স্প্যানিশ কোপা দেল রে ফাইনালে সেভিয়ার মাঠে নজিরবিহীন এক মঞ্চস্থ লড়াই শেষে পেনাল্টি শুটআউটে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে চতুর্থবারের শিরোপা জিতে নিল রিয়াল সোসিয়েদাদ। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ম্যাচ ২-২ গোলে সমতা ছিল, এরপরই টাইব্রেকারে সোসিয়েদাদের জয় নিশ্চিত হয়।
ম্যাচের শুরুতেই রোমাঞ্চকর এক মুহূর্ত সৃষ্টি করেন সোসিয়েদাদের ফরোয়ার্ড আন্ডার বারেনেটজিয়া; রেফারি সিগন্যালে মাত্র ১৪ সেকেন্ডের মধ্যে জালে বল পাঠিয়ে কোপা দেল রের ফাইনালে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন তিনি। ত্রুটি মেটাতে না পেরেই ১৮তম মিনিটে আদেমোলা লুকমানের গোলে সমতা পায় অ্যাটলেটিকো। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে মিকেল ওয়ারাজাবালের গোল সোসিয়েদাদকে ২-১ নেতৃত্ব এনে দেয় এবং বিরতিতে তারা এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়িয়েও দীর্ঘ সময় গোল করতে পারেনি অ্যাটলেটিকো। কিন্তু ম্যাচের শেষের দিকে — নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে — আর্জেন্টাইন তারকা জুলিয়ান আলভারেজ সমতা ফিরিয়ে এনে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে পাঠান। অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল গোল না করায় ম্যাচ নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে।
পেনাল্টিতে নায়ক হয়ে উঠেন সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক উনাই মারো। তিনি দক্ষতার সঙ্গে অ্যাটলেটিকোর দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের শট থামান—অ্যালেক্সান্দার সরলথ এবং জুলিয়ান আলভারেজ—যার ফলে প্রতিপক্ষ স্তব্ধ হয়। শেষপর্যায়ে পাবলো মারিনের এক সুউচ্চ শটে লক্ষ্যভেদ হলে শুটআউটে ৪-৩ ফলে জয় নিশ্চিত করে সোসিয়েদাদ। ট্রফি জয়ের পর দলের সমর্থকেরা গ্যালারিতে আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়ে।
এই শিরোপা রিয়াল সোসিয়েদাদের জন্য কয়েক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২০ সালের পর আবার কাপ জিতে তারা নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করল। দলের কোচ পেল্লেগ্রিনো মাতারাজ্জো এই জয়ে ইতিহাসও গড়া সম্ভব করলেন—নিউজার্সিতে জন্ম নেয়া এই কোচ প্রথম আমেরিকান হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো বড় প্রতিযোগিতায় ট্রফি জিতলেন। গত ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দলটি লা লিগার তলানির দিকে থাকলেও মাত্র চার মাসে তিনি দলকে কেবল টেবিলের মাঝামাঝি অবস্থায় উন্নীত করেননি, বরং শিরোপাও উপহার দিয়েছেন।
অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে উঠে আত্মবিশ্বাসে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জন্য এই পরাজয় বড় ধাক্কা। ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো কোপা দেল রে জয়ের স্বর্ণ সুযোগ কেমন করে হাতছাড়া হলো—সেই ব্যথাই টিমে বিরাজ করল।
সর্বশেষে বলা যায়, সেভিয়ার সেই রাত ছিল মাতারাজ্জোর সুচিন্তিত রণনীতি এবং সোসিয়েদাদের অনমনীয় মনোবলের জয়গাথা। এই ট্রফি সোসিয়েদাদকে স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























