০৮:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চিফ হুইপ: সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার শেষ হতে পারে জাতীয় সংসদ ভবনে অন-গ্রিড সৌর রুফটপ প্রকল্পের উদ্বোধন রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবনে নবায়নযোগ্য অন-গ্রিড রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উদ্বোধন রেলসচিব: ঈদযাত্রায় বড় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই রামিসা হত্যাকাণ্ডে সারা জাতি শোকাহত ও ক্ষুব্ধ: তথ্যমন্ত্রী হাম মোকাবিলায় চিকিৎসকদের ঈদে ছুটি বাতিল ঘোষণা—স্বাস্থ্যমন্ত্রী নজরুলের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীতে ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৯৪তম মিনিটের জয়ে ১০ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরল হাল সিটি

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফুটবলপ্রেমীদের নিষ্পরোক্ষ উত্তেজনা ছাড়িয়ে গেল সার্বিক রোমাঞ্চে। নিয়মিত সময়ের পর যোগ করা ৯৪তম মিনিটে হিরাকাওয়ার লম্বা ক্রস থেকে বল পেয়ে ব্রাইন আক্রমণ পাঁক করা চেষ্টা করলে মিডলসবোরোর গোলরক্ষী ঠিকভাবে বল আটকে রাখতে পারেননি। তৎক্ষণাৎ উপযোগী সময়ে এগিয়ে এসে ওলি ম্যাকবার্নি সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বল জালে ঠুকে দেন এবং হাল সিটিকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দিয়ে ক্লাবটিকে দশ বছর পর পুনরায় প্রিমিয়ার লিগে ফেরান।

এই জয়ই ছিল হাল সিটির দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ বিন্দু। চূড়ান্ত মুহূর্তের সেই গোলে ম্যাচের নাটকীয়তা চূড়ায় উঠল এবং সমর্থকরা ঐতিহাসিক এই মুহূর্ত উদযাপন করতে ভুলে গেলেন না। গোলটি কেবল একটি ম্যাচের ফল নয়—ক্লাবটির দশ বছর ধরে চলা সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে একটি প্রতিশোধমূলক প্রত্যাবর্তনও।

চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফ ফাইনালটি নানা বিতর্ক ও নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে গড়িয়েছে। ‘স্পাইগেট’ কেলেঙ্কারির কারণে সাউদাম্পটন বহিষ্কৃত হওয়ার পর আকস্মিকভাবে ফাইনালে উঠে এসেছিল মিডলসবোরো। প্রস্তুতির স্বল্পতা ও বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে না পারায় তারা মাঠে তাদের সেরা ফুটবল প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছিল, ফলে হাল সিটির ধৈর্য এবং পরিকল্পনামাফিক আক্রমণই প্রতিপক্ষকে হারাতে পুরোসময় কার্যকর প্রমাণিত হয়।

হাল সিটির সফলতা কোনো সহজ গল্প ছিল না। ২০১৬-১৭ মৌসুমে লিগ থেকে অবনমনের পর ক্লাবটি কয়েক বছরে বড় উত্থান-পতনই দেখেছে—মালিকানা পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ কলহ ও খেলায় অনির্ধারিত ফল হারানো। এক পর্যায়ে তারা লিগ ওয়ানে নামিয়ে গিয়েছিল, সেই থেকে উঠে আসা ছিল সমর্থকদের জন্য দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য অপেক্ষা।

ক্লাবের পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কোচ সার্গেজ জাকিরোভিচ। তাঁর অধীনে দল মানসিকভাবে দৃঢ় হয় এবং ২০২৪-২৫ মৌসুমে রেলিগেশন এড়ানোর পর বর্তমান মৌসুমে তারা সম্পূর্ণ অন্যরকম এক রূপে আবির্ভূত হয়—সংগঠিত ডিফেন্স, দ্রুত কনট্রা ও ধারাবাহিক আক্রমণ। চ্যাম্পিয়নশিপে ষষ্ঠ স্থান পেয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করা এবং সেমিফাইনালে মিলওয়ালকে দুই লেগ মিলিয়ে জয়ী হওয়া এই কৌশলগত পরিকল্পনারই ফল।

অলি ম্যাকবার্নির সেই জয়গোল এখন ক্লাবের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দশ বছর পর শীর্ষ লিগে ফেরার অর্থ শুধু সম্মান নয়—অর্থনৈতিক সুবিধা, উচ্চ মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ক্লাবের ভবিষ্যত গড়ার নতুন সুযোগও। প্রিমিয়ার লিগের বড় দলগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য হাল সিটি ইতিমধ্যেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেবে এবং প্রয়োজনীয় শক্তি ও রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা বাড়াবে।

এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন হাল সিটির সমর্থকদের জন্য দীর্ঘদিনে একটি তৃপ্তির উৎস হয়ে থাকবে। ক্লাব ও শহরের জন্য দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং নতুন মৌসুমে তাদের প্রতিটি ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাসের ছায়া দেখা যাবে—একটি ক্লাবের সংগ্রাম, ধৈর্য ও চূড়ান্ত বিজয়ের গল্প।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু

৯৪তম মিনিটের জয়ে ১০ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরল হাল সিটি

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফুটবলপ্রেমীদের নিষ্পরোক্ষ উত্তেজনা ছাড়িয়ে গেল সার্বিক রোমাঞ্চে। নিয়মিত সময়ের পর যোগ করা ৯৪তম মিনিটে হিরাকাওয়ার লম্বা ক্রস থেকে বল পেয়ে ব্রাইন আক্রমণ পাঁক করা চেষ্টা করলে মিডলসবোরোর গোলরক্ষী ঠিকভাবে বল আটকে রাখতে পারেননি। তৎক্ষণাৎ উপযোগী সময়ে এগিয়ে এসে ওলি ম্যাকবার্নি সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বল জালে ঠুকে দেন এবং হাল সিটিকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দিয়ে ক্লাবটিকে দশ বছর পর পুনরায় প্রিমিয়ার লিগে ফেরান।

এই জয়ই ছিল হাল সিটির দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ বিন্দু। চূড়ান্ত মুহূর্তের সেই গোলে ম্যাচের নাটকীয়তা চূড়ায় উঠল এবং সমর্থকরা ঐতিহাসিক এই মুহূর্ত উদযাপন করতে ভুলে গেলেন না। গোলটি কেবল একটি ম্যাচের ফল নয়—ক্লাবটির দশ বছর ধরে চলা সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে একটি প্রতিশোধমূলক প্রত্যাবর্তনও।

চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফ ফাইনালটি নানা বিতর্ক ও নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে গড়িয়েছে। ‘স্পাইগেট’ কেলেঙ্কারির কারণে সাউদাম্পটন বহিষ্কৃত হওয়ার পর আকস্মিকভাবে ফাইনালে উঠে এসেছিল মিডলসবোরো। প্রস্তুতির স্বল্পতা ও বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে না পারায় তারা মাঠে তাদের সেরা ফুটবল প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছিল, ফলে হাল সিটির ধৈর্য এবং পরিকল্পনামাফিক আক্রমণই প্রতিপক্ষকে হারাতে পুরোসময় কার্যকর প্রমাণিত হয়।

হাল সিটির সফলতা কোনো সহজ গল্প ছিল না। ২০১৬-১৭ মৌসুমে লিগ থেকে অবনমনের পর ক্লাবটি কয়েক বছরে বড় উত্থান-পতনই দেখেছে—মালিকানা পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ কলহ ও খেলায় অনির্ধারিত ফল হারানো। এক পর্যায়ে তারা লিগ ওয়ানে নামিয়ে গিয়েছিল, সেই থেকে উঠে আসা ছিল সমর্থকদের জন্য দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য অপেক্ষা।

ক্লাবের পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কোচ সার্গেজ জাকিরোভিচ। তাঁর অধীনে দল মানসিকভাবে দৃঢ় হয় এবং ২০২৪-২৫ মৌসুমে রেলিগেশন এড়ানোর পর বর্তমান মৌসুমে তারা সম্পূর্ণ অন্যরকম এক রূপে আবির্ভূত হয়—সংগঠিত ডিফেন্স, দ্রুত কনট্রা ও ধারাবাহিক আক্রমণ। চ্যাম্পিয়নশিপে ষষ্ঠ স্থান পেয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করা এবং সেমিফাইনালে মিলওয়ালকে দুই লেগ মিলিয়ে জয়ী হওয়া এই কৌশলগত পরিকল্পনারই ফল।

অলি ম্যাকবার্নির সেই জয়গোল এখন ক্লাবের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দশ বছর পর শীর্ষ লিগে ফেরার অর্থ শুধু সম্মান নয়—অর্থনৈতিক সুবিধা, উচ্চ মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ক্লাবের ভবিষ্যত গড়ার নতুন সুযোগও। প্রিমিয়ার লিগের বড় দলগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য হাল সিটি ইতিমধ্যেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেবে এবং প্রয়োজনীয় শক্তি ও রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা বাড়াবে।

এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন হাল সিটির সমর্থকদের জন্য দীর্ঘদিনে একটি তৃপ্তির উৎস হয়ে থাকবে। ক্লাব ও শহরের জন্য দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং নতুন মৌসুমে তাদের প্রতিটি ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাসের ছায়া দেখা যাবে—একটি ক্লাবের সংগ্রাম, ধৈর্য ও চূড়ান্ত বিজয়ের গল্প।