০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে আইএলও’র ১১৪তম সম্মেলনে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন জনতুষ্টি নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী হামের তাণ্ডবের মাঝে ডেঙ্গু নিয়েও সতর্কতা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই বৈশ্বিক চাপের কারণে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী শারীরিক অসুস্থতা জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ

আইপিএলে পুরস্কারের বন্যায় ভাসলেন ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী

রাজস্থান রয়্যালস দল শিরোপা জিততে না পারলেও মৌসুমটা পুরোপুরি বৈভব সূর্যবংশীর। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এই তরুণ ব্যাটসম্যান টুর্নামেন্ট জুড়ে এমন দাপট দেখিয়েছেন যে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটভক্তরা তাঁর খেলা নিয়ে কুণ্ঠিত। ফাইনাল হলেও ব্যক্তিগত কৃতিত্বে তিনি একের পর এক সম্মাননা নিজের ঝুলিতে ভরেছেন।

আইপিএলের ১৯তম আসরে বৈভব ১৬ ইনিংসে খেলেছেন এবং ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে মোট ৭৭৬ রান সংগ্রহ করে নজির গড়েছেন। এই অসাধারণ ব্যাটিংয়ের জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার প্রতীক ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ জিতেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০১১ সালের ক্রিস গেইলের পর erstmals তিনি এক মৌসুমে রান ও স্ট্রাইক রেটে সবার ওপরে থেকে একটি বিরল গৌরব অর্জন করেছেন। রাজস্থান লীগ পর্বে দৃঢ়ভাবে খেলায় উঠে শেষ চারে পৌঁছার পেছনে তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়ের বড় অবদান ছিল।

ব্যক্তিগত একাধিক রেকর্ড তিনি ভাঙেছেন—৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন এবং ‘সুপার সিক্সেস অব দ্য সিজন’ খেতাবও জিতে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এবারের আইপিএলের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (এমভিপি) এবং ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’ পুরস্কার দুটোই অর্জন করে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই দুই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান একসাথে জয়ে নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া তাঁর হিটিং ফোর্সকে সম্মান জানিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে ‘সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন’ সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে।

বোলিং দিকেও মাঠ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। গুজরাট টাইটানসের কাগিসো রাবাদা ১৭ ম্যাচে ২৯ উইকেট নিয়ে ‘পার্পল ক্যাপ’ জিতেছেন, তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ৯.৬৮। রাবাদার ধারাবাহিক বোলিং গর্জিয়াসকে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে সহায়তা করেছে এবং এটি রাবাদার দ্বিতীয় পার্পল ক্যাপ—এর আগে ২০২০ সালে তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে এই শিরোনামটি জিতেছিলেন।

পুরস্কার গ্রহণের সময় বৈভব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বললেন, এটি তাঁর জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। প্রথম বড় মঞ্চে সাক্ষাৎকারে একটু স্নায়ু অনুভব করলেও পরের মৌসুমে আরও উন্নতি করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন। বৈভব বলেন, চাপের মুখে নিজেকে শান্ত রেখে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলা শিখেছেন—এবং ইনজুরি এড়াতে ফিটনেস ও মানসিক একাগ্রতায় এখন থেকে বিশেষভাবে মনোযোগ দেবেন।

এই আসরটি হয়তো দলের জন্য খেতাব আনেনি, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে বৈভব সূর্যবংশীর উত্থান আইপিএলের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে তিনি কিভাবে নিজেদের আরও গড়বেন, সেটা দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা মুখিয়ে আছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে

আইপিএলে পুরস্কারের বন্যায় ভাসলেন ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

রাজস্থান রয়্যালস দল শিরোপা জিততে না পারলেও মৌসুমটা পুরোপুরি বৈভব সূর্যবংশীর। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এই তরুণ ব্যাটসম্যান টুর্নামেন্ট জুড়ে এমন দাপট দেখিয়েছেন যে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটভক্তরা তাঁর খেলা নিয়ে কুণ্ঠিত। ফাইনাল হলেও ব্যক্তিগত কৃতিত্বে তিনি একের পর এক সম্মাননা নিজের ঝুলিতে ভরেছেন।

আইপিএলের ১৯তম আসরে বৈভব ১৬ ইনিংসে খেলেছেন এবং ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে মোট ৭৭৬ রান সংগ্রহ করে নজির গড়েছেন। এই অসাধারণ ব্যাটিংয়ের জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার প্রতীক ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ জিতেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০১১ সালের ক্রিস গেইলের পর erstmals তিনি এক মৌসুমে রান ও স্ট্রাইক রেটে সবার ওপরে থেকে একটি বিরল গৌরব অর্জন করেছেন। রাজস্থান লীগ পর্বে দৃঢ়ভাবে খেলায় উঠে শেষ চারে পৌঁছার পেছনে তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়ের বড় অবদান ছিল।

ব্যক্তিগত একাধিক রেকর্ড তিনি ভাঙেছেন—৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন এবং ‘সুপার সিক্সেস অব দ্য সিজন’ খেতাবও জিতে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এবারের আইপিএলের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (এমভিপি) এবং ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’ পুরস্কার দুটোই অর্জন করে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই দুই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান একসাথে জয়ে নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া তাঁর হিটিং ফোর্সকে সম্মান জানিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে ‘সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন’ সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে।

বোলিং দিকেও মাঠ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। গুজরাট টাইটানসের কাগিসো রাবাদা ১৭ ম্যাচে ২৯ উইকেট নিয়ে ‘পার্পল ক্যাপ’ জিতেছেন, তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ৯.৬৮। রাবাদার ধারাবাহিক বোলিং গর্জিয়াসকে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে সহায়তা করেছে এবং এটি রাবাদার দ্বিতীয় পার্পল ক্যাপ—এর আগে ২০২০ সালে তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে এই শিরোনামটি জিতেছিলেন।

পুরস্কার গ্রহণের সময় বৈভব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বললেন, এটি তাঁর জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। প্রথম বড় মঞ্চে সাক্ষাৎকারে একটু স্নায়ু অনুভব করলেও পরের মৌসুমে আরও উন্নতি করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন। বৈভব বলেন, চাপের মুখে নিজেকে শান্ত রেখে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলা শিখেছেন—এবং ইনজুরি এড়াতে ফিটনেস ও মানসিক একাগ্রতায় এখন থেকে বিশেষভাবে মনোযোগ দেবেন।

এই আসরটি হয়তো দলের জন্য খেতাব আনেনি, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে বৈভব সূর্যবংশীর উত্থান আইপিএলের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে তিনি কিভাবে নিজেদের আরও গড়বেন, সেটা দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা মুখিয়ে আছে।