সাম্প্রতিক সময়ে ৫৭তম বিজিবি — বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ও কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিরা মহাপরিচালকের ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বিজিবি এসব দাবি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং সম্মেলনের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেছে।
বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল শুধু বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই নয়—এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরাও সেখানে ছিলেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ৩১টি এজেন্ডা এবং ভারতের পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
সম্মেলনে আলোচ্য বিষয় ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের প্রামাণিক দলিল হলো “জয়েন্ট রেকর্ড অফ ডিসকাশনস (JRD)” — যা দুই দেশের বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালকদ্বয় স্বাক্ষর করেছেন। JRD পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে বাংলাদেশ যে সকল উদ্বেগ উত্থাপন করেছে—সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম—এসবই আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচিত ও নথিবদ্ধ রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান জেআরডিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং কোনো ধরনের আপস বা নমনীয়তার ইঙ্গিত নেই। ১২ জুন ২০২৬-এ বিজিবি যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তা এই জেআরডির ওপর নির্ভর করেই তৈরি করা হয়েছে।
কয়েকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি ও কিছু সংবাদমাধ্যম মহাপরিচালক ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতকে গোপন বা অস্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে। অথচ আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনে প্রচলিত একটি কূটনৈতিক রীতি। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনে ডিজি বিএসএফও বাংলাদেশের পালক সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের সাক্ষাৎ করেছিলেন। 이번 সাক্ষাতটিও ভারতে যাওয়ার পূর্বেই নির্ধারিত ও অনুমোদিত ছিল এবং সেখানে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছেন।
বিজিবি জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন দমন, কাঁটাতার স্থাপন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিহত করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাহিনীর নেতৃত্ব জনগণের আস্থার পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে হেয় করার চেষ্টা শুধু মনোবল ভাঙার উদ্দেশ্য বহন করে।
বিজিবি মনে করিয়ে দিয়েছে যে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জাতীয় স্বার্থে অপরিহার্য। মতামত জানার স্বাধীনতা থাকলেও তা অবশ্যই যাচাইকৃত তথ্য, প্রামাণিক দলিল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।
শেষে বিজিবি আবারও বলেছে যে তারা বর্তমান ও ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বজায় রেখে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ভুল তথ্য মোকাবিলায় প্রতিদিন প্রস্তুত থাকবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























