১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গান, স্লোগান ও মিছিলে মে দিবস পালিত—শ্রমজীবীরা ন্যায্য অধিকার দাবি করলেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী জালিয়াতি ও সিন্ডিকেটে আটকে পড়েছে সৌরবিদ্যুৎ খাত শফিকুল আলমের ভাই আবু নছরকে বিজ্ঞান জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে বদলি শামীমা পারভীন ঢাকার ইতিহাসে প্রথম নারী পুলিশ সুপার শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরবরাহ সংকটে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন হবে সরকার বন্ধ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে

বিশ্ববাজারে টয়োটার বিক্রিতে নতুন রেকর্ড: ১ কোটি ৪৮ লাখ গাড়ি

জাপানি অটোমোবাইল নির্মাতা টয়োটা আবারও প্রমাণ করেছে যে বিশ্ববাজারে তাদের আধিপত্য কমে না। ২০২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ১ কোটি ৪৮ লাখ গাড়ি বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়ে ২ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছে প্রায় ৯৮ লাখ ৯০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি ছিল হাইব্রিড প্রযুক্তির গাড়ির ব্যাপক চাহিদা। বিশেষত উত্তর আমেরিকার বাজারে টয়োটার এ ধরনের মডেলগুলোতে যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে, সেটাই বিক্রি বাড়ার প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্ক থাকাও কিছুটা চাপ সৃষ্টি করলেও চাহিদি শক্ত থাকার ফলে টয়োটার জন্য বাজারের অবস্থা সুদৃঢ় ছিল। করোলা ও ক্যামরি মডেলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা বিশেষ ভূমিকা রেখেছে—যুক্তরাষ্ট্রে টয়োটার বিক্রি ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ে এবং সেখানে বিক্রি দাঁড়ায় ২৫ লাখ ২০ হাজার ইউনিটে।

টয়োটার এই জয়যাত্রা আন্তর্জাতিক বাজারে আগের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে; জাপানের ভূখণ্ডের বাইরে প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে ৯০ লাখ গাড়ি বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সাফল্যের সাথে কিছু প্রতিকূলতাও জড়িত। চীনের শক্তিশালী ইভি (ইলেকট্রিক গাড়ি) বাজার ও স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে চীনে টয়োটার বিক্রি ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১৭ লাখ ৬০ হাজার ইউনিটে নেমে এসেছে। একইভাবে জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অন্য জাপানি প্রধান নির্মাতাদের জন্য গত অর্থবছর ছিল মিশ্র ফলের। দেশটির বড় আটটি কোম্পানির সম্মিলিত বিক্রি ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে; এর মধ্যে হোন্ডার বিক্রি সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস। নিসানেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, তবে সুজুকি কিছুটা ইতিবাচক ধারায় টিকে থাকতে পেরেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ শুল্কের পরিবেশের মধ্যেও টয়োটা হাইব্রিড প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ভবিষ্যতে টয়োটা হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখলেই তারা প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করে বাজারে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গান, স্লোগান ও মিছিলে মে দিবস পালিত—শ্রমজীবীরা ন্যায্য অধিকার দাবি করলেন

বিশ্ববাজারে টয়োটার বিক্রিতে নতুন রেকর্ড: ১ কোটি ৪৮ লাখ গাড়ি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

জাপানি অটোমোবাইল নির্মাতা টয়োটা আবারও প্রমাণ করেছে যে বিশ্ববাজারে তাদের আধিপত্য কমে না। ২০২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ১ কোটি ৪৮ লাখ গাড়ি বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়ে ২ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছে প্রায় ৯৮ লাখ ৯০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি ছিল হাইব্রিড প্রযুক্তির গাড়ির ব্যাপক চাহিদা। বিশেষত উত্তর আমেরিকার বাজারে টয়োটার এ ধরনের মডেলগুলোতে যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে, সেটাই বিক্রি বাড়ার প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্ক থাকাও কিছুটা চাপ সৃষ্টি করলেও চাহিদি শক্ত থাকার ফলে টয়োটার জন্য বাজারের অবস্থা সুদৃঢ় ছিল। করোলা ও ক্যামরি মডেলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা বিশেষ ভূমিকা রেখেছে—যুক্তরাষ্ট্রে টয়োটার বিক্রি ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ে এবং সেখানে বিক্রি দাঁড়ায় ২৫ লাখ ২০ হাজার ইউনিটে।

টয়োটার এই জয়যাত্রা আন্তর্জাতিক বাজারে আগের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে; জাপানের ভূখণ্ডের বাইরে প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে ৯০ লাখ গাড়ি বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সাফল্যের সাথে কিছু প্রতিকূলতাও জড়িত। চীনের শক্তিশালী ইভি (ইলেকট্রিক গাড়ি) বাজার ও স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে চীনে টয়োটার বিক্রি ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১৭ লাখ ৬০ হাজার ইউনিটে নেমে এসেছে। একইভাবে জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অন্য জাপানি প্রধান নির্মাতাদের জন্য গত অর্থবছর ছিল মিশ্র ফলের। দেশটির বড় আটটি কোম্পানির সম্মিলিত বিক্রি ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে; এর মধ্যে হোন্ডার বিক্রি সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস। নিসানেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, তবে সুজুকি কিছুটা ইতিবাচক ধারায় টিকে থাকতে পেরেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ শুল্কের পরিবেশের মধ্যেও টয়োটা হাইব্রিড প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ভবিষ্যতে টয়োটা হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখলেই তারা প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করে বাজারে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবে।