ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এক গুরুত্বপূর্ন লড়াইয়ে ঘরের মাঠে লিভারপুলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আগামী মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরেছে অ্যাস্টন ভিলা। ভিলা পার্কে পাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ে শীর্ষ পাঁচে থাকার আত্মবিশ্বাস মজবুত করল উনাই এমেরির শিষ্যদের।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে মরগান রজার্সের গোল ভিলাকে এগিয়ে দিল। বিরতির পর ৫২ মিনিটে ভার্জিল ফান ডাইক সমতা ফিরিয়ে আনলেও সেই স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র পাঁচ মিনিট পরে ওলি ওয়াটকিন্স বিদেশি ভক্তদের উল্লাস ফেটে পড়ে এমন এক গোল করে ভিলাকে পুনরায় এগিয়ে দেন, এবং ৭৩ মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে স্কোর ৩-১ নিয়ে যান ওয়াটকিন্স। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে জন ম্যাকগিন ফের ভিলার সুবিধা বাড়িয়ে ৪-১ করেন। ইনজুরি সময়ে ফান ডাইক একটি গোল করে লিভারপুলকে সামান্য সান্ত্বনা দিলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা বদলানো আর সম্ভব হয়নি।
এই পরাজয়ের সঙ্গে লিভারপুলের জন্য কিছু কষ্টকর রেকর্ডও জড়িয়েছিল। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ছিল লিভারপুলের ১৯তম হার, আর আর্নে স্লট দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মৌসুমে প্রথমবার এক ম্যাচে চার গোল খেতে হলো তাদের। প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত তারা ৫১ গোল হজম করেছে, যা রক্ষণভাগের দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। এতে সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে এবং লিগের শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকার পথ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ভিলার জন্য এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ এবং উৎসাহব্যঞ্জক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি, আগামী বুধবার জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে তারা উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনালে নামবে — দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর বড় কোনো ট্রফি জয়ের সুযোগ ভিলার সামনে। কোচ উনাই এমেরি এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, দল ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং খেলোয়াড়রা ঠিক সময়ে সেরাটা দেখিয়েছে। ক্লাব তহবিল ও সমর্থকদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
পয়েন্ট টেবিল দেখলে ৩৭ ম্যাচ শেষে ভিলা ৬২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে এবং অবশিষ্ট এক ম্যাচে ফলাফল যাই হোক—তাদের সেরা পাঁচ থেকে ছিটকে যাওয়ার গাণিতিক সম্ভাবনা নেই। লিভারপুলের সংগ্রহ ৫৯ পয়েন্ট, তারা পঞ্চম স্থানে আছে এবং শেষ ম্যাচে (২৪ মে) ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে জয় ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























