০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শাহরাস্তিতে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিন প্রতিমন্ত্রী কর্ণফুলী ড্রাই ডক পরিদর্শনে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করার আশ্বাস দিলেন তারেক রহমান চাঁদপুর শাহরাস্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সমাবেশ হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু ঋণের জালে চিড়েচ্যাপ্টা অর্থনীতি — কর বাড়ছে জনগণের কাঁধে ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত — একটি সংসার নিভে গেল মেটাল কার্ডের প্রলোভন থেকে সতর্ক করলেন বাংলাদেশ ব্যাংক ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত, নিভে গেল একটি সংসার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার অবসরে; দায়িত্বে এস এন নজরুল ইসলাম

লিটনের লড়াকু ১২৬, বাংলাদেশ ২৭৮; প্রথম দিন শেষে এগিয়ে পাকিস্তান

সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন ছিল ব্যক্তিগত বীরত্ব আর দলীয় বিপর্যয়ের এক মিশ্র ছবি। টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুতেই টপ অর্ডারের ধাক্কায় পড়ে যায় স্বাগতিকরা।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই মাহমুদুল হাসান জয় রানের খাতা খুলতে না পারতেই ফিরে গেলে বড় ধাক্কা লাগে বাংলাদেশকে। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ২৬ রানের একটি প্রণোদনাদায়ক ইনিংস খেললেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ এবং অভিজ্ঞ মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম যথাক্রমে ২৩-২৩ রানে আউট হলে এক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ১১৬/6। পাকিস্তানের পেসার খুররম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংতে অভিজ্ঞ ব্যাটিং ইউনিট সমস্যায় পড়ে।

দলের ধ্বংসস্তূপের মাঝেই একাই লড়াই চালিয়ে যান উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস। ধৈর্য ও আধুনিক ছাড়াও কৌশল মিশিয়ে তিনি ইনিংস ঠিক রাখেন। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে সামান্য হলেও দরকারী জুটিটি লিটনকে উইকেটে খাড়া রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়—তাইজুল করেছেন মাত্র ১৬ রান। লিটন মাত্র ১৩৫ বল খেলে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানে আউট হলে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রানে থামে। লিটনের সেই একক সংগ্রহটি ছিল কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দলকে মানসম্মান বজায় রাখার মূল কারণও ছিল।

দিনের শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে ব্যর্থ হয়। দিনের শেষ পর্যন্ত তারা বিনা উইকেটে ২১ রান সংগ্রহ করে; ফলে ১০ উইকেট হাতে রেখে বর্তমানে তারা ২৫৭ রানে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ চারজন বোলার ব্যবহার করলেও সফরকারীরা অটল ছিলেন—ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল ও এয়াইস আজান দিন সুরক্ষিতভাবে পার করে দেন।

মিরপুর টেস্টে পাওয়া জয়ের ধারায় সিলেটেও পাকিস্তান আক্রমণাত্মক থাকে, তবে লিটনের দৃঢ়তা বাংলাদেশের বোলারদের কিছু আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। প্রথম দিনের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বড় সংগ্রহ তোলা থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেলেও লিটনের কল্যাণে তারা ম্যাচে টিকে থাকতে পেরেছে।

দ্বিতীয় দিনের লক্ষ্য হিসেবে বাংলাদেশ চেষ্টা করবে দ্রুত পাকিস্তানের উইকেট তুলে নিয়ে বড় লিড নেওয়ার পথ তৈরি করতে। পক্ষান্তরে পাকিস্তান তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং থেকে ২৭৮ পেরিয়ে বড় স্কোর গড়ার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে থাকবে। প্রথম দিন শেষে ম্যাচটি রোমাঞ্চকর মোড় নিয়েছে—আগামীকালকের প্রথম সেশনটি উভয় দলের জন্যই বিশেষ গুরুত্বের হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তিন প্রতিমন্ত্রী কর্ণফুলী ড্রাই ডক পরিদর্শনে

লিটনের লড়াকু ১২৬, বাংলাদেশ ২৭৮; প্রথম দিন শেষে এগিয়ে পাকিস্তান

প্রকাশিতঃ ০২:২২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন ছিল ব্যক্তিগত বীরত্ব আর দলীয় বিপর্যয়ের এক মিশ্র ছবি। টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুতেই টপ অর্ডারের ধাক্কায় পড়ে যায় স্বাগতিকরা।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই মাহমুদুল হাসান জয় রানের খাতা খুলতে না পারতেই ফিরে গেলে বড় ধাক্কা লাগে বাংলাদেশকে। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ২৬ রানের একটি প্রণোদনাদায়ক ইনিংস খেললেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ এবং অভিজ্ঞ মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম যথাক্রমে ২৩-২৩ রানে আউট হলে এক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ১১৬/6। পাকিস্তানের পেসার খুররম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংতে অভিজ্ঞ ব্যাটিং ইউনিট সমস্যায় পড়ে।

দলের ধ্বংসস্তূপের মাঝেই একাই লড়াই চালিয়ে যান উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস। ধৈর্য ও আধুনিক ছাড়াও কৌশল মিশিয়ে তিনি ইনিংস ঠিক রাখেন। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে সামান্য হলেও দরকারী জুটিটি লিটনকে উইকেটে খাড়া রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়—তাইজুল করেছেন মাত্র ১৬ রান। লিটন মাত্র ১৩৫ বল খেলে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানে আউট হলে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রানে থামে। লিটনের সেই একক সংগ্রহটি ছিল কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দলকে মানসম্মান বজায় রাখার মূল কারণও ছিল।

দিনের শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে ব্যর্থ হয়। দিনের শেষ পর্যন্ত তারা বিনা উইকেটে ২১ রান সংগ্রহ করে; ফলে ১০ উইকেট হাতে রেখে বর্তমানে তারা ২৫৭ রানে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ চারজন বোলার ব্যবহার করলেও সফরকারীরা অটল ছিলেন—ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল ও এয়াইস আজান দিন সুরক্ষিতভাবে পার করে দেন।

মিরপুর টেস্টে পাওয়া জয়ের ধারায় সিলেটেও পাকিস্তান আক্রমণাত্মক থাকে, তবে লিটনের দৃঢ়তা বাংলাদেশের বোলারদের কিছু আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। প্রথম দিনের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বড় সংগ্রহ তোলা থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেলেও লিটনের কল্যাণে তারা ম্যাচে টিকে থাকতে পেরেছে।

দ্বিতীয় দিনের লক্ষ্য হিসেবে বাংলাদেশ চেষ্টা করবে দ্রুত পাকিস্তানের উইকেট তুলে নিয়ে বড় লিড নেওয়ার পথ তৈরি করতে। পক্ষান্তরে পাকিস্তান তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং থেকে ২৭৮ পেরিয়ে বড় স্কোর গড়ার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে থাকবে। প্রথম দিন শেষে ম্যাচটি রোমাঞ্চকর মোড় নিয়েছে—আগামীকালকের প্রথম সেশনটি উভয় দলের জন্যই বিশেষ গুরুত্বের হবে।