০৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ডেভিড বেকহ্যাম—যুক্তরাজ্যের প্রথম ক্রীড়াবিদ বিলিয়নিয়ার

ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ করলেও ব্যবসায়িক জগতে নতুন এক অধ্যায় লিখেছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম। সানডে টাইমসের সাম্প্রতিক ‘রিচ লিস্ট’ অনুযায়ী বেকহ্যাম এখন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রথম বিলিয়নিয়ার ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। স্ত্রীর সঙ্গে তাদের সম্মিলিত নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.১৮৫ বিলিয়ন পাউন্ড—যা তালিকায় অন্য অ্যাথলেটদের থেকে আলাদা উচ্চতা নিয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৩ সালে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর থেকে বেকহ্যাম কেবল মাঠেই নাম করা একজন তারকা নন—তিনি সফল উদ্যোক্তা ও সংগঠক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি এখন এমএলএস দলের ইন্টার মিয়ামির সহ-মালিক, এবং ওই ক্লাবের মূল্য প্রায় ১.০৭ বিলিয়ন পাউন্ড বলে গণ্য করা হচ্ছে; এটি তাঁর মোট সম্পদের অন্যতম বড় উৎস।

ক্লাব মালিকানার বাইরে বেকহ্যাম বহু আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক চুক্তিতে জড়িত—অ্যাডিডাস ও হুগো বসের মতো ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রাসঙ্গিক উদাহরণ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিডে খেলার সময় অর্জিত খ্যাতি তিনি ভিপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে পেরেছেন, এবং করপোরেট জগতে প্রভাবশালী ভূমিকা করে চলেছেন।

বেকহ্যাম দম্পতির অর্থনৈতিক শক্তির পেছনে ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামও সমানভাবে অবদান রেখেছেন। একসময় স্পাইস গার্লসের সদস্য হিসেবে তার খ্যাতি থাকলেও বর্তমানে ভিক্টোরিয়ার প্রধান আয়ের উৎস হল তার নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ড—এবং সেই ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা দম্পতির মোট সম্পদকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তালিকায় বেকহ্যামের পরে রয়েছেন সাতবারের ফরমুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়ন লুইস হ্যামিল্টন, যার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড। পরবর্তী অবস্থানে আছেন গলফ তারকা ররি ম্যাকলরি (৩২৫ মিলিয়ন পাউন্ড) ও বক্সার অ্যান্থনি জশুয়া (২৪০ মিলিয়ন পাউন্ড)। এছাড়া বক্সার টাইসন ফুুরির সম্পদ ধরা হয়েছে ১৬২ মিলিয়ন পাউন্ড। বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন এবং পুরোনো উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন অ্যান্ডি মারে যৌথভাবে ১১০ মিলিয়ন পাউন্ড নিয়ে তালিকার ১০ নম্বর স্থানে রয়েছেন।

একই তালিকায় কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও দেখা গেছে—ইনিয়স গ্রুপের কর্ণধার জিম র্যাটক্লিফের ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে প্রায় ১.৮৫ বিলিয়ন পাউন্ড কমে গেছে। অন্যদিকে ক্রীড়া আয়োজক ব্যারি হার্ন ও তাঁর ছেলে এডি হার্নের সম্মিলিত সম্পদ ১.০৩৫ বিলিয়ন পাউন্ড ধরে নতুনভাবে ব্রিটেনের বিলিয়নিয়ার ক্লাবে তাদের নাম উঠে এসেছে।

বেকহ্যামের এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির প্রতীক নয়; এটা আধুনিক ক্রীড়াবিদের জন্য ব্যবসায়িক দূরদর্শিতার গুরুত্বকেও তুলে ধরে। মাঠে অর্জিত খ্যাতি, সঠিক বিনিয়োগ ও শক্ত ব্র্যান্ডিং মিললে কিভাবে একজন খেলোয়াড়ই বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের কাতারে উঠে যেতে পারে—বেকহ্যাম তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এখন তিনি শুধুই ফুটবল ইতিহাসের নয়, বরং গ্লোবাল ব্যবসা ও বিনিয়োগ জগতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের স্থান সুদৃঢ় করেই চলেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ডেভিড বেকহ্যাম—যুক্তরাজ্যের প্রথম ক্রীড়াবিদ বিলিয়নিয়ার

