছে উন্নত গিয়ার সিস্টেম। এতে ‘ডুয়েল প্লেট ফোর-স্পিড গিয়ারবক্স’ লাগানো আছে, যা ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন এবং ডাইরেক্ট ড্রাইভ—উভয় মোডেই পরিচালনা করা যায়। এই গিয়ার সিস্টেম দেশেই প্রচলিত সাধারণ ই-কারের তুলনায় আধুনিক বলে দাবি করা হয়।

গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার এবং এতে ছয় জন যাত্রী ধারন করার ব্যবস্থা রয়েছে—যা পরিবার বা ছোট গ্রুপের লোকজনকে সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ দেবে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ফারহান নিজের হাতেই নানা প্রযুক্তিগত সমাধান করেছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, কম খরচে এমন একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি যদি সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বড় পরিসরে উৎপাদন করা যায়, তাহলে দেশে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ হবে। বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেছেন, ফারহানের তৈরি এই গাড়ি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

ফারহান ভবিষ্যতে অটোমোবাইল সেক্টরে কাজ করে তার প্রকল্পকে আরও উন্নত করতে চান এবং সরকারের সহায়তা চান। তরুণ উদ্ভাবকদের কাছে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গেলে বাংলাদেশে দামী জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ি বিস্তারের সম্ভাবনা অনেক বেশি বলেই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও 주민রা আশা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৭০ টাকায় ৬৫ কিমি! নাটোরের ফারহানের ‘মার্সেনারি’ ইলেকট্রিক কার

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রামের তরুণ প্রকৌশলী কাসমিম আহমেদ ফারহান ‘মার্সেনারি’ নামে একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ক্রসওভার গাড়ি তৈরির মাধ্যমে স্থানীয়দের নজর কাড়েছেন। তিনি জানান, মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে গাড়িটি প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে—একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ যা জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করা ফারহান নিজের উদ্যোগে এই গাড়িটি উন্নত করেছেন। মাঝগ্রামের মেঠোপথে এখন স্থানীয়রা তার তৈরি গাড়িটি ছুটে যেতে দেখেই চমকে যান। ফারহান গাড়িটির নানা প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করেছেন এবং সেগুলো সরল ভাষায় বোঝান।

গাড়িটির অন্যতম বড় প্লাস পয়েন্ট হল সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ খরচ: শ্রমশক্তি ও জ্বালানির উচ্চ মূল্যের এই সময়ে ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে দীর্ঘ পথে চলা কোনো ক্ষুদ্র অর্জন নয়। ফারহান জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় গাড়িটি ৬০–৬৫ কিমি অর্জন করেছে এবং উপযুক্ত অবস্থায় এটি ৬৫–৭০ কিমি পর্যন্ত যেতে সক্ষম।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে গাড়িটিতে রয়েছে উন্নত গিয়ার সিস্টেম। এতে ‘ডুয়েল প্লেট ফোর-স্পিড গিয়ারবক্স’ লাগানো আছে, যা ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন এবং ডাইরেক্ট ড্রাইভ—উভয় মোডেই পরিচালনা করা যায়। এই গিয়ার সিস্টেম দেশেই প্রচলিত সাধারণ ই-কারের তুলনায় আধুনিক বলে দাবি করা হয়।

গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার এবং এতে ছয় জন যাত্রী ধারন করার ব্যবস্থা রয়েছে—যা পরিবার বা ছোট গ্রুপের লোকজনকে সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ দেবে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ফারহান নিজের হাতেই নানা প্রযুক্তিগত সমাধান করেছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, কম খরচে এমন একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি যদি সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বড় পরিসরে উৎপাদন করা যায়, তাহলে দেশে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ হবে। বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেছেন, ফারহানের তৈরি এই গাড়ি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

ফারহান ভবিষ্যতে অটোমোবাইল সেক্টরে কাজ করে তার প্রকল্পকে আরও উন্নত করতে চান এবং সরকারের সহায়তা চান। তরুণ উদ্ভাবকদের কাছে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গেলে বাংলাদেশে দামী জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ি বিস্তারের সম্ভাবনা অনেক বেশি বলেই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও 주민রা আশা প্রকাশ করেছেন।