০২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে आज প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আবারও হরমুজ পার পেল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু; সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ২১,৪৬৭ সময় টেলিভিশন ১৬ বছরে: সঠিক সংবাদ ও বস্তুনিষ্ঠতায় অঙ্গীকার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ: ভারত প্রক্রিয়া গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে হজযাত্রীদের খাদেম আমরা; সেবা করতে না পারলে পদত্যাগ করা উচিত: ধর্মমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আজ রাতেই হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রামে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল, চারটি ট্যাংকার আগামীকাল ও রবিবার পৌঁছাবে চলতি ও আগামী মাসে দেশে আসছে আরও ১৬ কার্গো এলএনজি ৭ নভেম্বর পুনরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করল

ওয়াশিংটনভিত্তিক দুই শাসক ভাগ্যের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান—আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক—দীর্ঘদিন পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর শুরু হওয়া কূটনৈতিক ও আর্থিক বিচ্ছিন্নতার ছাঁটাগুলো ভেঙে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ভেনেজুয়েলার জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মোড় হিসেবে দিচ্ছেন।

আইএমএফ‑এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, সংস্থাটি এখন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কাজ শুরু করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে আইএমএফ‑এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামত বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এই সম্পৃক্ততা ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের আর্থ–সামাজিক পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়ক হবে। আইএমএফ‑এর ঘোষণার পরপরই বিশ্বব্যাংকও একই পথে যাওয়ার কথা জানায়; বিশ্বব্যাংক ওই দেশকে সর্বশেষ ২০০৫ সালে আর্থিক সহায়তা বা ঋণ দিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি কেবল অর্থনৈতিক নয়—এটি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্ব বহন করে। কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নড়াচড়া ও কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর এই ঋণদাতাদের সিদ্ধান্তকে রদ্রিগেজ সরকারের বৈশ্বিক স্বীকৃতির পথে একটি উল্লেখযোগ্য ধাপে বলা হচ্ছে।

রদ্রিগেজ নিজে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটিকে ভেনেজুয়েলার জন্য ‘‘বড় কূটনৈতিক অর্জন’’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এর ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পাওয়ার বৈধ সুযোগ পেয়েছে, যা তাত্ক্ষণিকভাবে সংকটাপন্ন অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে কাজে লাগতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কারিগরি পরামর্শ এবং সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা ভেনেজুয়েলার ঋণের পুনর্গঠন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে সহায়ক হতে পারে। তবে তারা সতর্কতাও ব্যক্ত করেন—এই সহায়তার শর্ত, বাস্তবায়ন কৌশল এবং দেশীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যতটা দ্রুত কার্যকরভাবে মেলে, তত দ্রুত সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভেনেজুয়েলার সামগ্রিক বৈদেশিক দেনার পরিমাণ বিশ্লেষকরা প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি হিসেবে দেখছেন; এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা দেশটিকে সংকট থেকে বের হতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এই সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন রাজনৈতিক বিতর্কও উস্কে দিয়েছে—কয়েক পক্ষ এটিকে স্বাগত জানাচ্ছে, আবার কেউ কেউ বলছেন আন্তর্জাতিক সহায়তা নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর হবে কি না তা সময়ই বলবে। আগামী কয়েক মাসে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কারাকাসের আলোচনার ধরণ, সহায়তার শর্ত এবং বাস্তবায়নই চূড়ান্তভাবে এই সিদ্ধান্তের সুফল নির্ধারণ করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’-এ গানও, চিত্রনাট্যেও নাম লিখালেন বেজবাবা সুমন

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করল

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ওয়াশিংটনভিত্তিক দুই শাসক ভাগ্যের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান—আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক—দীর্ঘদিন পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর শুরু হওয়া কূটনৈতিক ও আর্থিক বিচ্ছিন্নতার ছাঁটাগুলো ভেঙে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ভেনেজুয়েলার জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মোড় হিসেবে দিচ্ছেন।

আইএমএফ‑এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, সংস্থাটি এখন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কাজ শুরু করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে আইএমএফ‑এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামত বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এই সম্পৃক্ততা ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের আর্থ–সামাজিক পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়ক হবে। আইএমএফ‑এর ঘোষণার পরপরই বিশ্বব্যাংকও একই পথে যাওয়ার কথা জানায়; বিশ্বব্যাংক ওই দেশকে সর্বশেষ ২০০৫ সালে আর্থিক সহায়তা বা ঋণ দিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি কেবল অর্থনৈতিক নয়—এটি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্ব বহন করে। কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নড়াচড়া ও কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর এই ঋণদাতাদের সিদ্ধান্তকে রদ্রিগেজ সরকারের বৈশ্বিক স্বীকৃতির পথে একটি উল্লেখযোগ্য ধাপে বলা হচ্ছে।

রদ্রিগেজ নিজে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটিকে ভেনেজুয়েলার জন্য ‘‘বড় কূটনৈতিক অর্জন’’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এর ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পাওয়ার বৈধ সুযোগ পেয়েছে, যা তাত্ক্ষণিকভাবে সংকটাপন্ন অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে কাজে লাগতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কারিগরি পরামর্শ এবং সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা ভেনেজুয়েলার ঋণের পুনর্গঠন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে সহায়ক হতে পারে। তবে তারা সতর্কতাও ব্যক্ত করেন—এই সহায়তার শর্ত, বাস্তবায়ন কৌশল এবং দেশীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যতটা দ্রুত কার্যকরভাবে মেলে, তত দ্রুত সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভেনেজুয়েলার সামগ্রিক বৈদেশিক দেনার পরিমাণ বিশ্লেষকরা প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি হিসেবে দেখছেন; এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা দেশটিকে সংকট থেকে বের হতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এই সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন রাজনৈতিক বিতর্কও উস্কে দিয়েছে—কয়েক পক্ষ এটিকে স্বাগত জানাচ্ছে, আবার কেউ কেউ বলছেন আন্তর্জাতিক সহায়তা নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর হবে কি না তা সময়ই বলবে। আগামী কয়েক মাসে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কারাকাসের আলোচনার ধরণ, সহায়তার শর্ত এবং বাস্তবায়নই চূড়ান্তভাবে এই সিদ্ধান্তের সুফল নির্ধারণ করবে।