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ করলেও ব্যবসায়িক জগতে নতুন এক অধ্যায় লিখেছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম। সানডে টাইমসের সাম্প্রতিক ‘রিচ লিস্ট’ অনুযায়ী বেকহ্যাম এখন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রথম বিলিয়নিয়ার ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। স্ত্রীর সঙ্গে তাদের সম্মিলিত নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.১৮৫ বিলিয়ন পাউন্ড—যা তালিকায় অন্য অ্যাথলেটদের থেকে আলাদা উচ্চতা নিয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৩ সালে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর থেকে বেকহ্যাম কেবল মাঠেই নাম করা একজন তারকা নন—তিনি সফল উদ্যোক্তা ও সংগঠক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি এখন এমএলএস দলের ইন্টার মিয়ামির সহ-মালিক, এবং ওই ক্লাবের মূল্য প্রায় ১.০৭ বিলিয়ন পাউন্ড বলে গণ্য করা হচ্ছে; এটি তাঁর মোট সম্পদের অন্যতম বড় উৎস।

ক্লাব মালিকানার বাইরে বেকহ্যাম বহু আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক চুক্তিতে জড়িত—অ্যাডিডাস ও হুগো বসের মতো ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রাসঙ্গিক উদাহরণ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিডে খেলার সময় অর্জিত খ্যাতি তিনি ভিপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে পেরেছেন, এবং করপোরেট জগতে প্রভাবশালী ভূমিকা করে চলেছেন।

বেকহ্যাম দম্পতির অর্থনৈতিক শক্তির পেছনে ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামও সমানভাবে অবদান রেখেছেন। একসময় স্পাইস গার্লসের সদস্য হিসেবে তার খ্যাতি থাকলেও বর্তমানে ভিক্টোরিয়ার প্রধান আয়ের উৎস হল তার নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ড—এবং সেই ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা দম্পতির মোট সম্পদকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তালিকায় বেকহ্যামের পরে রয়েছেন সাতবারের ফরমুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়ন লুইস হ্যামিল্টন, যার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড। পরবর্তী অবস্থানে আছেন গলফ তারকা ররি ম্যাকলরি (৩২৫ মিলিয়ন পাউন্ড) ও বক্সার অ্যান্থনি জশুয়া (২৪০ মিলিয়ন পাউন্ড)। এছাড়া বক্সার টাইসন ফুুরির সম্পদ ধরা হয়েছে ১৬২ মিলিয়ন পাউন্ড। বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন এবং পুরোনো উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন অ্যান্ডি মারে যৌথভাবে ১১০ মিলিয়ন পাউন্ড নিয়ে তালিকার ১০ নম্বর স্থানে রয়েছেন।

একই তালিকায় কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও দেখা গেছে—ইনিয়স গ্রুপের কর্ণধার জিম র্যাটক্লিফের ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে প্রায় ১.৮৫ বিলিয়ন পাউন্ড কমে গেছে। অন্যদিকে ক্রীড়া আয়োজক ব্যারি হার্ন ও তাঁর ছেলে এডি হার্নের সম্মিলিত সম্পদ ১.০৩৫ বিলিয়ন পাউন্ড ধরে নতুনভাবে ব্রিটেনের বিলিয়নিয়ার ক্লাবে তাদের নাম উঠে এসেছে।

বেকহ্যামের এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির প্রতীক নয়; এটা আধুনিক ক্রীড়াবিদের জন্য ব্যবসায়িক দূরদর্শিতার গুরুত্বকেও তুলে ধরে। মাঠে অর্জিত খ্যাতি, সঠিক বিনিয়োগ ও শক্ত ব্র্যান্ডিং মিললে কিভাবে একজন খেলোয়াড়ই বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের কাতারে উঠে যেতে পারে—বেকহ্যাম তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এখন তিনি শুধুই ফুটবল ইতিহাসের নয়, বরং গ্লোবাল ব্যবসা ও বিনিয়োগ জগতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের স্থান সুদৃঢ় করেই চলেছেন।