০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
হাম টিকাদানে গাফিলতি ধরা গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকা-মানবাধিকার লঙ্ঘন শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দেশে ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ গড়ার সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে — প্রধানমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষ্যকে ‘গোপন বৈঠক’ বলা ভিত্তিহীন: বিজিবির ব্যাখ্যা অসৌজন্যমূলক আচরণে ভারতের সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন জাহেদ উর রহমান অমিত শাহের সঙ্গে মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক’ নয়: বিজিবির ব্যাখ্যা দিল্লি বিমানবন্দরে অসৌজন্যমূল্যের প্রতিবাদে ভারত সফর বাতিল করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান

বাকৃবির দেয়ালে পেলে ও ম্যারাডোনার গ্রাফিতি

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসেও। দূরদেশের এই বড় মঞ্চকে ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনায় ভরা—তবে শুধু বর্তমান তারকা মেসি বা নেইমার নয়, ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার ছবি আঁকা হয়েই বিশ্বকাপের উত্সবকে ভিন্ন করে তুলেছে শিক্ষার্থীরা।

শাহজালাল হলের কমনরুমের দেয়ালে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের প্রায় দশ ফুট উচ্চতার গ্রাফিতি এঁকেছেন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ফারাবি। অন্যদিকে একই হলে আর্জেন্টিনা সমর্থক এবং ভেটেরিনারি অনুষদরের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক শান্ত প্রায় এগারো ফুট উচ্চতার ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছেন।

পেলের গ্রাফিতি আঁকা ফারাবি বলেন, ‘‘আমার কাছে পেলে হলেন ফুটবল ইতিহাসের সেরা একজন। তিনটি বিশ্বকাপ জয়ে (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০) তার অবদান অনন্য—সেই শ্রদ্ধাস্বরূপই আমি এই কাজটি করেছি।’’ তিনি জানালেন, প্রায় তিন দিন তিন রাত ধরে কাজ করে গ্রাফিতিটি শেষ করেছেন। ‘‘প্রথম দিন স্কেচ করতেই কেটে গেছে, পরের দুই দিন রঙ করেছি। এখানে প্রায় ১৮ রঙ ব্যবহার করেছি। ক্লাস শেষ করে বিকেল থেকে গভীররাত পর্যন্ত কাজ করেছি,’’ ফারাবি বললেন।

ম্যারাডোনার গ্রাফিতি অঙ্কনকারী রেজওয়ানুল হক শান্ত বলেন, ‘‘প্রতি চার বছরে বিশ্বকাপ এলে ক্যাম্পাসে উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। সেই আনন্দই আরও বড় করতে আমরা এই গ্রাফিতির উদ্যোগ নিয়েছি।’’ তিনি জানান, প্রায় দুই দিন সময় লেগেছে গ্রাফিতিটি আঁকতে এবং কিছু জুনিয়র শিক্ষার্থীর সহায়তাও পেয়েছেন। গ্রাফিতির যাবতীয় খরচ হয়েছে হলের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নে।

শুধু শাহজালাল হল নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হল, সোহরাওয়ার্দী হল ও ঈশা খাঁ হলের দেয়ালগুলোতেও শিক্ষার্থীরা বিশ্বকাপের রঙ ছড়িয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের মেসি-নেইমারের মাঝেও পেলে ও ম্যারাডোনার এই দুটি গ্রাফিতি ক্যাম্পাসে নস্টালজিক আবহ তৈরি করেছে।

আঁকার পর থেকেই শাহজালাল হলে শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতিগুলো দেখতে ভিড় করছেন, ছবি তুলছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা জানাচ্ছেন। ক্যাম্পাসে ফুটবল উৎসবের হাল এমনিভাবে ধরে রাখা যে, দেখেই মজা লাগে—এরকমই অনুভব কেরেছেন অনেকে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকা-মানবাধিকার লঙ্ঘন

বাকৃবির দেয়ালে পেলে ও ম্যারাডোনার গ্রাফিতি

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসেও। দূরদেশের এই বড় মঞ্চকে ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনায় ভরা—তবে শুধু বর্তমান তারকা মেসি বা নেইমার নয়, ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার ছবি আঁকা হয়েই বিশ্বকাপের উত্সবকে ভিন্ন করে তুলেছে শিক্ষার্থীরা।

শাহজালাল হলের কমনরুমের দেয়ালে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের প্রায় দশ ফুট উচ্চতার গ্রাফিতি এঁকেছেন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ফারাবি। অন্যদিকে একই হলে আর্জেন্টিনা সমর্থক এবং ভেটেরিনারি অনুষদরের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক শান্ত প্রায় এগারো ফুট উচ্চতার ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছেন।

পেলের গ্রাফিতি আঁকা ফারাবি বলেন, ‘‘আমার কাছে পেলে হলেন ফুটবল ইতিহাসের সেরা একজন। তিনটি বিশ্বকাপ জয়ে (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০) তার অবদান অনন্য—সেই শ্রদ্ধাস্বরূপই আমি এই কাজটি করেছি।’’ তিনি জানালেন, প্রায় তিন দিন তিন রাত ধরে কাজ করে গ্রাফিতিটি শেষ করেছেন। ‘‘প্রথম দিন স্কেচ করতেই কেটে গেছে, পরের দুই দিন রঙ করেছি। এখানে প্রায় ১৮ রঙ ব্যবহার করেছি। ক্লাস শেষ করে বিকেল থেকে গভীররাত পর্যন্ত কাজ করেছি,’’ ফারাবি বললেন।

ম্যারাডোনার গ্রাফিতি অঙ্কনকারী রেজওয়ানুল হক শান্ত বলেন, ‘‘প্রতি চার বছরে বিশ্বকাপ এলে ক্যাম্পাসে উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। সেই আনন্দই আরও বড় করতে আমরা এই গ্রাফিতির উদ্যোগ নিয়েছি।’’ তিনি জানান, প্রায় দুই দিন সময় লেগেছে গ্রাফিতিটি আঁকতে এবং কিছু জুনিয়র শিক্ষার্থীর সহায়তাও পেয়েছেন। গ্রাফিতির যাবতীয় খরচ হয়েছে হলের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নে।

শুধু শাহজালাল হল নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হল, সোহরাওয়ার্দী হল ও ঈশা খাঁ হলের দেয়ালগুলোতেও শিক্ষার্থীরা বিশ্বকাপের রঙ ছড়িয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের মেসি-নেইমারের মাঝেও পেলে ও ম্যারাডোনার এই দুটি গ্রাফিতি ক্যাম্পাসে নস্টালজিক আবহ তৈরি করেছে।

আঁকার পর থেকেই শাহজালাল হলে শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতিগুলো দেখতে ভিড় করছেন, ছবি তুলছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা জানাচ্ছেন। ক্যাম্পাসে ফুটবল উৎসবের হাল এমনিভাবে ধরে রাখা যে, দেখেই মজা লাগে—এরকমই অনুভব কেরেছেন অনেকে।