০১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

হার নিয়েই শেষ—পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি অধ্যায়

ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে পেপ গার্দিওলার এক যুগব্যাপী অধিনায়কত্ব আজ সূচ করতে গেল হারেই। দীর্ঘ দশ বছরের সফল যাত্রার পর বিদায়ী ম্যাচে সিটি ২-১ ব্যবধানে হারায় অ্যাস্টন ভিলারকে—তবে গার্দিওলার সময়কালের স্মৃতি ও কীর্তি ফুটবল বিশ্বে অপরিসীমভাবে রয়ে গেল।

গত শুক্রবারই গার্দিওলা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে এই মৌসুমই হবে তার সিটির যাত্রার শেষ। তাঁর অধীনে ক্লাবটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে—দেশীয় লিগ ও কাপে নিয়মিতভাবে শিরোপা জিতেছে এবং বার্ষিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরিতে সফল হয়েছে।

শুক্রবারের ম্যাচটি শিরোপার দিক থেকে নির্ধারণী না হলেও এতিম কথা যে গ্যালারি ভরা দর্শকরা শুধুই এক কিংবদন্তিকে বিদায় জানানোর জন্য জড়ো হয়েছিলো। দর্শকরা গার্দিওলার জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়—কাতালান পতাকা উড়ানো হয় এবং স্টেডিয়ামের এক অংশে নতুনভাবে উন্মোচন করা হয় ‘পেপ গার্দিওলা স্ট্যান্ড’। এ সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী ইতিহাদ মাঠে ছিল শ্রদ্ধা ও আবেগের মিলন।

ম্যাচে সিটি প্রথমার্ধে কর্নার থেকে গোল করে এগিয়ে গেল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাস্টন ভিলার মাঠে ফিরে এসে দুই গোল করে ম্যাচ উল্টে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। গার্দিওলা এদিন দলের একাদশে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন—গত ম্যাচের তুলনায় ন’জনকে বদলে দিয়েছেন এবং প্রধান গোলনির্ভরতার খেলোয়াড়দের মধ্যে কেউ-ই জায়গা পায়নি।

বহু মৌসুম ধরে খেলা ও প্রশিক্ষণের মধ্যে গার্দিওলার প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা স্পষ্ট ছিল। মাঠে খেলায় হার থাকলেও দর্শক ও ক্লাব স্তরে তাঁর অবদানের কদর অটল। গার্দিওলার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটি আধুনিক ইংলিশ ফুটবলে একটি স্বর্ণযুগ উপহার দিয়েছে—ক্লাবকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় স্থিতিশীলতা ও উচ্চমান ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

এখন গার্দিওলা বিদায় নিলেন ব্যর্থতা হিসেবে নয়, বরং এক যুগের সাফল্যের প্রতীক হয়ে—যা পরবর্তী নেতৃত্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ও মানদণ্ড রেখে গেল। সামনে নতুন কোনো কোচের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটির নতুন অধ্যায় শুরু হবে; তবে গার্দিওলার রেখে যাওয়া ঐতিহ্য ও মানসম্পন্ন কাজ পরবর্তী যেকোনো পরিকল্পনাকে মাপকাঠি হিসেবে নিদান করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

হার নিয়েই শেষ—পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি অধ্যায়

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে পেপ গার্দিওলার এক যুগব্যাপী অধিনায়কত্ব আজ সূচ করতে গেল হারেই। দীর্ঘ দশ বছরের সফল যাত্রার পর বিদায়ী ম্যাচে সিটি ২-১ ব্যবধানে হারায় অ্যাস্টন ভিলারকে—তবে গার্দিওলার সময়কালের স্মৃতি ও কীর্তি ফুটবল বিশ্বে অপরিসীমভাবে রয়ে গেল।

গত শুক্রবারই গার্দিওলা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে এই মৌসুমই হবে তার সিটির যাত্রার শেষ। তাঁর অধীনে ক্লাবটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে—দেশীয় লিগ ও কাপে নিয়মিতভাবে শিরোপা জিতেছে এবং বার্ষিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরিতে সফল হয়েছে।

শুক্রবারের ম্যাচটি শিরোপার দিক থেকে নির্ধারণী না হলেও এতিম কথা যে গ্যালারি ভরা দর্শকরা শুধুই এক কিংবদন্তিকে বিদায় জানানোর জন্য জড়ো হয়েছিলো। দর্শকরা গার্দিওলার জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়—কাতালান পতাকা উড়ানো হয় এবং স্টেডিয়ামের এক অংশে নতুনভাবে উন্মোচন করা হয় ‘পেপ গার্দিওলা স্ট্যান্ড’। এ সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী ইতিহাদ মাঠে ছিল শ্রদ্ধা ও আবেগের মিলন।

ম্যাচে সিটি প্রথমার্ধে কর্নার থেকে গোল করে এগিয়ে গেল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাস্টন ভিলার মাঠে ফিরে এসে দুই গোল করে ম্যাচ উল্টে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। গার্দিওলা এদিন দলের একাদশে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন—গত ম্যাচের তুলনায় ন’জনকে বদলে দিয়েছেন এবং প্রধান গোলনির্ভরতার খেলোয়াড়দের মধ্যে কেউ-ই জায়গা পায়নি।

বহু মৌসুম ধরে খেলা ও প্রশিক্ষণের মধ্যে গার্দিওলার প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা স্পষ্ট ছিল। মাঠে খেলায় হার থাকলেও দর্শক ও ক্লাব স্তরে তাঁর অবদানের কদর অটল। গার্দিওলার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটি আধুনিক ইংলিশ ফুটবলে একটি স্বর্ণযুগ উপহার দিয়েছে—ক্লাবকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় স্থিতিশীলতা ও উচ্চমান ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

এখন গার্দিওলা বিদায় নিলেন ব্যর্থতা হিসেবে নয়, বরং এক যুগের সাফল্যের প্রতীক হয়ে—যা পরবর্তী নেতৃত্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ও মানদণ্ড রেখে গেল। সামনে নতুন কোনো কোচের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটির নতুন অধ্যায় শুরু হবে; তবে গার্দিওলার রেখে যাওয়া ঐতিহ্য ও মানসম্পন্ন কাজ পরবর্তী যেকোনো পরিকল্পনাকে মাপকাঠি হিসেবে নিদান করবে।