১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বন্ধ বস্ত্র ও পাট কারখানা পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ ১৬ ডিআইজি ও একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে মনিরা শারমিনের আবেদন: নুসরাত তাবাসসুমের এমপি গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার অনুরোধ মনিরা শারমিনের আবেদন: নুসরাত তাবাসসুমের এমপি গেজেট প্রকাশ না করার অনুরোধ সিসি নোটিশে হাজিরা না করলে সমন বা গ্রেপ্তারি—ডিএমপি ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র–সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতি: র‍্যাব দুই গ্রেপ্তার মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন; ৮৩টি ল্যাপটপ অনুপস্থিত

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর: জেটি ও টার্মিনাল নির্মাণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ মাঠ পর্যায়ে শুরু হয়েছে। রোববার, ৩ মে থেকে বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জেটি ও টার্মিনাল তৈরির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ায় প্রকল্পটি এক বড় মাইলফলক পেয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার এক বছর পর মাঠে কাজ শুরু হওয়া প্রকল্পের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) যে অর্থ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে, সেই সহায়তায় এ মেগা প্রকল্পের প্রথম প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে জাপানের দুই প্রতিষ্ঠান পেন্টা ওশান এবং টোয়া কর্পোরেশন। এই প্যাকেজের জন্য প্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে এবং এর আওতায় বন্দরের প্রধান জেটি ও টার্মিনাল কাঠামো তৈরি করা হবে। চুক্তি গত বছরের এপ্রিলে সই হওয়ার পর কারিগরি প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহের কার্যক্রম শেষে এখন প্রকল্প এলাকায় পূর্ণ গতিতে কাজ শুরু হয়েছে।

নির্মাণকাজের প্রাথমিক পর্যায়ে জাপান থেকে আনা একটি বিশেষায়িত বিশালাকার ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং কাজ করা হচ্ছে। এই কাজে সমুদ্র থেকে প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি মাটি ও বালি উত্তোলন করা হবে, যা এলাকার ভরাট ও ভবিষ্যত সম্প্রসারণের জন্য মাটি সংরক্ষণে ব্যবহৃত হবে। প্রথম প্যাকেজের অধীনে আগামী চার বছরের মধ্যে ৪৬০ মিটার দীর্ঘ আধুনিক কন্টেইনার জেটি এবং ৩০০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস জেটিসহ প্রয়োজনীয় ব্যাকইয়ার্ড সুবিধা নির্মিত হবে।

মহেশখালীর প্রায় ১ হাজার ৩০ একর জমিতে গড়ে উঠতে যাওয়া পুরো প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। মাতারবাড়ি বন্দর চালু হলে বড় আকৃতির মাদার ভেসেল বা গভীর সমুদ্রগামী জাহাজ সরাসরি বন্দরভীষণে আসতে পারবে, যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী জেটি ও টার্মিনালের নির্মাণকাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে এবং সবকিছু পরিকল্পনা মতো থাকলে ২০৩০ সাল থেকে বন্দরটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলন অনুযায়ী মাতারবাড়ি বন্দর ২০২৯ সালে চালু হলে বছরে অন্তত ১১ লাখ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় ২০৪১ সালের মধ্যে এই ক্ষমতা ২৬ লাখ টিইউএস পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বন্দরটি পূর্ণভাবে চালু হলে বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পরিবহন হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর: জেটি ও টার্মিনাল নির্মাণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ মাঠ পর্যায়ে শুরু হয়েছে। রোববার, ৩ মে থেকে বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জেটি ও টার্মিনাল তৈরির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ায় প্রকল্পটি এক বড় মাইলফলক পেয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার এক বছর পর মাঠে কাজ শুরু হওয়া প্রকল্পের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) যে অর্থ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে, সেই সহায়তায় এ মেগা প্রকল্পের প্রথম প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে জাপানের দুই প্রতিষ্ঠান পেন্টা ওশান এবং টোয়া কর্পোরেশন। এই প্যাকেজের জন্য প্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে এবং এর আওতায় বন্দরের প্রধান জেটি ও টার্মিনাল কাঠামো তৈরি করা হবে। চুক্তি গত বছরের এপ্রিলে সই হওয়ার পর কারিগরি প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহের কার্যক্রম শেষে এখন প্রকল্প এলাকায় পূর্ণ গতিতে কাজ শুরু হয়েছে।

নির্মাণকাজের প্রাথমিক পর্যায়ে জাপান থেকে আনা একটি বিশেষায়িত বিশালাকার ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং কাজ করা হচ্ছে। এই কাজে সমুদ্র থেকে প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি মাটি ও বালি উত্তোলন করা হবে, যা এলাকার ভরাট ও ভবিষ্যত সম্প্রসারণের জন্য মাটি সংরক্ষণে ব্যবহৃত হবে। প্রথম প্যাকেজের অধীনে আগামী চার বছরের মধ্যে ৪৬০ মিটার দীর্ঘ আধুনিক কন্টেইনার জেটি এবং ৩০০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস জেটিসহ প্রয়োজনীয় ব্যাকইয়ার্ড সুবিধা নির্মিত হবে।

মহেশখালীর প্রায় ১ হাজার ৩০ একর জমিতে গড়ে উঠতে যাওয়া পুরো প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। মাতারবাড়ি বন্দর চালু হলে বড় আকৃতির মাদার ভেসেল বা গভীর সমুদ্রগামী জাহাজ সরাসরি বন্দরভীষণে আসতে পারবে, যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী জেটি ও টার্মিনালের নির্মাণকাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে এবং সবকিছু পরিকল্পনা মতো থাকলে ২০৩০ সাল থেকে বন্দরটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলন অনুযায়ী মাতারবাড়ি বন্দর ২০২৯ সালে চালু হলে বছরে অন্তত ১১ লাখ টিইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় ২০৪১ সালের মধ্যে এই ক্ষমতা ২৬ লাখ টিইউএস পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বন্দরটি পূর্ণভাবে চালু হলে বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পরিবহন হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে।