০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন মোঃ মুহিদুল ইসলাম মো. মুহিদুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান বাজেট ও সংস্কারে স্বাস্থ্যখাত: পরিবর্তনের পথে বিইআরসি বলেছে: পাইকারি-গ্রাহক—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল প্রত্যেক নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতিসংঘে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ড. খলিলুর রহমান জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ট্রাম্প স্বীকার: ফোনে নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলেছিলাম — রাগ নয়, বিরক্তি ছিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে তিনি সাম্প্রতিক এক ফোনকলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, এটি রাগ থেকে হওয়া মন্তব্য নয়, বরং বিরক্তির প্রকাশ ছিল।

গত বুধবার (৩ জুন) পডকাস্ট শো ‘পোড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, “হ্যাঁ, আমি তাকে পাগল বলেছিলাম; তবে রাগতভাবে বলিনি। তিনি ইসরায়েলি বাহিনীকে লেবাননে টানা অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এতে আমি তার প্রতি খানিকটা বিরক্ত ছিলাম। আসলে আমি বলতে চেয়েছিলাম, বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) আমাদের এটা থামানো উচিত।”

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, গত সোমবার (১ জুন) তিনি নেতানিয়াহুকে ফোন করে তীব্র ভাষায় বলেছিলেন, “আপনি একটা জঘন্য পাগল। যদি আমি না থাকতাম, তাহলে এতদিনে আপনি জেলে পচতেন। আমি আপনাকে বাঁচিয়েছি। সবাই এখন আপনাকে ঘৃণা করে এবং শুধু আপনার কারণে ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।” ট্রাম্প বলেছেন, এসব কথাগুলো তিনি ক্ষোভে বলে ফেলেননি, বরং পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ ও হতবাক ছিলেন।

এর আগে মে মাসে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। কিন্তু চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননে হিজবুল্লাহকে দমনের নামে অভিযান চালিয়ে যায় এবং সূত্রে বলা হয়—এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পের বিরক্তিও মূলত সেই নির্দেশকে কেন্দ্র করে ছিল।

ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে এ ঘটনার কারণে তার ও ট্রাম্পের সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এক। মাঝেমধ্যে কিছু বিষয়ে আমাদের মতবিরোধ হয়—এমন মতবিরোধ অনেক দৃঢ় বন্ধনের পরিবারের মধ্যেও হয়। হোয়াইট হাউসে যারা এখন까지 ছিলেন, তাদের মধ্যে তিনি ইসরায়েলের সবচেয়ে মহান বন্ধু। তিনি আমাকে সম্মান করেন, আমিও তাকে সম্মান করি, এবং আমাদের মতবিরোধ পাশ কাটিয়ে আমরা কাজ করতে পারি।”

পোডকাস্টে ট্রাম্পকে এক প্রশ্নে একথাও বলা হয় যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু কি উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এ প্রশ্নে ট্রাম্প কিছুটা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, তিনি নিজেই সংঘাত শুরু করেছেনও কারণ তিনি ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে দিতে চাননি। ট্রাম্প দাবি করেন, “আমি সংঘাত শুরু করেছি কারণ আমরা তাদের পরমাণু অস্ত্র বানিয়ে দিতে পারি না। এখন অবশ্য এর সঙ্গে ইসরায়েলও জড়িয়ে পড়েছে, কারণ ইরান পরমাণু অস্ত্র বানালে তাদেরই প্রথম ক্ষতিপূরণ গোপন থাকবে না। সত্যি বলছি, যদি আমি না থাকতাম— তাহলে এ পৃথিবী থেকে ইসরায়েলের নাম মুছে যেত।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে টানাপোড়েনের পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে বলে খবর রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, শুরুতে ইসরায়েল ওই অভিযানে যুক্ত থাকলেও পরে সরে গিয়ে লেবাননে মনোনিবেশ করে। বর্তমান বিতর্ক ও ফোনালাপ সেই প্রেক্ষাপট থেকেই ঘিরে আছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মো. মুহিদুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান

ট্রাম্প স্বীকার: ফোনে নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলেছিলাম — রাগ নয়, বিরক্তি ছিল

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে তিনি সাম্প্রতিক এক ফোনকলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, এটি রাগ থেকে হওয়া মন্তব্য নয়, বরং বিরক্তির প্রকাশ ছিল।

গত বুধবার (৩ জুন) পডকাস্ট শো ‘পোড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, “হ্যাঁ, আমি তাকে পাগল বলেছিলাম; তবে রাগতভাবে বলিনি। তিনি ইসরায়েলি বাহিনীকে লেবাননে টানা অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এতে আমি তার প্রতি খানিকটা বিরক্ত ছিলাম। আসলে আমি বলতে চেয়েছিলাম, বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) আমাদের এটা থামানো উচিত।”

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, গত সোমবার (১ জুন) তিনি নেতানিয়াহুকে ফোন করে তীব্র ভাষায় বলেছিলেন, “আপনি একটা জঘন্য পাগল। যদি আমি না থাকতাম, তাহলে এতদিনে আপনি জেলে পচতেন। আমি আপনাকে বাঁচিয়েছি। সবাই এখন আপনাকে ঘৃণা করে এবং শুধু আপনার কারণে ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।” ট্রাম্প বলেছেন, এসব কথাগুলো তিনি ক্ষোভে বলে ফেলেননি, বরং পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ ও হতবাক ছিলেন।

এর আগে মে মাসে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। কিন্তু চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননে হিজবুল্লাহকে দমনের নামে অভিযান চালিয়ে যায় এবং সূত্রে বলা হয়—এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পের বিরক্তিও মূলত সেই নির্দেশকে কেন্দ্র করে ছিল।

ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে এ ঘটনার কারণে তার ও ট্রাম্পের সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এক। মাঝেমধ্যে কিছু বিষয়ে আমাদের মতবিরোধ হয়—এমন মতবিরোধ অনেক দৃঢ় বন্ধনের পরিবারের মধ্যেও হয়। হোয়াইট হাউসে যারা এখন까지 ছিলেন, তাদের মধ্যে তিনি ইসরায়েলের সবচেয়ে মহান বন্ধু। তিনি আমাকে সম্মান করেন, আমিও তাকে সম্মান করি, এবং আমাদের মতবিরোধ পাশ কাটিয়ে আমরা কাজ করতে পারি।”

পোডকাস্টে ট্রাম্পকে এক প্রশ্নে একথাও বলা হয় যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু কি উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এ প্রশ্নে ট্রাম্প কিছুটা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, তিনি নিজেই সংঘাত শুরু করেছেনও কারণ তিনি ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে দিতে চাননি। ট্রাম্প দাবি করেন, “আমি সংঘাত শুরু করেছি কারণ আমরা তাদের পরমাণু অস্ত্র বানিয়ে দিতে পারি না। এখন অবশ্য এর সঙ্গে ইসরায়েলও জড়িয়ে পড়েছে, কারণ ইরান পরমাণু অস্ত্র বানালে তাদেরই প্রথম ক্ষতিপূরণ গোপন থাকবে না। সত্যি বলছি, যদি আমি না থাকতাম— তাহলে এ পৃথিবী থেকে ইসরায়েলের নাম মুছে যেত।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে টানাপোড়েনের পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে বলে খবর রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, শুরুতে ইসরায়েল ওই অভিযানে যুক্ত থাকলেও পরে সরে গিয়ে লেবাননে মনোনিবেশ করে। বর্তমান বিতর্ক ও ফোনালাপ সেই প্রেক্ষাপট থেকেই ঘিরে আছে।