পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে রোববার নাটকীয় এক সন্ধ্যায় ফিরলেন বাবর আজম। দীর্ঘ ৭৮৩ দিনের কষ্টকর শূন্যতা ভেঙে পেশোয়ার জালমি অধিনায়ক এক রেকর্ডময় সেঞ্চুরি খেলেন এবং কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সকে ১১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে দলকে অপরাজিত রাখলেন।
ম্যাচ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে ছিলেন বাবর। পুরো ২০ ওভার কাটিয়ে মাত্র ৫২ বলে তিনি শতক স্পর্শ করে পিএসএলের দ্রুততম শতকের নতুন রেকর্ড গড়েন। ম্যাচের শেষ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছাতে তাঁর প্রয়োজন ছিল দুই রান। ঝুঁকি নিয়ে দ্বিতীয় রান তুলে দ্রুততম সেঞ্চুরি নিশ্চিত করলে করাচির গ্যালারি উল্লাসে ফেটে পড়ে। এটি বাবরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ফেরার প্রতীকও হয়ে দাঁড়ালো — ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পরে এটি তাঁর প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি।
বাবরের এই ইনিংসটি তাঁর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি; এর ফলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারকে পেছনে রেখে সর্বকালের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিকারীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তালিকায় শীর্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল রয়েছেন ২২ সেঞ্চুরিতে। পিএসএলের মঞ্চে এটিই বাবরের তৃতীয় শতক। সব মিলিয়ে ৩৩৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁর গড় ৪৭.৭২ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৮.৭৬—রেকর্ডগুলোই তার ধারাবাহিকতা বোঝায়।
বাবরের বিধ্বংসী ইনিংসের সঙ্গে ক্রান্তিকার্য ছিলেন লঙ্কান ব্যাটার কুশল মেন্ডিসও; তিনি ৮৩ রানের দ্রুত ইনিংস খেলেন এবং জালো-মিলে পেশোয়ারকে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা রাখেন।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে কোয়েটার ব্যাটাররা শুরু থেকেই ধ্বস নামায়। পেশোয়ারের বোলিং অদম্য ছিল—মোহাম্মদ বাসিত ও আলী রাজা each ৩টি উইকেট নিয়ে ম্যাচটি ঘিরে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ দেখান। কোয়েটার ইনিংস মাত্র ১৩৭ রানে থেমে গেলে পেশোয়ারের জয় ব্যবধান দাঁড়ায় বিপুল ১১৮ রানে।
এই জয়ে পেশোয়ার এখন ৮টি ম্যাচ নিয়ে ১৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের শীর্ষে সুপ্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে কোয়েটার জন্য এটি বড় ধাক্কা—বিশেষ করে বাবরের রেজার শার্প রিটার্ন তাদের পরিকল্পনায় এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচ শেষে দর্শক ও সমালোচকদের নজর এখন বাবরের পরবর্তী ইনিংসগুলোতে, যেখানে তিনি যে আবারও নিজের সেরাটা ধরে ফিরেছেন তা করাচির এই রেকর্ডময় দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























